সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পশ্চিমবঙ্গেও পুরোহিত হত্যার ছক ছিল জেএমবির

jmbনিউজ ডেস্ক : গুলশানের রেস্তোরাঁর মতো পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাতেও বড়মাপের জঙ্গি হামলার ছক কষে ছিল জেএমবি। আর এ হামলার ষড়যন্ত্রের মূল মাথা ছিল বাংলাদেশের দুই শীর্ষ জঙ্গি নেতা সুলাইমান এবং মাওলানা ইউসুফ। সুলাইমানের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মালদহের কালিয়াচকে ২০১৪ সালে গোপন বৈঠকও করেছিল মুসা। আইসিসের এজেন্ট হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে গ্রেফতার হওয়া মসিউদ্দিন মিয়া ওরফে মুসাকে জেরা করে শনিবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা। ঈদের আগের দিন গ্রেফতার হওয়া মুসা এবং তার দুই সঙ্গীকে এখন কলকাতার ভবানীভবনে দফায় দফায় জেরা করছে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির গোয়েন্দারা। খুব শিগগিরই মুসাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যাবে ভারতীয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা এজেন্সি এনআইএ। পশ্চিমবঙ্গের ডিআইজি-সিআইডি (অপারেশন) দিলীপ আদক জানান, ‘মুসাকে জেরা করে আইএস এবং জামায়াত জঙ্গিদের অনেক নেতারই নাম উঠে এসেছে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মুসার।’ গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ‘দিন দশেকের মধ্যেই বীরভূমের এক খুবই পরিচিত মন্দিরের বৃদ্ধ প্রধান পুরোহিত এবং তার স্ত্রীকে গলা কেটে খুনের ছক করেছিল মুসারা। সে কারণেই আপ বিশ্বভারতী প্যাসেঞ্জার ধরার আগে কলকাতার ধর্মতলায় এসে একটি ১৩ ইঞ্চির ভোজালি কিনেছিল মুসা। তারই মাঝে মেটিয়াবুরুজে গিয়ে আরও এক আইএস সদস্যের সঙ্গে সে দেখা করে এসেছিল।’

বীরভূমের শান্তিনিকেতন লাগোয়া লাভপুরের বাসিন্দা মুসা বেশ কিছুদিন তামিলনাড়ুতে অবস্থান করে ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কোনো বড়মাপের হামলা করার জন্যই সে তামিলনাড়ু থেকে বীরভূমের লাভপুরে এসেছিল। এই হামলায় তাকে সহযোগিতা করার কথা ছিল খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডের অন্যতম পলাতক জেএমবি জঙ্গি কদর গাজীর। লাভপুরে এসেই নিমড়া গ্রামে কদরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করার কথা ছিল মুসার। জেএমবি নেতা কদর গাজী লাভপুরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি গোপন ডেরায় থাকত। কিন্তু টানা থাকত না সে। খুব বেশি হলে দু’তিন দিন। সেই সময়ে কদরের ডেরায় মুসার যাতায়াত ছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কদর কবে লাভপুরে থাকত তা জেনেই চেন্নাই থেকে লাভপুরে আসত মুসা। যেমনটি এবার এসেছিল সে। রাস্তাতেই গ্রেফতার হয়ে যায়।

গ্রেফতার মুসা, সাদ্দাম হোসেন ওরফে কালো এবং শেখ আব্বাসউদ্দিন ওরফে আমিনকে ভবানীভবনে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে এমনই তথ্যই পেয়েছেন সিআইডির গোয়েন্দারা। পাশাপাশি মুসার তামিলানাড়ুর অন্নপূর্ণা অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায় সিআইডি। এই ফ্ল্যাট থেকে মুসার ব্যবহৃত ল্যাপটপ এবং একটি তলোয়ার উদ্ধার করা হয়। ইতিমধ্যে ভবানীভবনে এসে এনআইএ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাবাহিনীর সদস্যরা জেরা করেছেন। এই জেরায় বাংলাদেশের আরও এক জঙ্গি নেতা ‘বাংলার বাঘ-২’-এর নাম পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। কিন্তু কে সেই বাংলার বাঘ-২ তা এখনও জানতে পারেননি কলকাতার গোয়েন্দারা। তবে জঙ্গি নেতা কদর জেএমবির পশ্চিমবঙ্গ মডিউলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল।

গ্রামের লোকজনের দাবি, কদরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল মুসার। কারণ, খাগড়াগড়কাণ্ডের পর কদর বাংলাদেশে পালিয়ে গেলেও গত সাত-আট মাস ধরে তার বীরভূমের লাভপুরে যাতায়াত বেড়েছে।

বছরসাতেক আগে কলকাতাতেই থাকত মুসা। সে পড়াশোনা করত সুরেন্দ্রনাথ কলেজে। পড়ার কারণে কলকাতাতেই একটি মেস ভাড়া নিয়ে থাকত সে। তখন থেকেই জিহাদি মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে মুসা। তার সঙ্গে যোগাযোগ হয় জেএমবির জঙ্গি নেতাদের। বিশেষ করে গ্রামের জঙ্গি যুবক আমজাদ ও কদর গাজীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে মুসার। খাগড়াগড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িত আমজাদ ও কদর। জেরায় জানা গেছে, জিহাদির কারণেই মাঝপথেই পড়াশোনা বন্ধ করে দেয় মুসা। এরপর সে পরিবার নিয়ে চলে যায় তামিলনাড়ুতে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব জঙ্গি নেতার সঙ্গেই তার যোগাযোগ ছিল নিয়মিত। ‘জামাত-উল-মুজাহিদিন অব বাংলাদেশ’-এর শীর্ষ নেতা সুলাইমান। অন্যদিকে বাংলাদেশেরই ‘আনসার-উল-তৌহিদ’-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা মাওলানা ইউসুফ। তাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত মুসা। পাশাপাশি সিরিয়ার আইএস জঙ্গি নেতা সফি আরমারের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল তার। তাদের নির্দেশ মতোই এ রাজ্যে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বাড়াতে চেয়েছিল সে। সব সময় জেএমবি ও আইএস জঙ্গিদের সঙ্গে মুসা যোগাযোগ রাখত মোবাইল ও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে।

সীমান্তে কমান্ড্যান্ট ফোর্স মোতায়েন করেছে ভারত : বেনাপোল প্রতিনিধি জানান, ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে স্মরণকালের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদর দফতরে থাকা কমান্ড্যান্ট ফোর্সকে সীমান্ত অঞ্চলে পাহারায় বসানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এ ফোর্স দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ উত্তরাঞ্চলের ২ হাজার ২২৬ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। সেই সঙ্গে ভারতীয় পুলিশও নজরদারি বাড়াতে সেসব সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই সেখানে বিএসএফের পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার বসাতে চলছে। নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।

জঙ্গি তৎপরতা মোকাবেলায় উত্তর চব্বিশ পরগনার সীমান্তলাগোয়া স্কুলগুলোয় যৌথ প্রচারের ব্যবস্থা করছে বিএসএফ ও পুলিশ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ সম্পর্কে কিছুই জানে না।
আসামে বাংলাদেশী পাঁচ জঙ্গি : গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পরপরই ভারতের আসামে অনুপ্রবেশ করে বাংলাদেশী বেশ কয়েকজন জঙ্গি। আর সে কারণেই সরকার রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশের বেশকিছু যুবক অনেকদিন ধরেই নিখোঁজ রয়েছে। ওই নিখোঁজ যুবকদের মধ্যে ১০ জনের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ভারতেই রয়েছে। আর সেজন্য ভারতের কাছে সাহায্যও চেয়েছে সরকার। আসাম পুলিশের উপপ্রধান পল্লব ভট্টাচার্য স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে, পাঁচ বাংলাদেশী জঙ্গি এ রাজ্যে প্রবেশ করেছে। আর সে কারণেই রাজ্যজুড়ে সতর্কতা জরি করা হয়েছে। অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশী জঙ্গিরা প্রবেশ করেছে কিনা, সে বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত নই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, মেঘালয়ের দক্ষিণ গাড়ো পাহাড় সীমান্ত দিয়ে জঙ্গিরা আসামে প্রবেশ করেছে। এর জন্য আসাম বিমানবন্দর, কামাক্ষা মন্দির ও রেল স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।-আমাদের সময.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: