সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যা দেখেছিলেন আর্টিজানের সবুজ

photo-1468068070নিউজ ডেস্ক : এটা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে খারাপ মুহূর্ত। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারির ৩২ বছর বয়সী সহকারী বাবুর্চি সবুজ হোসেন সেদিন ভাবতেও পারেননি যে বেঁচে ফিরতে পারবেন পরিবারের সদস্যদের কাছে। পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ, এক কথায় ভয়ঙ্কর।

গত ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজানে হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে সবুজ জানান, সেদিন রাতে নিহত নয় ইতালীয় নাগরিকের মধ্যে আটজনই এক টেবিলে বসে খাওয়া দাওয়া করছিলেন।

শুক্রবার বিকেলে ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সবুজ হোসেন বলেন, ‘আমি প্রথমে ভেবেছিলাম অতিথিরা বুঝি নিজেদের মধ্যে মারামারি করছেন। ঘটনাটি দেখতে কৌতূহলবশত আমি সামনে এগিয়ে যাই। আমি দুজন বন্দুকধারীকে দেখতে পাই। এদের একজন দাঁড়িয়েছিল রেস্তোরাঁর প্রধান ফটকের সামনে এবং অন্যজন হলরুমে।’

বন্দুকধারীদের একজন ইতালীয় অতিথিদের টেবিল লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। সবুজ বলেন, ‘ইতালীয় অতিথিদের খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। যখন গুলি শুরু হয়, তখন তারা টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। আমরা চিৎকার ও গুলির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।’

মাত্র ১৮ মাস আগে হলি আর্টিজান বেকারিতে নিয়োগ পান সবুজ। তিনি জানান, জাপানের নাগরিকরা রেস্তোরাঁর হলরুমের বাইরে বসেছিলেন।

সবুজ বলেন, ‘রেস্তোরাঁর লেক সাইড করিডরের দিকে বসেছিলেন জাপানি অতিথিরা। অনেক বিদেশিই ওই স্থানে বসতে পছন্দ করতেন।’ তবে ওই জাপানিদের কীভাবে হত্যা করা হয় তা দেখতে পাননি বলে জানান সবুজ। কারণ তিনি ছিলেন রান্নাঘরে। সেখান থেকে বাইরের দৃশ্য দেখা সম্ভব নয়।

হলি আর্টিজানের ইতালি ও আর্জেন্টিনার দুই বিদেশি বাবুর্চি বা শেফের তত্ত্বাবধানেই কাজ করতেন সহকারী বাবুর্চি সবুজ। যখন রেস্তোরাঁর ইতালীয় অতিথিদের ওপর হামলা চালানো হয়, তখনই পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান ইতালীয় শেফ। তাঁকে অনুসরণ করেন আর্জেন্টিনার শেফও।

সবুজ বলেন, ‘কর্মীদের জন্য তৈরি রান্নাঘর লাগোয়া বাথরুমে আমরা ১০ জন আশ্রয় নিই। আমরা বাইরে গুলি ও বোমার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম।’

সহকারী এই বাবুর্চি আরো জানান, হামলাকারীরা রেস্তোরাঁর এক ওয়েটারকে বন্দুকের মুখে পথ দেখিয়ে দিতে বাধ্য করেছিল। রাত ১২টার কিছু আগে হামলাকারীরা বাইরে থেকে বাথরুমের দরজা বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে দেয়। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ২টার দিকে আবার আসে তারা। বাইরে থেকে চিৎকার করে বলে, ‘ভেতরে যারা বাংলাদেশি আছো বেরিয়ে এসো, না হলে আমরা তোমাদের ওপর গ্রেনেড ছুড়ে মারব।’

এরপর তাঁদের ১০ জনকে পর্যবেক্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এরপর তাদের আবারও বাথরুমের ভেতরে দরজা আটকে বসে থাকার নির্দেশ দেয়।

সবুজ বলেন, ‘একসময় বাথরুমে আমাদের অক্সিজেন সংকট দেখা দিতে থাকে। আমরা নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমরা চিৎকার করে বলতে থাকি যে দয়া করে আমাদের বের হতে দাও। আমরা মারা যাচ্ছি। কিন্তু তারা কোনো উত্তর দেয়নি।’

এসবের মধ্য দিয়ে সকাল হয়ে যায়। ভোর ৬টার দিকে বাথরুমের ভেতরে থাকা ১০ বন্দি শাওয়ার পাইপ ভেঙে ফেলেন। দরজা ভাঙার উদ্দেশে এই কাজ করেন তাঁরা। এ সময় সেই ওয়েটারটি ফিরে আসে যে বন্দুকের মুখে সন্ত্রাসীদের পথ চিনিয়ে দিয়েছিল। সে এসে দরজা খুলে দেয়। সবুজ বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ছয়জন ওই ওয়েটারের সঙ্গে যায়। এ ছাড়া আমরা চারজন সিঁড়ি বেয়ে ছাদে চলে আসি। পরে রেস্তোরাঁসংলগ্ন আরেকটি ভবনে লাফিয়ে পালিয়ে যাই।’

সবুজ আরো জানান, ওই ভবন থেকে তাদের উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘বিকেল ৫টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’

নিজের ৩০ মাস বয়সী ছেলেকে আদর করতে করতে সবুজ বলেন, ‘আমি যেন একটা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।’

গত ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারীরা। হামলার পর রাতেই তারা ২০ জনকে হত্যা করে।

ওই দিন রাতে উদ্ধার অভিযানের সময় বন্দুকধারীদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরদিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় পাঁচ হামলাকারী। এ নিয়ে হামলার পর ২৮ জন নিহত হয়।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপাত্র আমাক হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স।-এনটিভি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: