সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নর্থ সাউথের শিক্ষার্থীরাই জঙ্গি হচ্ছে বেশি

345-550x309নিউজ ডেস্ক : ২০১২ সালে নিউ ইয়র্কে নাশকতার চেষ্টার ঘটনায় আটক নাফিস থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার ঈদগাহ ময়দানে পুলিশের উপর হামলা চালানো আবীরসহ জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় যুক্ত ১১জনই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এসব শিক্ষার্থী ছাড়া আরও অনেক শিক্ষার্থী জঙ্গি কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত আছে বলে পূর্বের মতো এবারও আলোচনায় উঠে এসেছে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলার পর ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম। কিন্তু শুধুমাত্র নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জঙ্গি হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটছে কেন- এ প্রশ্নসহ আরও নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা।

সূত্র মতে- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জঙ্গি সম্পৃক্ততার সঙ্গে যুক্ত- এমন তথ্য-প্রমাণ মিলেছে আরও আগ থেকেই। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে কারা উপর থেকে কলকাঠি নেড়ে শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কব্জায় এনে জঙ্গি বানাচ্ছে- সেটাই জোর দিয়ে খোঁজা হচ্ছে।

সর্বশেষ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার ঈদের জামায়াতে হামলার চেষ্টায় নিহত আবীর রহমান নর্থ সাউথের ছাত্র বলে নিশ্চিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুলশান হামলায় নিহত নিবরাস ইসলাম নর্থ সাউথের ছাত্র বলেও প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হাসনাত করিমও নর্থসাউথের অব্যাহতিপ্রাপ্ত শিক্ষক।

এসব ছাড়াও ২০১২ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্ক শহরের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবনটি বোমা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টার দায়ে আটক বাংলাদেশি যুবক কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস দেশে থাকাকালীন সময়ে নর্থ সাউথের ছাত্র ছিলেন।

একই বছর ইসলামভিত্তিক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীরের কার্যক্রম এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত করার অভিযোগে এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষক হাসনাত করিমসহ ৫ জনকে চাকুরিচ্যুত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গুলশানের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাসনাত করিমকে আটক করার পর বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে গোয়েন্দারা তথ্য পেয়েছেন- বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যসহ আরও কয়েকজন শিক্ষক সেখানে জঙ্গিবাদে যুক্ত হতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করছেন। চাকুরিচ্যুত বাকি চারজনকে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সন্দেহ বেড়েছে আরও বেশি। এখন তাদেরকে খোঁজা হচ্ছে।

২০১৩ সালে স্থপতি ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়ার দায়ে গ্রেফতার হওয়া সাত জনই ছিল নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। তারা হচ্ছেন- রেদোয়ানুল আজাদ ওরফে রানা, মো. ফয়সাল বিন নাঈম ওরফে দীপ, মাকসুদুল হাসান ওরফে অনিক, মো. এহসান রেজা ওরফে রুম্মান, নাঈম সিকদার ওরফে ইরাদ, নাফিস ইমতিয়াজ, সাদমান ইয়াছির মাহমুদ। চার্জশিটে তাদের নাম রয়েছে। তারা সবাই নর্থ সাউথের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ছাত্র।

ব্লগার রাজীবের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে বলেছিল- ক্যাম্পাসে নজরদারি বাড়ানো হবে। কিন্তু এরপরও সেখানে জঙ্গি রিক্রুটমেন্টের কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। তবে কী করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন? জানতে চাইলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে কয়েকবার যোগাযোগ করে সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টি কয়েকজন শিক্ষার্থী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, গুলশানের ঘটনার পর থেকে রেজিস্ট্রার অফিসের টিএন্ডটি ফোন থেকে সাড়া পাওয়া যায় না।

২০১৩ সালে আল কায়দার বাংলাদেশ নেটওয়ার্কের প্রধান ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবি আইয়ের তালিকাভুক্ত জঙ্গি মুফতি শায়খ জসীম উদ্দীন রাহমানীর কাছের অনুসারী হিসেবে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ছাত্র (বিবিএ) সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।-আমাদের সময.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: