সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই ফাঁকা হয়ে গেল সিলেট নগরী

daily sylhe 44জীবন পাল ::
সকাল থেকে গভীর রাত, এমনকি ভোর বেলার আলো পৌঁছা পর্যন্ত ছিল মনুষের কোলাহল আর যানযটের সংমিশ্রণে ব্যস্ততম এক নগরী সিলেট। নগরীর প্রধান প্রধান রাস্তার ফুটপাতগুলোতে ছিল উপচে পড়া মানুষদের দখলে। যার কারনে ফুটপাত দিয়েও বাধ্য হয়েই অন্যদের গা ঘেষে একপাশ থেকে অন্যপাশে হেটে পথ চলতে হয়েছে। নগরীর নিরব অলিগলির চিত্রও ছিল প্রায় একই রকম । অথচ কয়েকঘন্টা অতিবাহিত হতেই পুরো নগরীর চিত্রটা পরিনত হয়ে গেল ভিন্ন এক রূপে। সিলেট নগরীর ব্যস্ততম সব রাস্তাগুলো হয়ে গেছে ফাঁকা। গভীর রাতেও যে নগরী জেগে থাকে সেই নগরী আজ মধ্য দুপুরেও যেন ঘুমিয়ে রয়েছে। চারদিকে একি নিস্তবধতা ! কয়েকঘন্টার ব্যবধানেই যেন কমে গেছে মানুষের আনাগোনা। নেই কারো ব্যস্ততা। নগরীর ব্যস্ততম বা প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার পয়েন্ট যেখানে এক মিনিট স্বস্থিতে দাড়িয়ে থাকা মুশকিল সেখানে আজ নিবিশেয় ছোটদের কয়েক ওভারের একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলা সম্ভব হতে পারে।

13617960_983247708439980_1941537919_nসরেজমিনে গিয়ে জিন্দাবাজার পয়েন্টে ক্লান্তিহীন ভাবে রিক্সার উপর বসে থাকা রিক্সা চালক আলিম এর সাথে সিলেটের ব্যস্ততম নগরীর এই নিরবতার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, আসলে ঈদের আগের ভোর রাত পর্যন্ত আমরা অনেক ব্যস্ত ছিলাম। কেননা তখন পর্যন্ত মানুষের কোলাহল ছিল। ঈদ উপলক্ষে সবাই এখন সিলেটের বাইরে চলে গেছে। যার কারনে নগরীটা এরকম ফাঁকা হয়ে গেছে।

কবে নাগাদ সিলেট নগরী আবার তার পুরনো ব্যস্ততম নগরীতে পরিণত হবে জানতে চাইলে সে জানাই, শুনলাম এইবার সবার ছুটি নাকি ১০-১১ দিন। এই লম্বা ছুটি শেষ করে সবাই আবার সিলেটে ফিরে আসলেই সিলেটের এই ফাঁকা রাস্তাগুলো আবার মানুষ ও যানযটে পরিপূর্ন হয়ে পড়বে।

13649470_983247558439995_376121918_nজিন্দাবাজার পয়েন্টে রিক্সা নিয়ে দাড়িয়ে থাকা আলিমের গ্রামের বাড়ি রংপুর। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে সে সিলেটে রিক্সা চালিয়ে নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে। ঈদের আগের দিন সকাল থেকে ভোর রাত পর্যন্ত সে রিক্সা চালিয়ে প্রায় ১৩০০ টাকার মত আয় করেছে। ঈদের ৫ দিন রিক্সা মালিক তাদেরকে রিক্সা ফ্রি দিয়ে থাকেন। মানে এই ৫ দিন রিক্সা ড্রাইভারদের রিক্ষা ভাড়া বাবদ ৮০ টাকা দিতে হবেনা। সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে আলিম এবকার ঈদে দেশের বাড়ি রংপুর না গিয়ে বাড়তি আয়ের সুবিধার্থে সিলেটেই থেকে গেছেন। ঈদের এই ৫ দিনের বাড়তি আয়সহ জমানো টাকা নিয়ে দেশের বাড়ি রংপুরে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করে সে । তবে তার মতে, সবাই ঈদের ছুটিতে চলে যাওয়ায় যাত্রী কম। তার মন্তব্য, সিলেটের বাইরের মানুষরাই সবচেয়ে বেশি রিক্সা চড়ে থাকেন। আর যারা সিলেটের লোকাল, তারা তো বাসা থেকে শহর পর্যন্ত । এর বেশি  রিক্সা চড়তে  যেন তারা নারাজ। যার কারনে অন্য সময় যেখানে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত  তার আয় হয় ৫০০-৬০০ টাকা সেখানে এখন আয় হয় ১৫০-২০০ টাকা।

13624720_983247745106643_1635853665_nঈদের ছুটিতে নগরীর দোকানপাট সহ সব শপিং কমপ্লেক্স গুলো বন্ধ। বন্ধ রয়েছে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সবাই ছুটি কাটানোতে ব্যস্ত থাকলেও কিছু মানুষের ছুটি থাকেনা ঈদের মত বড় ঊৎসবেও। সেরকম ঈদে ছুটি না কাটিয়ে কর্তব্যকর্মে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন মো: আল-আমিন। যার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জে।

সিলেটের ব্লো-ওয়াটার শপিং সিটির ইস্টিকুটুম রেস্টুরেন্টে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মো: আল-আমিন জানান, কিছু কিছু চাকুরী আছে বাড়ি ঘর ত্যাগ করতে হয়। আর আমরা তো আমাদের পরিবারের সদস্যদের সুখে রাখার জন্যই বিভিন্ন জন বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। পরিবারের সদস্যদের সুখের জন্য কিছু আনন্দ তো ত্যাগ করতেই হয়।

বাড়িতে সবার সাথে কাটানো ঈদ উৎসব আর এভাবে ঈদের মধ্যেও ডিউটিতে থেকে ঈদ কাটানোর পার্থক্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, বাড়িতে একসাথে সবার সাথে মিলে ঈদ কাটানোর মজাটায় আলাদা। কেননা সেখানে স্ত্রী-সন্তান সহ পরিবারের সকল সদস্য পাশে থাকে। আর একা কাটানো ঈদ বলতে, সকাল ৬ টায় ডিউটি শেষ করে বাসায় গিয়ে গোসল করে সিলেটের ঊল্লেখ্যযোগ্য ঈদের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করে নামাজ আদায় করেছি। এটাকেই ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ মনে করছি।  তাছাড়া ঈদের সময় রাস্তাঘাট ও গাড়ির যাতায়াত করার কথা ভাবলে মনে হয় এভাবে ঈদ কাটানোটাই উত্তম।

এদিকে সিলেটের প্রানকেন্দ্র জিন্দাবাজার পয়েন্টে যেখানে পুলিশের ট্রাফিকসহ নিরাপত্তাকর্মীদের জটলার দৃশ্যটা যেমন ছিল ব্যস্ততম এই পয়েন্টের নজরকাড়ার মত একটি দৃশ্যবিশেষ তেমনি  আজকের দুপুরের দিকে ফাঁকা হয়ে যাওয়া নিরব এই ব্যস্ততম পয়েন্টের ট্রাফিকসহ পুলিশের নিরাপত্তাকর্মীদের অনুপস্থিতিটাও ছিল নজর কাড়ার মতই।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: