সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৩২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীরপাড়ে বালিপাথর চুরির ভিডিও চিত্র ধারন গিয়ে ফটো সংবাদকর্মী আহত

f7373373-4d77-4036-a5e5-67e3c1fe3e17আল-হেলাল,সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা ::

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে নদীর পাড়ে মওজুতকৃত বালিপাথর চুরি করার ছবি ক্যামেরাবন্দী করতে গিয়ে মোশাররফ বাহিনীর হাতে বাউল জিয়াউর রহমান (৩৩) নামের এক ফটো সংবাদদাতা গুরুতর আহত হয়েছেন। ৫ জুলাই মঙ্গলবার বেলা ১টায় উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড়স্থ ঘাগটিয়া গোদারাঘাটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ২৫ জুন শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় উপজেলার ঘাগটিয়া টেকেরগাঁও চকবাজারে শফিকুল মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে প্রতিপক্ষ মজিবুর রহমান ও তার ভাই কালা মিয়াকে গালিগালাজসহ খুন করার হুমকী দেন স্থানীয় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী মোশাররফ। এই ঘটনার ঘন্টাখানেক পরে মোশাররফের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা মুজিবুর রহমানের বাড়ি ঘেরাও করে মজিবুর রহমান,কালা মিয়া ও ফরিদ আলী এবং মজিবুর রহমানের স্ত্রী তেরাফজুন বেগম,কন্যা তানিয়া বেগমসহ ৯ জনকে বেদম মারপিঠক্রমে গুরুতর আহত করে। আহত করার একপর্যায়ে লুঠতরাজ করে নেয় তাদের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। পরে সন্ত্রাসীরা মোটর সাইকেলের ব্যবহৃত পেট্রোলের তেল বসতঘরের বেড়ায় ঢেলে ও ছিটিয়ে অগ্নি সংযোগ করে ৩টি টিনের বসত ঘরের টিনের বেড়া,কাপড় চোপড়, ধান চাল,বিদ্যুতের মিটার ও আসবাবপত্র ইত্যাদি পুড়ে ছাইভস্ম করে দেয়। এতে ক্ষতিসাধিত হয় অনুমান ৬ লক্ষ টাকা। সন্ত্রাসীরা তেরাফজুন বেগমের ভাসুর প্রতিবেশী ফরিদ আলী ও কালা মিয়ার ঘরের টিনের বেড়া ভাংচুর করে ৩৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। ঘটনার পর আহত ৩জন স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন। সন্ত্রাসীরা জখমীদেরকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার রাস্তাও বন্ধ করাসহ নানা প্রতিবন্ধকতা আরোপ করে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী মুজিবুর রহমানের পরিবারের পক্ষে তার স্ত্রী তেরাফজুন বেগম ২৯ জুন বুধবার বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ১৪৩/৪৪৮/৩৮২/৪৩৬/৩২৩/৫০৬ (২) ধারায় আমলগ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত সিআর ৮৯/২০১৬ নং মামলাটি এফআইআরক্রমে তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য বিজ্ঞ আদালতের বিচারক তাহিরপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় ঘটনার দিন ২৬ জুন রবিবার সকাল ৬টা হতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত স্থানীয় টেকেরগাও আদর্শ গ্রামের ময়না মিয়ার বাড়ির পূর্ব দিকে নদীর পাড়ে ও আলমগীর মিয়ার বাড়ির নিকটে রাখা ৪টি বালিবাহী নৌকা,৩টি বারকী নৌকা,৪টি গোড়া,১টি ইঞ্জিন চালিত কাঠের নৌকা,৪২ ইঞ্চি কুমা কাঠ,১টি সাইফিন ইঞ্জিন,আলমগীর মিয়ার ১টি গরু,১টি দুধালো গাভী  ও ৬ হাজার ফুট পাথর লুঠতরাজ করে নেয় মোশাররফ ও তার লাঠিয়াল বাহিনী। উক্ত লুঠতরাজের ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের পক্ষে ঘাগটিয়া টেকেরগাও গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র ফরিদ আলী বাদী হয়ে ৩০ জুন বৃহস্পতিবার ১৭ জনের বিরুদ্ধে আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। দুটি মামলায় একই গ্রামের মৃত ছাদেক তালুকদারের পুত্র মোশাররফ তালুকদার,মোশাহিদ তালুকদার, মোশারফ তালুকদারের পুত্র রাজু তালুকদার,নুরুজ আলীর পুত্র কাহার মিয়া,মৃত কাচা মিয়ার পুত্র সুলজাহান মিয়া, শাহজাহান মিয়া,মৃত জয়নাল আবেদীনের পুত্র আলীমুদ্দিন,আলফাজ উদ্দিনের পুত্র সাজু,মৃত ফজল মিয়ার পুত্র মামুন,মৃত জোয়াদ আলীর পুত্র রজব আলী,মৃত আসকর আলীর পুত্র হবিবুল, মৃত শুকুর আলীর পুত্র সামুদ্দিন,ফাকনা মিয়ার পুত্র শিপলু মিয়া,অলি ছোবানের পুত্র নেহার মিয়া,রাজা মিয়ার পুত্র শাহানূর ও নূরুজ আলীর পুত্র কাহার,হাজী সাদেক আলীর পুত্র শাহিদ হোসেন ও নুরুজ আলীকে আসামী করা হয়। বিজ্ঞ আদালত দায়েরকৃত দ্বিতীয় মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২১ আগস্ট এর মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য স্থানীয় বাদাঘাট ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতে বাদীপক্ষে এডভোকেট নিরঞ্জন তালুকদার ও এডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান মামলা দুটি পরিচালনা করেন। কিন্তু তাহিরপুর থানা পুলিশ তেরাফজুন বেগমের দায়েরকৃত মামলাটি এফআইআর করেনি।
মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ প্রতিদিন অনলাইন ওয়েবপোর্টালের ক্যামেরাম্যান বাউল জিয়াউর রহমান সরজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে মোশাররফ ও তার ভাই মোশাহিদ এবং তাদের পরিবারভূক্ত সন্ত্রাসী নুরুজ আলীর পুত্র কাহার,ফাকনা মিয়ার পুত্র শিপলু,নাসির উদ্দিনের পুত্র গোলাম নূর,অলি ছোবানের পুত্র নেহার,তছ উদ্দিনের পুত্র রুপালীসহ প্রায় ২০ জনকে মুজিবুর রহমানের চোরাইকৃত স্টেক করা বালি প্রকাশ্য দিবালোকে ইঞ্জিন নৌকায় বুঝাই করে অন্যত্রে বিক্রয় করার ছবি ও ভিডিও ক্যামেরাবন্দী করেন। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্যামেরাম্যান জিয়াউর রহমানের উপর বাঁশের লাঠি ও কাঠের রুইল নিয়ে বর্বরোচিত হামলা করে তাকে আহত করার পাশাপাশি তার হাতে থাকা ১টি লাপ ভঁষষ যফ পবসবৎধ (মিনি ডিবি ক্যামেরা) ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ক্যামেরাম্যান জিয়াউর রহমানকে প্রথমে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সদরে স্থানীয় এক চিকিৎসকের তত্বাবধানে পরবর্তীতে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। সন্ত্রাসীরা জিয়াউর রহমানের হাতে থাকা ডিবি ক্যামেরা ছিনতাই করলেও বিকল্প উপায়ে রেকর্ডকৃত বালিপাথর চুরির ঘটনার ধারনকৃত ভিডিও চিত্রসমেত মোবাইল ফোনটি চুরি করতে পারেনি। এটি জিয়াউর রহমানের হাতে সংরক্ষিত আছে। অন্যদিকে ঘটনার ব্যাপারে মোশাররফ ও তার বাহিনীর চিহ্নিত সকল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে ক্যামেরাম্যান জিয়াউর রহমানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: