সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মালয়েশিয়ার মোনাশ বনাম ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

monas-550x384নিউজ ডেস্ক : গুলশানের রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পাঁচ জঙ্গির মধ্যে একজন নিরবাস ইসলাম মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাঁর ব্যাপারে দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে। গত সোমবার দেশটির ‘দ্য স্টার’ পত্রিকার এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে। গত ৩ বছর ধরে ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্রের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততা একাধিক এবং হত্যাকা-ে সরাসরি জড়িত থাকলেও তারা মুখে কুলুপ এটেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের প্রশ্ন। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি জঙ্গি উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখার সময় এখনই।

জানাগেছে, গত শুক্রবার গুলশানের রেস্তোরাঁয় জিম্মি উদ্ধার অভিযানে নিহত সন্দেহভাজন হামলাকারীর একজন নিরবাস ইসলাম। তিনি মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসের ছাত্র হলেও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাতেই অবস্থান করেছেন। গত সোমবার মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তারা জেনেছে ঢাকার রেস্তরায় সন্ত্রাসী হামলায় ঘটনায় অভিযুক্ত একজন বা একাধিক অপরাধী বিভিন্ন সময়ে মালয়েশিয়ায়  বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই গুরুতর ব্যাপারটি বিবেচনায় নিয়েছে। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় তারা তদন্ত করবে।’ মালয়েশিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র সুশীলা নাইর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এক ছুটির দিনে আমরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানতে পারি বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত অপরাধীদের মধ্যে দু-একজন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলেও পড়েছেন। এটা জানার পর আমরা সচেতন হয়ে উঠি।’

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুরে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে ব্লগার আহমেদ রাজিবকে কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় পুলিশ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম ও রেজওয়ানুল হককে গ্রেফতার করে পরবর্তী সময়ে তারা হত্যাকা-ের পরিকল্পনা ও সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে ফৌজাদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত করিম জড়িত সন্দেহে পুলিশ তাকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এছাড়া গত ৩ বছরে একাধিক হত্যা ও নাশকতামূলক তৎপরতার সাথে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একাধিক ছাত্র ও শিক্ষক জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে এসব ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপের নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। “নীরবতাই সম্মতির লক্ষন” তাদের এই মুখে কুলুপ আটার কারনে বিভিন্ন মহল থেকে দেশের নামকরা এই বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়ে সন্দেহ ও সংশয় দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাবেক আইজিপি মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী বলেন, ওই ইউনিভার্সিটির ব্যাপারে পত্র পত্রিকায় দেখছি। তাদের উচিত এ ব্যাপারে তদন্ত করে জঙ্গি কানেকশনে জড়িত বা সন্দেহভাজন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা। তিনি বলেন, শর্ষেতে ভুততো আছেই না থাকলে এমনটি হওয়ার কথা নয়। নর্থ সাউথ ছাড়াও একাধিক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততা পত্র পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছে। সরকারের উচিত এদেরকে নজরদারির আওতায় আনা। গোয়েন্দা তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা। তিনি বলেন, এক সময় শুধু মাদ্রাসার ছাত্র যেখানে দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা পড়াশুনা করে। তখন জঙ্গিরা তাদের মগজ ধোলাই করে দলে সম্পৃক্ত করতো। আর এখন -যেখানে বিত্তবানদের সন্তানরা পড়শুনা করে। সে সব প্রতিষ্ঠানে তারা আদিপত্য বিস্তার করছে।  কোনো হেলাফেলা না করে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত।

আইজিপি একেএম শহীদুল হক বলেন, এখন আর ছাড়াছাড়ি নয়। এত বড় ঘটনার পর আমরা বসে থাকবো না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যাল হোক আর যাই হোক না কেন। জঙ্গিবাদের জড়িত ও সন্দেহভাজনা পার পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। জঙ্গি সম্পৃক্ততায় যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এসেছে আমরা খতিয়ে দেখছি এগুলোইক শিক্ষার আড়ালে জঙ্গি উৎপাদনে কারখানায় পরিণত হয়েছে কিনা।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: