সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হৃদয়ঘটিত টানাপড়েনে ছিল খুনি নিব্রাস!

photo-1467737463নিউজ ডেস্ক : গুলশান হত্যাকাণ্ডের আলোচিত খুনি নিব্রাস ইসলাম অনেক দিন ধরে হতাশা ও বিষণ্ণতায় ভুগছিল। তার টুইটার অ্যাকাউন্টে পাওয়া কিছু টুইট বিশ্লেষণ করে এমন ধারণার কথা জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, হৃদয়ঘটিত কোনো টানাপড়েন থেকে সে হতাশায় ভুগছিল বলে ধারণা করা যায়। অথবা কোনো বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন অথবা প্রেমে ব্যর্থতায়ও এমন বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে।

সম্ভবত হতাশা থেকে হঠাৎ করে জীবনবিমুখ হয়ে ভুল পথে পা রাখে নিব্রাস ইসলাম। আর এই হতাশাকেই ষোল আনা কাজে লাগিয়ে থাকতে পারে আইএস, হিজবুত তাহরীর বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন।1467736221-Nibras-00

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস ইসলামী জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্য বাড়ানোর কৌশল সম্পর্কে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করে। সেখানে সংগঠনগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে- হতাশা, দুর্দশাগ্রস্ত, জীবনবিমুখ এবং ধর্ম সম্পর্কে স্বল্প জ্ঞানসম্পন্ন তরুণ-তরুণীরাই আইএসের মতো  জঙ্গি সংগঠনগুলোর মূল লক্ষ্য।

নিব্রাসের টুইটার অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, ২০১৪ সালের অক্টোবরে টুইটারে অ্যাকাউন্ট খুলে সে। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমটিতে সক্রিয় ছিল। এই সময়ে করা কয়েকটি টুইটে তাঁর অভিমান, হতাশা ও অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।

অন্যদিকে ওই সময় থেকে নিব্রাস জঙ্গি সংগঠন আইএসের ভারতীয় একনিষ্ঠ সমর্থক মেহদি মাসরুর বিশ্বাস (টুইটারে নাম @ShamiWitness) এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পলাতক ব্রিটিশ নাগরিক আনজেম চৌধুরীকে অনুসরণ করতে থাকেন।

1467736277-Nibras-03সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, ভারতে আইএসের সংগঠক হিসেবে পরিচিত মেহেদি মাসরুর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের আইএসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায়, নানা যুক্তির মাধ্যমে তাদের উদ্বুদ্ধ করে। এমনকি আগ্রহীরা কীভাবে সীমান্ত পার হয়ে আইএসে যোগ দিতে পারে সেই পথও বাতলে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পলাতক আনজেম চৌধুরীও একইভাবে তরুণ-তরুণীদেরকে আইএসে যোগ দেওয়ার দাওয়াত দিয়ে থাকে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা । সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার কারাভোগের পর সে এখন পলাতক রয়েছে।

নিব্রাসের টুইটার অ্যাকাউন্টে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর নিব্রাস একটি টুইট বার্তায় লিখে, ‘আমি তোমাকে সবচেয়ে ভালো জানি। একদিন সেটি তুমি উপলব্ধি করবে।’ (I do know you best. One day you will realised.)

1467736258-Nibras-02এর দুদিন পর নিব্রাস আরেকটি টুইটে লিখে, ‘আমাকে তোমার আর প্রয়োজন নেই। সুখে থেক তার সঙ্গে। সবাই আমার চেয়ে অনেক ভালো। আমাকে কোথায় পাবে তা তুমি জানো।’ (You don’t need me anymore. Be happy with him. Everyone is better then me. You know where to find me.)।

একই দিনে আরেকটি টুইটে নিব্রাস লিখে, ‘আমি চিরদিন তোমার জন্য এখানে আছি। যখনই আমাকে তোমার প্রয়োজন পড়বে। আমি শুধু একটা ফোন কল দূরত্বে আছি। কিন্তু, মনে হচ্ছে তুমি আমার জায়গাটা অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছ। তোমাকে আমি দ্বিধাগ্রস্ত দেখতে চাই না।’ (I am always there for you. When you need me. I m just a call away. But it seems you replaced me. Don’t want you to be confused anymore)।

একইদিনে তৃতীয় টুইটে নিব্রাস লিখে, ‘কিন্তু,তোমার কাছ থেকে কিছু দিনের জন্য দূরে থাকাই ভালো হবে, যাতে তুমি হয়তো বুঝতে পার, আসলে তুমি কী চাও।’ (But It will be good if I away from You for a while. So that you can understand what you really want)1467736239-Nibras-01

যাকে নিয়ে নির্বাসের এই আকুতি ছিল সেই মানুষটির কোনো সাড়া পেয়েছিল কি না সেটা আর জানা যায়নি। সবশেষে নিব্রাসের খোঁজ মেলে গত শনিবার রাতে সাইট ইন্টালিজেন্টসের পেইজে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি প্রকাশের পর।

তার আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে খুনি নিব্রাসসহ আরো পাঁচ সন্ত্রাসীর হাতের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ যায় ২০ জনের। গুলশান ২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের এই রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনায় ডিবির সহকারী (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন নিহত হন।

শনিবার সকালে রেস্টুরেন্টটিতে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হলেও আর্টিজানের মালিকের দাবি, ছয়জনের একজন সাইফুল চৌধুরী। তিনি আর্টিজানের কুক ছিলেন। এরইমধ্যে বাকি পাঁচ হামলাকারীর পরিচয় প্রকাশিত হয়েছে। তারা হলো- নিব্রাস ইসলাম, রোহান ইমতিয়াজ, মীর সামিহ মোবাশ্বির, খায়রুল ইসলাম পায়েল এবং শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল। আত্মীয় ও পরিচিতজনরা ছবি দেখে তাদের শনাক্ত করে।-এনটিভি

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: