সর্বশেষ আপডেট : ২৮ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে পারে জাইকা : সাত নাগরিকের মৃত্যুতে জাপান ক্ষুব্ধ

ডেইলি সিলেট ডেস্ক :: গুলশান ট্রাজেডিতে ৭ জাপানি নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। বর্বরোচিত এ সন্ত্রাসী হামলাকে ‘ক্ষমার অযোগ্য সন্ত্রাস’ বলে বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। আবের এ বক্তব্যের পর বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার আয়োজন শুরু করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি- জাইকা। JICA-logo

এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের উন্নয়নে কার্যরত সব জাপানি দাতাসংস্থাগুলোও প্রত্যাহারের গুঞ্জন চলছে টোকিওতে। বাংলাদেশ বিমুখ এসব পদক্ষেপে জাপানের গার্মেন্ট কোম্পানিগুলোও একাত্মতা ঘোষণা করেছে। দেশটির ফাস্ট রিটেইলিং গ্রুপের পোশাক বিপণন প্রতিষ্ঠান ইউনিকলো ইতিমধ্যেই তাদের ঢাকা সফর বাতিল করেছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশে অবস্থিত কর্মকর্তাদের পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিকেক, জাপান টাইমস ও মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সোমবারের প্রতিবেদন বাংলাদেশ থেকে জাপানের মুখ ফিরিয়ে নেয়ার এসব প্রাথমিক পদক্ষেপের খবর জানানো হয়েছে। শুক্রবার গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজানে হামলায় ৭ জাপানির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন জাপানিরা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেটিই আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

রোববার (৩ জুলাই) শিনজো আবে বলেন, ‘জাইকা কর্মীদের হত্যা ক্ষমার অযোগ্য। এ ঘটনা গভীর বেদনাদায়ক। নিহতরা কি দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন, তা ভাবলেও আমি নির্বাক হয়ে যাই। এটা একটি ক্ষমার অযোগ্য সন্ত্রাস।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এমন সন্ত্রাসের শক্ত জবাব দিতে হবে।’ জাইকার এক মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক সময়ের হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাংলাদেশ থেকে সাহায্য সংস্থাগুলো প্রত্যাহারের চিন্তা করছেন।

শুক্রবার রাতে জঙ্গিদের হামলায় নিহত ৭ জাপানি নাগরিকের মধ্যে ছয় জনই মেট্রোরেল প্রকল্পের সমীক্ষার কাজে ঢাকায় এসেছিলেন। তারা টোকিওভিত্তিক ওরিয়েন্টাল কনসালটেন্ট গ্লোবাল কোম্পানি এবং কাতাহিরা অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্টারন্যাশনালের হয়ে কাজ করছিলেন। জাইকার প্রেসিডেন্ট শিনিসি কিয়াটোকা বলেন, গত অক্টোবরে দেশের উত্তরাঞ্চলে এক জাপানি নাগরিক নিহত হওয়ার পরই বাংলাদেশকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।

গুলশান হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাত জন জাপানি। দু’জন নারী ও পাঁচ জন পুরুষ। তারা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)-তে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, মেট্রোরেল নির্মাণের কাজের সঙ্গে তারা জড়িত ছিলেন। জাপানের মন্ত্রিপরিষদের মুখ্য সচিব ইয়োশিহিদে সুগা জানিয়েছেন, নিহত জাপানিদের ছবি ও তাদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্রের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংকট জাপানি ব্যবসায়ী মহলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে জাপান নিউজের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, জাপানের ছোট-বড় ২৪০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আছে। সাম্প্রতিককালের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা তাদের শ্রমিক নিরাপত্তা ইস্যুতে এদেশের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। এমন চলতে থাকলে বাংলাদেশই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ২০১৫ সালে ২৯৭.১ বিলিয়ন ইয়ান বাণিজ্য হয়েছে। ২০১৪-র চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। এ বিরাট বাণিজ্যে এবার ধস নামার শংকা প্রকাশ করছে জাপানি ব্যবসায়ীরা।

উল্লেখ্য, গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের রেস্টুরেন্ট ‘হলি আর্টিজান বেকারি’তে শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রথম হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। গুলি করতে করতে ভেতরে ঢুকে রেস্টুরেন্টে থাকা লোকদের জিম্মি করে ফেলে তারা। খবর পেয়ে গুলশান থানাসহ আশপাশের থানাগুলো থেকে পুলিশ ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। গিয়েই তারা রেস্টুরেন্ট কম্পাউন্ডে ঢুকে পড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও বিস্ফোরক দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করলে পুলিশ সদস্যদের অনেকেই হতাহত হন। পিছু হটতে বাধ্য হন পুলিশসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। ১২-১৩ মিনিটের মধ্যে সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হয়। সাড়ে আটটায় অপারেশন সমাপ্ত করা হয়।

অভিযানে ৩ বিদেশী, যার মধ্যে ১ জন জাপানি এবং ২ জন শ্রীলংকান নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আর অভিযানের পর তল্লাশি শেষে আরও ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ৬ সন্ত্রাসী নিহত হন বলে জানানো হয়।

যুক্তরাজ্যে গণসংহতি প্রকাশ : গুলশান-২ এর হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নিহত নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জঙ্গি-সম্পৃক্ত সবার বিচার দাবি করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণজাগরণ মঞ্চ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণজাগরণমঞ্চের এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ হিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টার ফর সেক্যুলার স্পেস, হিউম্যান রাইট ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিটারিয়ান এথিক্যাল ইউনিয়ন, কাউন্সিল ফর এক্স-মুসলিম প্রভৃতি।

সংহতি প্রকাশকারী সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি উইমেন’স ব্লগ, যুব ইউনিয়ন, নারী দিগন্ত, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক গণসংহতিমূলক কর্মসূচিতে এ অবস্থানের কথা জানায় সংগঠনটি। ট্রাফালগার স্কয়ারে বিভিন্ন দেশ জাতি ও ধর্মের মানুষের উপস্থিতিতে সহমর্মিতা ও সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন বাক্য সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার হাতে দাঁড়ায় গণজাগরণ মঞ্চ ও তাদের সহযোগী স্থানীয় সংগঠনগুলো।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার রাতে ‘আইএস সংঘটিত’ বর্বরোচিত হামলার কথা উল্লেখ করে সর্বস্তরের সচেতন মানুষের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত তিন বছরে ব্লগার, মানবতাবাদী ও যুক্তিবাদী, নাস্তিক, সেক্যুলারপন্থী, বিজ্ঞান লেখক, ইসলামকেন্দ্রিক চরমপন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার লেখক, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সপক্ষে অবস্থানকারী লেখকদের নৃশংসতম উপায়ে একের পর এক পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হচ্ছে। ইসলামের নাম ব্যবহার করে শান্তিকামী নিরস্ত্র মানুষের নৃশংসতম হত্যকাণ্ডের সর্বশেষ নিদর্শন গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডটি। যুক্তরাজ্যের গণজাগরণ মঞ্চসহ মানবতাবাদী সংগঠনগুলো হত্যাকারী ও উসকানিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানায়।যুগান্তর

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: