সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রদ্ধায় অবনত গুলশান ৭৯

d7a1a52ef57f3f4991b392e05ad87f07-577bb9a072f83-550x366নিউজ ডেস্ক : গুলশানের আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নিহতদের স্মরণে আজও  শ্রদ্ধায়, ফুলে ও মোমবাতিতে ভরে উঠেছে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়ক। কাঁটাতার আছে যাতে ঘটনাস্থলে কেউ না যেতে পারেন। তদন্তের স্বার্থে এলাকাটি সংরক্ষিত। কাঁটাতারে ফুলের শ্রদ্ধা জানিয়েই সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করছেন দেশি বিদেশি নাগরিকেরা।

গুলশানে সেই সড়কটির প্রবেশমুখে তৃতীয়দিনেও কাঁটাতারে ঘেরা। রয়েছে শক্ত পাহারা। সেখান দিয়ে যারাই যাচ্ছেন, যানবাহন থেকে নেমে কিছুক্ষণ প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। কেউবা কেবল এখানে একটা মোম জ্বালাবেন বলেই এসেছেন বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে।

তেমনই একজনের সঙ্গে কথা হয়। সামনে আর একদিন বাদেই ঈদ। নিহতরা কেউ তাদের আত্মীয় নন। শ্রদ্ধা জানিয়ে, অবনত মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা একজন বলেন, এখানে যারা ছিলেন আমি গণমাধ্যমে দেখেছি, তারা সবাই কিছু না কিছু অবদান রাখতে চেয়েছেন এদেশের জন্য। তারা কারোর কোনও ক্ষতি করেননি। এ চরম দুঃসময়ে এমন মানুষ আমাদের দরকার। অথচ কী নৃশংসভাবেই না তাদের হত্যা করা হলো।

জাপান নিউজ নামে একটি অনলাইন এই ঘটনায় নিহতদের কাজ ও তাদের আকাঙ্খার বলতে গিয়ে লিখেছেন ৩২ বছর বয়সী মাকাতো ওকামুরার কথা, যিনি টোকিওর শিনজুবু ও্যর্ড এর আলমেক নামে একটি কোম্পানিতে কনসালটেন্সি করতেন। তুখোড় এইওকামুরা কিশোর বয়স থেকেই শহর ও রাস্তা গড়ে তোলার বিষয়টি রপ্ত করতে শুরু করেন বলে তার বাবা কোমাকিচি দাবি করেছেন। নানাদেশে কাজ করার এবং কিছু একটা করার আকাঙ্খা থেকে তিনি সবসময়ই ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত চাকরিই করতে চেয়েছেন।

বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনার পরপরই বলেছেন, নিহতেরা সকলেই নানা পর্যায়ে পদ্মাসেতুর কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন। গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কে আর্টিজান রেস্তোরায় খেতে যান তারা। সেখানে জঙ্গি হামলার শিকার হয়ে নিহত হন সাত জাপানি নাগরিক। তাদের একজন ২৭ বছর বয়সী রুই শিমোদাইরা। এই নারীও আলমেক-এর চাকুরে ছিলেন। তাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন এমন ব্যক্তিরা তার স্বভাবসুলভ সখ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন। এই নারীর ফেসবুক পেজ বলছে, তিনি থাউল্যাণ্ডে পড়েছেন এবং ব্যাংকের যাপিত জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন। তিনি জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থাতেও কাজ করেছেন।

এই স্বপ্নবাজ মানুষগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশের তিন নাগরিকও সেইদিন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ফারাজ ফাইয়াজ হোসেন, ইশরাত আখন্দ ও অবিন্তা করীম আছে। ইশরাত তার কাজের জায়গায় নিজের পরিচয় তৈরি করতে পেরেছিলেন নিজ চেষ্টায়। তিনি ঢাকা আট সেন্টারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা থেকে শুরু করে পোশাক রফতানি মালিক সমিতির সঙ্গেও কাজ করেছেন। ছিলেন একজন শিল্পবোদ্ধা। ফারাজ আর অবিন্তা দুইজনই সম্ভ্রান্ত পরিবারের এগিয়ে চলা তরুণের নাম।এদের স্বজনরা কেবল নয়, পুরো দেশ এখন বিমর্ষ সেই রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার ২২ জনের জন্যই। সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ার পরও তাই থেমে নেই ওই নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো।আগের জনের জ্বালিয়ে যাওয়া মোমবাতি নিভে গেলে পরের জন এসে সেগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। এ আলো যেন আর আঁধারে পরিণত না হয়।

নিহত নয় জন ইতালির নাগরিকরা হলেন আদেলে পুগলিসি, মার্কো তন্দাত, ক্লদিয়া মারিয়া দ’আন্তোনা, নাদিয়া বেনেদেত্তি, ভিনসেঞ্জো দ’আলেত্রো, মারিয়া রিভোলি, ক্রিস্টিয়ান রোজি, ক্লদিও কাপেল্লি এবং সিমনা মন্তি।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: