সর্বশেষ আপডেট : ১৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিহত পাচক সাইফুল নিয়ে বিতর্ক

Chef-Saiful-ed-550x344নিউজ ডেস্ক : গুলশানের রেস্তোরাঁয় নিহত পাচক জঙ্গি নয় স্বজনদের এ দাবিই এখন বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে। বিভিন্ন আলামত স্বাক্ষ্য সবুদের ভিত্তিতে দিন যতই যাচ্ছে সেটাই প্রমাণিত হতে যাচ্ছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সাইফুলকে জঙ্গি বলে দাবি করলেও এখন তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে। নিহত সাইফুল হয়তো হামলাকারীদের হাতে জিম্মি হয়েছিলেন। কিন্তু তাকে হামলাকারী ভেবে হত্যা করা হয়েছে।

গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়েরকৃত মামলায় ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ৬ জঙ্গিকে হত্যার দাবির প্রেক্ষিতে সোমবার থানা পুলিশের প্রতি বিবিসি বাংলার প্রশ্ন ছিল- জঙ্গি ৬ জন হলেও মামলার এজাহারে ৫ জনকে আসামী করা হল কেন? এই প্রশ্নের জবাবে ওই থানার একজন পুলিশ বলেছেন, নিহতদের মধ্যে একজন ওই রেস্তোরাঁর কুক ছিলেন বলে তারা পরে জানতে পেরেছেন।

পুলিশের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে নিহত সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় পিৎজা বানাতেন।

অন্যদিকে শনিবার সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানের পর আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিলো তারা ছ’জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে। কিন্তু আইএস প্রচারিত পাঁচজন জিহাদির ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার প্রশ্ন উঠে আরেকজন ‘জঙ্গি’ তাহলে কে? এর মধ্যেই পুলিশ নিহত পাঁচজনের লাশের ছবি প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমগুলোসহ সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয় এবং বিষয়টি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ যে ৫ জনের মৃতদেহের ছবি প্রকাশ করেছে তাদের একজন জঙ্গি নন। তিনি ওই রেস্তোরাঁর একজন বাবুর্চি। হামলার সময় জঙ্গিরাা তাকেও জিম্মি করেছিলো। তবে নিহত পাচক সাইফুল নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নাকি হামলাকারীদের হাতে মারা গেছেন বিষয়টি এখনো নিশ্চত নয় বলে দাবি করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের এক পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গিদের হাতেই মারা যাক আর পুলিশের ভুল টার্গেটেই মারা যাক এ ধরনের অভিযানে যেকোনা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।

তার পরিবারের সদস্যদের দাবি গত শনিবার পুলিশের পক্ষ থেকে নিহত পাঁচজনের ছবি সরবরাহ করা হয়। এদের মধ্যে চারজন টি-শার্ট একজন সাদা শার্ট পরা। সাদা শার্ট পরা ব্যক্তিকে সাইফুল ইসলাম বলে শনাক্ত করেছে তাঁর পরিবার।

নিহত সাইফুলের বোন মায়া কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, বিকেলে মুঠোফোনে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। ভাইয়া আমাকে বলেন, পরিবারের সবার জন্য ঈদের কেনাকাটা করে সোমবার বাড়ি ফিরবেন। এরপর আর ভাইয়ার সঙ্গে কথা হয়নি। তিনি বলেন, শুক্রবার হামলার ঘটনা শোনার পর মুঠোফোনে অনেকবার সাইফুলের নম্বরে ফোন দিয়েছেন। রাত একটা পর্যন্ত ফোন খোলা ছিল। এরপর থেকে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তিনি হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বলতে থাকেন, আমার ভাইয়া জঙ্গি নয়, আমাদের পরিবার ওরকম নয়।

নিহত সাইফুল বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কোলকাঠি গ্রামে। তার বাবার নাম হাসেম চৌকিদার। চার ভাইবোনের মধ্যে সাইফুল সবার বড়। গ্রামের বাড়িতে নিহত সাইফুলের দু’সন্তান রয়েছে। স্ত্রী অন্তস্বত্ত্বা।

সাইফুল ইসলামের ছোট বোন মায়া ঢাকায় এসেছেন ভাইয়ের মৃতদেহ নিতে। তার দাবি এর আগে সাইফুল জার্মানিতে ছিলেন। গত দেড় বছর ধরে তিনি ওই রেস্তোরাঁয় কাজ করছেন।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: