সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নিবরাস এবং সেই শিক্ষককে নিয়ে যে অবাক করা তথ্য দিলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

77777-29ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্টুরেন্টে হামলাকারী নিবরাস ইসলাম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝরে পড়া শিক্ষার্থী। ৩ সেমিস্টার পড়াশোনার পর আর বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়নি সে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক নিয়মেই তার ভর্তি বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে ঈদের ছুটির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সন্দেহভাজন শিক্ষক হাসনাত করিমের ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। তবে তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক নন বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের পরিচয় প্রকাশ হতেই দেশজুড়ে ইংলিশ মিডিয়াম ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক নেতার সঙ্গে দুইদিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সোমবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসিয়াল নাম্বারে কল করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারারের ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলেন।

জঙ্গি হামলায় জড়িত নিবরাস ইসলামের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও জনসংযোগ দপ্তরের প্রধান বেলাল আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনেকেই ঢাকার বাইরে থাকায় সবকিছু ফাইন্ড আউট করা সম্ভব হয়নি। তবে সত্য এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিপত্র খুঁজে নিবরাস ইসলামের পরিচয় বের করা হয়েছে। তিনি ২০১১ সালের সামার সেমিস্টারে ভর্তি হয়েছিল। ২০১২ সালে ৩ সেমিস্টার পড়ার পর নিবরাস আর ভার্সিটিতে যোগাযোগ রাখেনি। ২ সেমিস্টার রেজিস্ট্রেশন না করলে ভর্তি বাতিল হয়ে যায়। তবে পরের আরেক সেমিস্টারে বিশেষ বিবেচনায় পুনঃভর্তির সুযোগ থাকে। কিন্তু এরপর আর যোগাযোগ না রাখায় অটোমেটিক্যালি ডাটাবেজ থেকে তার নাম পড়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এ মুখপাত্র বলেন, তার সিট অন্যরা ফিলআপ করেছে। এমন ছেলে বেরিয়ে গেছে তাতে ভালোই হয়েছে। তার জায়গায় ভালো ছেলেরা পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

এদিকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল। গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যার পর সন্দেহের প্রথম তীর ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিদের প্রতিরোধে কি ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সন্দেহভাজন কেউ থাকলে, যেমন রাজীবের ঘটনার সময় আমরা তাদের বহিষ্কার করে দিই। সেসময় আইনানুগ ব্যবস্থা নিই, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিই।

গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে হাসনাত করিম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। ফেসবুকে অনেকেই দাবি করছেন তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এ বিষয়ে বেলাল আহমেদ বলেন, এ নামের কেউ আমাদের শিক্ষক নাই। তবে এর আগে আমরা সার্ভিল্যান্স টিম, প্রক্টরিয়াল বডি ও ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তে বেশ কিছু সন্দেহভাজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছিলাম। সেখানে হাসনাত করিম ছিল কিনা এ মুহুর্তে বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, যতটুকু শুনেছি, তবে এটি নিশ্চিত তথ্য না, সেটি হচ্ছে তিনি কিছুদিনের জন্য আমাদের স্টাফ হয়েছিলেন। এরপর আর তাকে দেখা যায়নি।

‘সরকারের কড়াকড়ির পর থেকে আমরা অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার, মেজরদের দিয়ে নজরদারি করাচ্ছি। সে কারণে হয়তো অনেকে চলে গেছে। তারা হয়তো ভেবেছে এটি তাদের জন্য সেফ জোন না, ফলে পালিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে হাসনাত করিমও থাকতে পারেন’ যোগ করেন তিনি।

এর আগে, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তাদের সম্পর্কে বেলাল আহমেদ বলেন, রাজীবের খুনের সময় যারা জড়িত ছিল তাদেরকে কোনো এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যক্রমে দেখা যেত না। কিন্তু রেজাল্ট খুব ভালো ছিল। তবে আমরা এর দায় এড়াতে পারি না। কিন্তু ওরা তো আমাদের এখানে ৫ ঘণ্টা থাকে, সবসময় তো পরিবারের সঙ্গে থাকে। পরিবারের এ ব্যাপারে কঠোর হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, ২-৪ জনের জন্য আমরা হাজার-হাজার শিক্ষক শিক্ষার্থীকে বিপদে ফেলতে পারি না। তাই যখনই সন্দেহভাজন কাউকে দেখা যায় আমরা তখনই ব্যবস্থা নেই। আমরা মনে করি, এ বিকারগ্রস্তদের বিচার হওয়া উচিত।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: