সর্বশেষ আপডেট : ৫৯ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কাঁদলেন আইজিপি

photo-1467636563নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় প্রতিরোধের প্রথম প্রহরেই নিহত পুলিশের দুই চৌকস ও সাহসী সহকর্মীর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাহিনীপ্রধান এ কে এম শহীদুল হক।

আজ সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা রাজধানীর বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সালাহউদ্দিন খান এবং  গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম স্মরণে শোকসভায় এ দৃশ্য দেখা যায়।

পুলিশপ্রধান এ দিন ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি যখন গুলশানে যাই, তখন ডিএমপি কমিশনার বললেন, স্যার আপনি আসবেন না। এখানে (গুলশান) যুদ্ধাবস্থা। আপনি থানায় যান। আমি গুলশান থানায় ফিরে আসি। কিন্তু থানায় বড় ওয়ারলেস সিস্টেম না পেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে চলে যাই।’

‘সেখানে গিয়ে দেখি এক কক্ষে সালাহউদ্দিন, আরেক কক্ষে রবিউল। রবিউলের অবস্থা খুবই গুরুতর। চিকিৎসক আর নার্সরা মিলে তাঁর চিকিৎসা করছে। আমি হাসপাতালের পরিচালককে বললাম, যে কোনো মূল্যে আমার অফিসারদের বাঁচাতে হবে, সব চিকিৎসককে ডেকে নিয়ে আসুন।’

‘এর মধ্যেই একজন খবর দিল স্যার সালাহউদ্দিন মারা গেছেন। এরপর আমি দৌড়ে রবিউলের ঘরে যাই। আমার সামনেই রবিউল মারা গেল’, এই কথাগুলো বলতে বলতেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পুলিশপ্রধান। তাঁর অশ্রু গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।

কাঁদতে কাঁদতে ভারী গলায় শহীদুল বলেন, ‘এর পরই দেখি একের একের পর আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।’

এ সময় অডিটোরিয়ামে ছিল পিনপতন নীরবতা, শোকের ছায়া। সালাহউদ্দিন আর রবিউলের সহকর্মীদের অনেককেই তখন চোখ মুছতে দেখা যায়।

পরে আইজিপি আরো বলেন, ‘যত দিন বেঁচে থাকব ততদিন অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে রবিউল ও সালাহউদ্দিনের পরিবারের পাশে থাকবে পুরো পুলিশ বাহিনী।’

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বর সেকশনের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। সেখানে তারা দেশি-বিদেশিদের জিম্মি করে রাখে। সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে রাতেই নিহত হন বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন খান এবং গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার রবিউল করিম। এ ছাড়া এ সময় আহত হন অর্ধশতাধিক পুলিশের সদস্য।

পরদিন শনিবার সকালে জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। অভিযান শেষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুলশানের হলি আর্টিজান থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের সবাইকে গত শুক্রবার রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযানে সাত সন্ত্রাসীর মধ্যে ছয়জন নিহত হয়।

নিহতদের মধ্যে নয়জন ইতালির, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতের নাগরিক। বাকি তিনজন বাংলাদেশি, যাদের মধ্যে একজনের যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিকত্ব ছিল।

আজ দুপুরে ডিএমপি আয়োজিত এ শোকসভায় ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান, পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারী, সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি হেমায়েত হোসেনসহ সব অতিরিক্ত আইজিপি, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ, জোন ও থানার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।-এনটিভি

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: