সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদ হলো না হলি আর্টিসানের বাবুর্চি সাইফুলের

ডেইলি সিলেট ডেস্ক : ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিসান রেঁস্তোরায় জঙ্গি হামলায় নিহত বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের পরিবারের সঙ্গে ঈদ করা হলো না। মেয়েদের জন্য কেনা হলো না ঈদের জামা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কুলিকাঠি গ্রামে সাইফুলের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো কলোকাঠি গ্রাম ।

নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, এক বছর আগে উপজেলার কলোকাঠি গ্রামের মৃত হাসেম চৌকিদারের একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম চৌকিদার বাবুর্চির চাকরি নেন রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তরাঁয়। সাইফুল এর আগে জার্মান প্রবাসী ছিলেন। সেখানেও তিনি রেস্তোরাঁয় পিজা তৈরির কাজ করতেন।

Saiful

শুক্রবার (১ জুলাই) বিকেলে টেলিফোনে স্ত্রী সোনিয়ার সঙ্গে শেষ কথা হয় সাইফুলের। তিনি বলেছিল রোববার সকালে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে বাজার থেকে মেয়েদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের নতুন জামা কিনবেন। এ কথা বলেই স্ত্রী সোনিয়া বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন।

বাবা আসবে সেই পথ চেয়ে বসে আছে নিহত সাইফুলের অবুঝ ছোট দুই মেয়ে। শনিবার টেলিভিশন দেখে জানতে পারে জঙ্গি হামলা হয়েছে। অনেক মানুষকে মেরে ফেলেছে। সেই সাথে তাদের বাবা সাইফুলকেও মেরে ফেলেছে।

সাইফুলের বড় মেয়ে সামিয়া (৯) কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে, ‘আমার বাব আমার জন্য ও আমার ছোট বোন ইলমির জন্য ঈদের জামা নিয়া আসবে। আমার বাবাকে কারা যেন কুপিয়ে মেরে ফেলছে। ওরা কেন মারলো? কে আমার ঈদের জামা দিবে? নিহত ছোট মেয়ে ইলমি (৭) শুধুই চারদিক তাকিয়ে থাকে। মুখে কোনো ভাষা নেই তার।

সাইফুলের মা সম্মেহের বেগম, সন্তান হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন। স্বজনদের আহাজারিতে শোকে স্বব্ধ পুরো কোলকাঠি গ্রাম।

স্বপ্ন ভাঙা পরিবারটি এখন শুধু অপেক্ষা করছে মরদেহের জন্য। হত্যাকারীদের বিচার ও অসহায় এই পরিবারের জন্য সাহায্যের আবেদন করেছেন স্বজনসহ স্থানীয়রা।

গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহত সাইফুল ইসলাম সম্পর্কে নড়িয়া থানায় কোনো তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম আলী বলেন, জঙ্গি হামলায় যে ২২ জন মারা গেছে তাদের নাম ও তথ্য থানায় আছে। যে ৬ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে তাদের নামের সাথেও সাইফুল ইসলামের কোনো মিল নাই। হয়তো আহত হয়ে সাইফুল ইসলাম অন্যত্র মারা গেছে।

-বাংলামেইল

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: