সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

উদ্ধার জিম্মিদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে স্বজনদের শঙ্কা

B_A_4

ডেইলি সিলেট ডটকম :: গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারি থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ১৩ জন আছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে। এতে তাঁদের স্বজনেরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। তবে জীবিত ব্যক্তিরা যে দৃশ্য দেখে এসেছেন, মনোজগতে তার প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় স্বজনেরা।

শুক্রবার রাত থেকে ঘটনার শুরু। শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষা শেষে সাঁজোয়া যান নিয়ে দেয়াল গুঁড়িয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকে পড়েন সেনা কমান্ডোরা। শুরু হয় ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’। ১৩ মিনিটের মধ্যে সন্ত্রাসীদের কাবু করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন কমান্ডোরা। জীবিত উদ্ধার করেন ১৩ জিম্মিকে। সরকারি ভাষ্যমতে, তিন বাংলাদেশিসহ নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। ধারালো অস্ত্র দিয়ে জিম্মিদের হত্যা করা হয়।

অন্যদিকে আজ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবিত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। সেখানে একজন ভারতীয় নাগরিক, নারী-পুরুষ ও দুজন শিশুও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গোয়েন্দা বিভাগের হেফাজতে থাকা এক জিম্মির সঙ্গে রাতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন তাঁর একজন স্বজন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই স্বজন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যতটুকু শুনেছি ওদের (জিম্মি) সবাইকে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে বলে। এর মধ্যেই আশপাশের কয়েকজনকে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। মাথা নিচু করে থাকলেও সেসব দৃশ্য কি আর চোখে পড়েনি? ভেতরে আর কী কী দেখতে হয়েছে কে জানে। সবকিছু তো বলছে না। আমরা ওদের মানসিক অবস্থা নিয়ে খুব ভয়ে আছি।’

উদ্ধারের পর এতক্ষণ ধরে জিম্মিদের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রেখে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ওই স্বজন। তিনি বলেন, ‘এত কী জেরা করতে হচ্ছে যে এখনো তারা বাড়ি ফিরতে পারল না। বাড়িতে মা ও অন্যান্য আত্মীয় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। জিম্মি অবস্থায় থাকার পর আবার পরিবার থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। ওদের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা প্রয়োজন।’

কর আপিল আদালতের সদস্য এ কে বোরহান উদ্দীনের সঙ্গে আজ দুপুরে কথা হয় গোয়েন্দা বিভাগের অভ্যর্থনাকক্ষে। তিনি তাঁর জীবিত ফিরে আসা মেয়ে ফাইরুজ মালিহার ছাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তিনি এখন পর্যন্ত জানেন না তাঁর মেয়ের কপালে কী কী ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘মেয়ে হয়তো কিছু কিছু স্মৃতি কখনোই প্রকাশ করতে পারবে না। সে যে কী দেখেছে কে জানে।’

বিশেষজ্ঞ মতামত : জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, জীবিত উদ্ধার হওয়া জিম্মিরা সরাসরি মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে এসেছেন। দীর্ঘক্ষণ বীভৎসতার মুখোমুখি ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে ঘুম কম হবে। রাতে হঠাৎ জেগে যাবেন। বারবার ঘটনার কথা মনে হলে অস্থির হয়ে পড়বেন। এঁদের দিকে এখনই মনোযোগ দেওয়া না হলে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বা ‘পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার ও ডিপ্রেশন’ দেখা দেবে। তখন সারাক্ষণ স্মৃতি মনে পড়বে।

তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রমা যাতে পরবর্তী পর্যায়ে স্থায়ী হতে না পারে, সে জন্য এঁদের ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে রাখতে হবে। মনঃসামাজিক, পেশাগত, রাষ্ট্রীয় ও নৈতিক সমর্থন দিতে হবে। তাঁদের বোঝাতে হবে, আমরা তোমাদের সঙ্গে আছি, তোমরা একা নও। অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কাঁদবেন, ভয় পাবেন।

বলতে বলতে ভয় একটু একটু করে কমবে। তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। ওই জায়গায় নিজে থাকলে যেমন অবস্থা হতো, সে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মানসিক সহায়তা করতে হবে। সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দিতে হবে। তাঁদের মস্তিষ্কের নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি সিস্টেম পুরোপুরি ভেঙে গেছে। স্বাভাবিক জীবনযাপনে খানিকটা সমস্যা হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকদের কাছে নিতে হবে। কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থাও করতে হবে। জিম্মিদের মধ্যে শিশুরা থাকলে তাদের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

-প্রথম আলো

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: