সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : পুলিশের গুলি : আহত ৫০

barlekhanews_picবড়লেখা প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় এমপির ভাগ্নে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদকে ধাওয়া করে লাঞ্ছিত করেছে অটোরিক্সা চালকরা।  ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (০৩ জুলাই) দুপুরে পৌর শহরের দক্ষিণবাজারে। এ ঘটনার জের ধরে বিষয়টি ভিন্নদিকে মোড় নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা থেমে থেমে সংঘর্ষ, ভাংচুর, দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আর ইট-পাটকেলের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ রাউণ্ড ফাকা গুলিবর্ষণ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীসহ একাধিক সূত্র জানায়, রোববার সকালে জনৈক দুই সিএনজিচালিত অটোরিক্সা চালকের মধ্যে যাত্রী উঠানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।  উত্তরবাজার স্ট্যান্ডের ওই চালক মধ্যবাজার স্ট্যান্ডে এসে ঘটনাকারীকে মারার চেষ্টা চালায়। এ সময় সেখানে ভীড় জমে যায়। সদর ইউনিয়ন অফিস সংলগ্ন এলাকায় ভীড় দেখে ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ এগিয়ে গিয়ে সমাধান করে দিবেন জানালে অটোরিক্সা চালক নজরুল ইসলাম ও জামাল উদ্দিন চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের গায়ে ধাক্কা মেরে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।  এ সময় চেয়ারম্যান উত্তেজিত হলে স্থানীয়রা বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান করে দেন। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে সোয়েব সমর্থকদের কয়েকজন স্ট্যান্ড কার্যালয়ে গিয়ে ভাংচুর ও ঘটনাকারীকে মারধর করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাজীগঞ্জ বাজারের এক ব্যবসায়ী ডেইলি সিলেটকে জানান, ঘটনাটি এখন জফরপুর ও ইয়াকুব নগর দুটি গ্রামের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। জফরপুর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। আর ইয়াকুব নগর গ্রুপের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বড়লেখা পৌর মেয়র আবুল ইমাম কামরান চৌধুরী।

নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে হাজীগঞ্জ বাজারের অপর একজন ব্যবসায়ী বলেন, কাল বাদ পরশু ঈদ। এইরকম সময় বাজারে এমন মারামারি কারোরই কাম্য নয়। আজকের সংঘর্ষে বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।

স্থানীয় আওয়ামীলীগেরই এক জনপ্রতিনিধির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্দনে মধ্যবাজার সিএনজি স্ট্যান্ডের চালকরা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা সোয়েব আহমদকে ধাওয়া করে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে দু’টি গ্রামবাসীর মধ্যে। দুপুর থেকে জফরপুর-গঙ্গারজল ও ইয়াকুবনগর গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০ রাাউণ্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। বিকেল ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত চলা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া আর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন রিয়াজ উদ্দিন, সুমন আহমদ, জামাল উদ্দিন, নজরুল ইসলাম প্রমুখ। তাৎক্ষণিক আর কারও নাম জানা যায়নি। আহতরা স্থানীয়ভাবে ও উপজলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের জন্য আনা গাড়িভর্তি একটি ট্রাক্টরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এদিকে খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কুলাউড়া সদর সার্কেলের এএসপিসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উভয়পক্ষেই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আননে ২০ রাউণ্ড গুলি চালানো হয়।

barlekhanewspic2

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: