সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে র‌্যাব পরিচয়ে লেবু বাগান মালিককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ,পুলিশের জিডি

400px-SreemangalUpazilaবিশেষ প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে র‌্যাব পরিচয়ে বশির মিয়া নামে এক লেবু বাগান মালিককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বশির মিয়াকে ধরে টেনে হেঁচড়ে কালো গাড়ীতে তুলে নেওয়ার সময় নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লীরা তাকে নিয়ে যেতে বাধা দিলে ওই লোক গুলো নিজেদের র‌্যাবের লোক পরিচয় দিয়ে মুসল্লীদের মারধর করে।

তাদের প্রহারে মহাজিরাবাদ গ্রামের সেলিম মিয়া, আলামিন মিয়া, মনতা মিয়া নজরুল মিয়াসহ আরও সাত আটজন আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রীমঙ্গল থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ঘটনাটি শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর একটি কালো ও একটি সাদা মাইক্রোবাসে ৬জন করে মোট ১২ জন র‌্যাব সদস্য উপজেলা মহাজিরাবাদ পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সামন থেকে বশির মিয়াকে তুলে নেওয়া হয় বলে তার সহোদর ছোট ভাই সোহেল মিয়া অভিযোগ করেছেন।

বশির মিয়া(৩৫) উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের মহাজিরাবাদ গ্রামের হাবীব মিয়ার ছেলে।

বশির মিয়ার ছোট ভাই সোহেল বলেন, শুক্রবার ভাইয়া জুম্মার নামাজ পড়তে যায় মসজিদে দুপুর সাড়ে বারোটারদিকে। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে ভাইয়া বের হওয়ার পর দুইটি মাইক্রোবাস গাড়ী ( একটি সাদা ও একটি কালো গাড়ী) মহাজিরাবাদ পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের সামনে থামে। প্রথমে এক গাড়ী থেকে ৬ জন লোক নামে। পরে দুই গাড়ী থেকে মোট ১২ জন লোক নামে। তারা সিভিলে ছিল। যখন ভাইয়াকে ধরে বেধে ফেলে মারধর করে তখন মুসল্লীরা বশিরকে কেন ধরেছেন বলে জানতে চেয়ে প্রতিবাদ করে হাঙ্গামা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ইটপাটকেল ও চেয়ার ছোড়া ছুড়ির ঘটনা ঘটে। তখন তারা উত্তেজিত হয়ে মুসল্লীদের পেটানো শুরু করে এবং তাদের পরিচয় দেয় আমরা র‌্যাবের লোক। সে আমাদের আসামী। তথন তারা রিভলবার বের করে বশিরকে মারধর করে গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়।

শ্রীমঙ্গল থানার উপ পরিদর্শক সৈয়দ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন,খবর পেয়ে ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন,বশিরের নিকট রাজশাহীর এক আম ব্যবসায়ীর ৩৫ লক্ষ টাকা পাওনা ছিল। ওই টাকা আদায়ে ইতি পূর্বে র‌্যাব তাদের বাড়ীতে গিয়েছিল। দুবছর আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর মধ্যস্থতায় এক সালিশ বৈঠকে ওই আম ব্যবসায়ীকে ১৮ লক্ষ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। হয়তো ওই টাকা আদায়ের জন্যই র‌্যাব তাকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় একটি জিডি করা হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

অশিদ্রোন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন বলেন, ঘটনার পর পরই থানার ওসিকে নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি।মসজিদের মুসল্লীরা বলেছেন একটি সাদা ও একটি কালো মাইক্রোবাসে ১২ জন লোক র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ি বশিরকে মারধর করে টেনে হেচড়ে তুলে নিয়ে যায়। তখন নামাজের মুসল্লীদের সাথে র‌্যাব পরিচয়ধারীদের তীব্র বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে মুসল্লীরা ও এলাকাবাসী চেয়ার ও ইটপাটকেল নিয়ে ধাওয়া দিলে তখন র‌্যাব পরিচয়ধারীরা তাদের মারধর করেন। পুলিশ ধারনা করছে র‌্যাবের স্পেশাল কোন টিম তাকে উঠিয়ে নিয়ে যেতে পারে বলে পুলিশ পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের ইনচার্জ সিনিয়র এ এসপি হায়াতুন নবী বলেন, আমাদের কোন লোক ওই এলাকায় টহলে যায়নি। এমনকি এ বিষয়টি আমরা ওয়াকিবহাল নই।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: