সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় যেভাবে কমান্ডো অভিযান

full_78080642_1467436113নিউজ ডেস্ক: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জিম্মি উদ্ধারে অভিযান শেষ। পুরো রেস্তোরাঁটি এখন সেনাসদস্যরা ঘিরে রেখেছে। শনিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে গুলশান-২-এর ৭৯ নম্বর সড়কের ওই রেস্তোরাঁয় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সোয়াতের সমন্বয়ে কমান্ডো অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৫ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে একদল বন্দুকধারী রাজধানীর কূটনীতিকপাড়ার ওই ক্যাফেতে অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ ঢুকে বিদেশিসহ কয়েকজনকে জিম্মি করেন। তাদের মোকাবেলায় গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সামরিক বাহিনী এই জিম্মিদের উদ্ধারে কমান্ডো অভিযানে নামে শনিবার সকালে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সঙ্কটের অবসান ঘটে।

সকাল সাড়ে ৭টায় সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযান শুরুর পর প্রথমে কিছুক্ষণ গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। ঘণ্টাখানেক পর শব্দ বন্ধ হয়ে যায়।

গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের ওই ক্যাফের কাছে থাকা ভবন থেকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সোয়া ৮টার পর দুটি সাঁজোয়া যান আর্টিজান বেকারির দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। কম্পাউন্ডটির বাইরের দিকে থাকা পিজা কর্নারও তখন গুঁড়িয়ে যায়।

৯টার দিকে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় ওই ভবনটির বাইরে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া হলি বেকারির সবুজ লনে তখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপর দেখা গেছে। ফায়ার ব্রিগেডের কর্মীদের হাতে বহনযোগ্য ছোটো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে ছুটে যেতে যান। একটু পরে হোস পাইপ হাতে অন্য কর্মীদেরও দেখা যায়। তবে কোনো আগুন দেখা যায়নি।

হলি বেকারিতে সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযান চলার সময় লেক ভিউ ক্লিনিকের গাড়ি পার্কিংয়ে রাখা দুটি গাড়ি দুমড়ে যায়।

বেশ কিছু সময় বিরতির পর সকাল ৯টা ২ মিনিটে বিকট একটি শব্দে চারপাশ কেঁপে উঠে। তবে এসময় ক্যাফেটিতে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তাদের জায়গাতেই দেখা যায়।

অভিযানের সময় আশপাশের বিভিন্ন ভবনে অবস্থান নিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ৯টার দিকে বাঁশি বাজিয়ে ভবনগুলো থেকে বের হয়ে তাদের পরস্পরকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।

পাশের ভবন থেকে র‌্যাব-পুলিশ সদস্যরা যখন বের হচ্ছিলেন তখনও ক্যাফেটির ভবনের মূল ফটকের সামনে রক্তের দাগ ছিল। ভোরের বৃষ্টিতে তার কিছুটা ছড়াতে দেখা যায় সড়কেও। আগের দিন এখানেই গুলিবিদ্ধ হন পুলিশের এক সদস্য। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, “অভিযান শেষ।”

সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে আরেকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। তবে অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্ট, বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শব্দ হওয়ার আগেই সেনা সদস্যদের কানে হাত দিতে দেখা যায়।

কমান্ডো অভিযানের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (চ্যান্সেরি) জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “একজন একজন করে জিম্মিদের উদ্ধার করা হচ্ছে।” পরে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ১৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ক্যাফের ভেতরে বেশ কয়েকজনের লাশ রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান। তাদের মধ্যে পাঁচজন হামলাকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযান শেষের পর ক্যাফের পাশের বহুতল ভবনটির গ্যারেজে হাত পিছমোড়া করে বেঁধে কয়েকজন যুবককে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে শুইয়ে রাখতে দেখা যায়। তবে তারা কারা সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

সোয়া ৮টা থেকে একে একে কয়েকজনকে উদ্ধার পেয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: