সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হাজারো মাসের রাতের চেয়ে উত্তম শবে কদর আজ

109মাওলানা মাহমুদুল হাসান::আজ ২৬ রমজান ১৪৩৭ হিজরি। নাজাতের ষষ্ঠ দিন। আজ দিবাগত রাত মুসলিম উম্মাহর বহুল আকাক্সিত মুক্তি লাভের সেই রজনি পবিত্র শবে কদর। মহানবী হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকের একটি বেজোড় রাতে। আর তা ২১, ২৩, ২৫, ২৭ কিংবা ২৯ অথবা সর্বশেষ রাত্রি (মুসনাদে আহমদ)।
আল কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী রমজান মাসে এবং হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর নিহিত থাকার তথ্য জানা যায়। এ পর্যায়ে ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.) সহ অধিকাংশ তাবেয়ি ফকিহ ও আলিমের মত হলো, লাইলাতুল কদর রমজানের ২৭ তারিখ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশিষ্ট তাবেয়ি হজরত জিরবিন হুবাইস (রহ.) বলেন, একদা আমি হজরত উবাই ইবনে কাআব (রাজি.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার ভাই ইবনে মাসউদ (রাজি.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জাগরণ করে ইবাদত করবে সে লাইলাতুল কদর পারে (এর মানে কী?) প্রতি উত্তরে হজরত উবাই ইবনে কাআব (রাজি.) বলেন, আল্লাহ তাকে (ইবনে মাসউদ) রহম করুন। তিনি এর দ্বারা বুঝিয়েছেন যে, লোকেরা যেন কেবল একটা রাতের উপর নির্ভর করে নিশ্চেষ্ট না হয়। সাবধান! তিনি অবশ্যই জানেন লাইলাতুল কদর রমজান মাসে এবং রমজানের শেষ দশকে আর তা ২৭তম রজনিতে। অতঃপর তিনি সম্ভাবনা নির্দেশক ইনশাআল্লাহ না বলে দৃঢ়ভাবে শপথ করে বলেন, লাইলাতুল কদর অবশ্যই ২৭তম তারিখে। (মুসলিম ও মিশকাত শরিফ)।
লাইলাতুল কদর শব্দের অর্থ হচ্ছে তাকদিরের রাত্রি। তাফসিরকারকগণ বলেছেন, এই রাতে (লাইলাতুল কদরে) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকদিরের ফায়সালা জারি ও রায় নির্দেশ প্রদান করেন। এ হিসাবে এ রাত হচ্ছে ভাগ্যরজনি।
হজরত আবু বকর ওয়াররাক বলেছেন, কদর মানে সম্মান ও মর্যাদা। এই রাতকে লাইলাতুল কদর এ জন্য বলা হয় যে, পূর্ববর্তী জীবনে আমল না করার কারণে যে-মানুষের কোনো সম্মান বা মর্যাদাই ছিল না, সেও এই রাতে তওবা-ইস্তেগফার এবং ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হতে পারে (মাআরিুল কুরআন)। হজরত আব্দুল কাদির জিলানি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ গুনিয়াতুত তালেবিনে হজরত আব্দুল্যাহ ইবনে আব্বাস (রাজি.) থেকে বর্ণিত হাদিস সংকলন করেছেন। তিনি বলেছেন, লাইলাতুল কদরে আল্লাহ তায়ালা জিব্রাইল (আ.)-কে সিদরাতুল মুনতাহার সত্তর হাজার ফেরেশতাসহ পৃথিবীতে আগমন করার নির্দেশ দেন। তিনি জিব্রাইল (আ.) নির্দেশ মোতাবেক ফেরেশতাদের দল নিয়ে নুরের পতাকা সহ ভূপৃষ্ঠে আগমন করেন। পৃথিবীর চারটি জায়গায় সেই পতাকা উত্তোলন করেন। (১) বায়তুল্লাহ বা কাবা শরিফ (২) বায়তুল মুকাদ্দাস (৩) মসজিদে নববী (৪) তুরে মিনা মসজিদে। এর পর ফেরেশতাগণ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েন। প্রত্যেক মুমিন নারী-পুরুষের (ইবাদতের) ঘরে প্রবেশ করেন এবং উম্মতের জন্য মা প্রার্থনা করেন। অবশ্য যে-সব ঘরে বা বাসায় কুকুর, শূকর প্রাণীর ছবি, মদ্যপায়ী, জেনাকারী, সুদখোর, ব্যক্তি থাকে; সে সব ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।
হজরত শাহ আব্দুল আজিজ মুহাদ্দিছে দেওলভি (রহ.) ফিরিশতাদের পৃথিবীতে পাঠানোর সূক্ষ্ম দিক তুলে ধরে বলেছেন, এ রাতে বিপুল সংখ্যক ফিরিশতা পৃথিবীতে পাঠিয়ে আদমসন্তানের ইবাদতগুজারির সেই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখানো হয়। যখন তারা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত, তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদিতে লিপ্ত থাকে। যেমন ফেরেশতাগণ বলেছিলেন, আপনি কি পৃথিবীতে এমন জাতি সৃষ্টি করবেন, যারা সেখানে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করবে? সেই আশঙ্কার জবাব পেয়ে যান।
লাইলাতুল কদরে করণীয়:- লাইলাতুল কদরে আমাদের তাই করতে হবে যা রাসুলে করিম (সা.) করেছেন। এই রাতে নবীজি (সা.) কি আমল করেছেন তার পরিপূর্ণ বর্ণনা হাদিস শরিফে এসেছে। সংক্ষেপে নিম্নে উদ্ধৃত করা হলো-
(১) রমজানের শেষ দশকে (লাইলাতুল কদরের সম্মানে) তিনি এত বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন থাকতেন যা বছরের অন্য কোনো সময় হতেন না।
(২) তিনি সারা রাত জাগতেন এবং পরিবারপরিজনের সকলকে ইবাদত-বন্দেগিতে জাগিয়ে রাখতেন।
(৩) ইশার নামাজের পর এত দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তারাবিহ-তাহাজ্জুদে দাঁড়াতেন যে, কখনো সাহরি খাওয়ার ওয়াক্ত হয়ে যেত।
(৪) রাসূলের (সা.) নিকট হজরত জিব্রাইল (আ.) আসতেন। নবী করিম (সা.) তাঁকে কুরআন পাঠ করে শোনাতেন; কখনো হজরত জিব্রাইল (আ.) হুজুর পাককে তা শোনাতেন।
(৫) তিনি ইতিকাফ করতেন এবং বিবিদের থেকে পৃথক হয়ে যেতেন।
সুতরাং আমাদের ও উপরোক্ত আমলসমূহ করা এবং দান-খয়রাত, সদকা, ভালো ব্যবহার সংযম পালন করা এবং সর্বপ্রকার অশ্লীল আচরণ ত্যাগ করা উচিত।
অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, শবে কদরের নামাজ কী? এ রাতে ফরজ ওয়াজিব আদায় করত নফল নামাজ যথা সালতুত তাসবিহ, সালাতুত তওবা, সালাতুল হাজাত ইত্যাদি আদায় করা। কুরআন তেলাওয়াত জিকির আযকার তসবিহ-তাহলিল দান খয়রাত ইত্যাদি করা এবং নিজের জীবনের সকল পাপ কাজের ওপর লজ্জিত হয়ে আল্লাহর দরবারে তওবা করা এবং সকল প্রকার পাপ কাজ পরিত্যাগ করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দৃঢ় সংকল্প করা। উম্মুল মু’মিনিন হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রাজি.) বলেন, আমি নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.) আমি যদি কোনোক্রমে অনুধাবন করতে পারি যে, আজই শবে কদর তাহলে সে রাতে আমি কি দু’আ করব? রাসুল (সা.) বললেন, তুমি এই দু’আ পাঠ করো:-
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি ইয়া করিম।
অর্থাৎ-হে আল্লাহ তুমি পরম মাশীল, তুমি মা করতে ভালোবাস, কাজেই আমাকে মা করে দাও। স্মরণ রাখা প্রয়োজন, শুধু নিজের জন্য নয় পরিবারপরিজন, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং দেশ-জাতির হেদায়ত ও মঙ্গল কামনা করে দুআ করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরের ফজিলত দিয়ে আমাদের ভরপুর করে দিন। আমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: