সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঈদকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে টেইলারিং শপগুলো কর্মচঞ্চল

f91b5434-4ddf-49cd-b996-f76583cf0be4মৌলভীবাজার সংবাদদাতা  ::

ঈদকে সামনে রেখে জেলা সদরে সাবেক আমলের খলিফা এবং হাল আমলের টেইলারিং শপগুলো কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠেছে। শহরে ৬০টিরও অধিক টেইলারিং শপ এবং শতাধিক খলিফার দোকানে দিনরাত চলছে কাপড় তৈরির আয়োজন। পুরুষের শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্জাবি, মহিলাদের সালোয়ার-কামিজ, থ্রি-পিস, ম্যাক্সি, ব্লাউজ ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে ফরমায়েশ অনুযায়ী। বাজারি উত্তাপ একশ্রেণীর গ্রাহককে  ঠেলে দিচ্ছে এদিকে। কাপড়ের বাজারে গার্মেন্টেসে তৈরি পোশাকের অধিকমূল্য এবং নি¤œবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়াতে একশ্রেণীর গ্রাহক এখন সাশ্রয়ী মূল্যে টেকসই জামাকাপড়ের জন্য টেইলারিং শপ ও খলিফার দোকানের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাস্টার টেইলারের হাতের ছোঁয়ায় গার্মেন্টসে তৈরি কাপড়ের সমতুল্য হয়ে ওঠছে টেইলারিং শপের তৈরি কাপড়গুলো। শহরের জুলিয়া শপিং সিটির মহিলা টেইলার্স শপে আসা কলেজছাত্রী সাফিয়া বেগম জানালেন, ১৩০০ টাকা ব্যয়ে তিনি মধ্যমানের একটি থ্রি-পিস বানিয়েছেন নিজের পছন্দমাফিক ডিজাইনে। মার্কেটের ফ্যাশন হাউসে এ থ্রি-পিসের মূল্য হাঁকা হয়েছিলো ২৪০০ টাকা। দরে দামে না পোষানোতে তাই ছুটে এসেছিলেন টেইলারিং শপে। অর্ডার দেওয়ার দশ দিনের মাথায় থ্রি-পিস তৈরি হয়ে গেছে। শহরের সুলতানপুরস্থ স্টাফ কলোনির গৃহিণী ফাতেমা খাতুন জানান, স্বামীর ঈদ বোনাস মিলবে ৯ হাজার টাকা। এক ছেলে ও দু’মেয়ের রেডিমেড কাপড় কিনতে গিয়েছিলেন মার্কেটে। মধ্যমানের তিনটি সেটের মূল্য চাওয়া হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। অবশিষ্ট আড়াই হাজার টাকায় ঈদ করা যাবে কিভাবে?
তাই সাশ্রয়ী মূল্যে কাপড় তৈরির জন্য ছুটে এসেছেন টেইলারিং শপে। পশ্চিমবাজারের ঢাকাইয়া খলিফা আব্দুল লতিফ বিগত ৪৫ বছর ধরে দোকানের বারান্দায় কাপড় সেলাই করছেন। রাজমিস্ত্রী মেরাজ মিয়া তার কাছে এসেছেন শিশুদের কাপড় তৈরির জন্য। তার ভাষ্য হচ্ছে- ঈদ মৌসুমে শিশুদের কাপড়ের মূল্য দ্বিগুণ হাঁকছে দোকানীরা। দাম ছাড়তে নারাজ সবাই। তাই অনন্যোপায় হয়ে এসেছেন খলিফার নিকট। এভাবে ভীড় বাড়ছে মাস্টার টেইলারিং শপ ও বারান্দার খলিফাদের নিকট।
ঈদ মৌসুমকে সামনে রেখে মাস্টার টেইলার্স ও খলিফারা শিক্ষানবীশ দর্জি নিয়োগ করেছেন দোকানে কিংবা বাসা-বাড়িতে। দিনরাত চলছে সেলাইয়ের কাজ। এদিকে আলোকসজ্জায় আলোকিত বিপণী বিতানসমূহেও ভীড় জমে বাড়ছে সময় সময়। বিত্তশালী ক্রেতাদের নিকট দাম ফ্যাক্টর নয়। পোশাকের আভিজাত্যই হচ্ছে মূল বিষয়। বিপাকে আছেন মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তের ক্রেতামহল। অভিজাত বিপণীতে প্রবেশের পর মূল্যের সুবিধা না পেয়ে ফুটপাত ও গলির দোকানে ছুটছেন অনেকে। ঈদের বাজারের সুবিধা নিতে ঢাকা থেকেও ছুটে আসছেন একশ্রেণীর হকার। পুলিশের তাড়ার মুখেও তাদের ব্যবস্থা মন্দ হচ্ছে না।
অপরদিকে জেলার বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, রাজনগর, কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গলসহ সাত উপজেলার বিপণী বিতানগুলোতেও ভীড় বাড়ছে ক্রেতাদের। বসে নেই টেইলারিং শপ এবং খলিফার দোকানিরাও। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সেলাইয়ের কাজ।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: