সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৮ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সীমাহীন লুটপাট : বড়লেখায় উন্নয়ন কাজ না করেই প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের হিড়িক!

daily-sylhet-barlekha-news2বড়লেখা প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন না করেই অর্থ ছাড়ের হিড়িক পড়েছে। বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে গত কয়েকদিনে ভুয়া বিল ভাউচারে প্রজেক্ট কমিটির সদস্যরা সোনালী ব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০ জুনের মধ্যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত যাওয়ার নিয়ম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, লুটপাটের জন্যই বাস্তবায়িত কোনো প্রকল্পকে ভুয়া প্রকল্প দেখানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের অধিকাংশ প্রকল্প দৃশ্যমান না হলেও প্রজেক্ট কমিটি জমা দিয়ে যথারীতি উত্তোলন করা হয়েছে প্রকল্পের অর্থ। নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের নিজবাহাদুরপুর ঈদগাহ হতে নিজবাহাদুরপুর দক্ষিণ মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার ইট সলিংয়ের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিন্তু এ রাস্তাটিতে গত বছর জেলা পরিষদের অর্থায়নে ইটসলিং করা হয়। জেলা পরিষদের বাস্তবায়িত রাস্তায় প্রকল্প তৈরি করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম নুনুকে প্রজেক্ট কমিটির সভাপতি বানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কমিটি দাখিল করা হয়। গত ২৯ জুন উক্ত প্রজেক্ট কমিটিকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজাদের রহমান। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ‘নগদ যা পাও তা-ই হাত পেতে নিয়েই এসব অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছেন।
জেলা পরিষদের কাজের ওপর প্রকল্প তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের খবরে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইজন ইউপি চেয়ারম্যান জানান, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আগের বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়িত অনেক রাস্তাকে নতুন প্রকল্প দেখিয়ে পি.আই.ও (উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা) ও শাসকদলের কতিপয় নেতার যোগসাজশে স্থানীয় সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের কয়েক লাখ টাকা লুটপাট করছেন। এদিকে স্লিপ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ১৪৮ প্রাইমারি স্কুলের উন্নয়নে প্রতিটিতে ৪০ হাজার টাকা করে অর্থ বরাদ্দ হয়। সিংহভাগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করলেও প্রকল্পের নূন্যতম কাজ বাস্তবায়ন করেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজাদের রহমান জানান, জেলা পরিষদের কাজ যেখানে শেষ, সেখান থেকেই এ প্রকল্পের ইটসলিংয়ের কাজ শুরু হবে। প্রজেক্ট কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করায় বরাদ্দের ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা তিনি ছাড় দিয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৩০ জুনের মধ্যে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত পাঠাতে হয়। এভাবে অর্থ ছাড় দেয়া আইনসিদ্ধ নয়। ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার জন্যই এ ধরণের প্রকল্পের অর্থ ছাড় দেয়া হয়।
এসব ছাড়াও পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, মৎস্য দপ্তরসহ স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে এভাবেই লাখ লাখ টাকা লুটপাট করা হয়েছে ভুয়া প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে। এসব ভুয়া প্রকল্প তৈরি করা হয় খুব ঠা-া মাথায়। অনেকেই এসবের খবরই জানতে পারেন না। কাগজে-কলমে সবকিছু ঠিকটাক করে দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই। কেননা এসব ভুয়া বিলের অর্থ ছাড়ে তারাও স্পিডমানি পেয়ে থাকেন। এ কারণে অনেক সময় এসব সুক্ষè দুর্নীতি ও লুটপাটের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: