সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কিডনি, লিভার সংগ্রহে বন্দীদের হত্যা করে চীন!

Chinডেইলি সিলেট ডেস্ক :: চীন সরকার দেশটিতে জোর করে লাখ লাখ নিরপরাধ কারাবন্দীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবৈধভাবে সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।

যদিও দেশটির সরকারের দাবি, দুই বছর আগে থেকেই তারা এ চর্চাটি বন্ধ করে দিয়েছে। প্রায় দশকব্যাপী এক গবেষণায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের তথ্যগুলো বেরিয়ে আসে।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব মতে, চীনে প্রতি বছর কোনো কারণ ছাড়াই আধ্যাত্মিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ কারাবন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর তাদের হৃৎপিণ্ড, লিভার এবং অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেহ থেকে আলাদা করা হয় অন্য কোনো দেহে প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে।

২০০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত চীনের ৭১২টি লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপন কেন্দ্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্নকরণের প্রায় ১৫ লাখ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩ লাখের বেশি ঘটনাই ঘটেছে অনিয়মিত কেন্দ্রগুলোতে।

অনেক সার্জন জানান, প্রতিদিন তারা কী পরিমাণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করেছেন তা তারা হিসাব নেই। তবে অনেকে জানান, প্রতিদিন তারা বন্দীদের দেহ থেকে কমপক্ষে ছয়টি লিভার বিচ্ছিন্নকরণের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

চীনের আধ্যাত্মিক আন্দোলন ফালুন গং অনুসারিদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্নকরণের ওপর ২০০৭ সালে ‘ব্লাডি হারভেস্ট: রিভাইজড রিপোর্ট ইনটু অ্যালিগেশন অব অর্গান হার্ভেস্টিং অব ফালুন গং প্রাকটিশনারস ইন চায়না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনকেই হালনাগাদ করে নতুন এই তথ্য জানানো হল।

১৯৯২ সালে আধ্যাত্মিকতা চর্চার উদ্দেশ্যে চীনে প্রতিষ্ঠিত হয় ফালুন গং আন্দোলন। এরপর থেকেই আন্দোলনটিকে নিঃশেষ করার জন্য লড়াই চালিয়ে আসছে চীনা সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ আছে, দেশে অঙ্গদাতাদের অভাব থাকায় চীন সরকার ইচ্ছেমতো ফালুন গং অনুসারিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে এবং তাদের দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে।

এশীয় দেশগুলোতে চিকিৎসা বিষয়ক ভুলের উপর তৈরা করা একটি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে ওই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন কানাডার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড কিলগর, মানবাধিকার আইনজীবী ডেভিড ম্যাটাস এবং সাংবাদিক ইথান গুটমান।

চীন সরকারের বক্তব্য অনুসারে, দেশটিতে প্রতি বছর ১০ হাজার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা ঘটে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটিতে বেরিয়ে এসেছে। এক বিবৃতিতে ম্যাটাস বলেন, ‘চীনের বড় বড় দুই-তিনটি হাসপাতালের দিকে তাইলেই আমরা দেশটির সরকারের দেয়া তথ্য ভুল প্রমাণ করতে পারি।’ চীনা কমিউনিস্ট সরকার নিরপরাধ মানুষকে গণহত্যার সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনের শেষে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, ‘চীনে জোর করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের যে গল্প সাজানো হয়েছে তাতে আমি বলতে চাই, এগুলো কাল্পনিক এবং ভিত্তিহীন। তাদের কাছে এসবের কোনো তথ্যগত ভিত্তি নেই।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: