সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ২৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতনে তাড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ড. স্বামীর

146105_1ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-পরিচালক ড. সুমন কুমার পান্ডের (৩৯) বিরুদ্ধে সন্তান না হওয়ায় এবং যৌতুক না পেয়ে নির্যাতন করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার মামলা করেছেন তারই স্ত্রী অনামিকা চক্রবর্তী (৩৬)।

মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পৃথক দু’টি মামলা করেন তিনি।

এই মামলায় সুবিচারের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অনামিকা।

সুমন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক নারায়ণপুর এলাকার মৃত সুকুমার পান্ডের ছেলে। আর অনামিকা মানিকগঞ্জ শহরের পূর্ব দাশড়া এলাকার রমেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মেয়ে।

সংবাদ সম্মেলনে অনামিকা লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০১ সালে পারিবারিকভাবে নগদ দুই লাখ টাকা ও ১০ ভড়ি স্বর্ণালঙ্কার যৌতুকে সুমনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ওই সময় বেকার থাকায় সুমনের শশুর বাড়ি থেকেই লেখাপড়াসহ সাংসারিক খরচ বহন করা হতো।

এর বছর খানেক পর বার বার চেষ্টা করেও সন্তান নিতে পারেননি তারা। এজন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রতিবেদনে সুমনের অযোগ্যতা নির্ণয় করেন চিকিৎসকরা।

কিন্তু, সুমন ও তার পরিবার এই প্রতিবেদন মানতে নারাজ। উল্টো তাকে (অনামিকা) দায়ী করে আত্বীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব মহলে প্রচার করেছেন তারা।

দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়া ও বিভিন্ন সময়ে দাবি করা যৌতুক না পেয়ে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। এই কলহে তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন সুমন।

এক পর্যায়ে গত বছরের ২ নভেম্বর ঢাকার মিরপুর এলাকার ফ্ল্যাটে তাকে মারপিট করে ব্যক্তিগত গাড়িতে বাবা বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি। এর ১৬ দিন পরে কুমিল্লার এক মেয়ে দেবযানী দাস চন্দনাকে বিয়ে করেছেন সুমন।

এসব ঘটনায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। আর মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১১(গ)/৩০ এবং তৎসহ ৩২৫/৪ ধারায় মামলা করেছেন তিনি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

এরপর প্রথম স্ত্রী’র অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করায়ও তিনি একই ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা করেছেন। এই মামলায় সুমনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে আদালত।

সংবাদ সম্মেলনে এক পর্যায়ে অনামিকা কেঁদে কেঁদে বলেন, ‘সুমন কয়েক বছর ধরে দুর্নীতি করে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছেন। এই টাকা ও সরকারি প্রভাব বিস্তার করে তিনি মামলা দুর্বল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ কারণে এই মামলা দুইটিতে সুবিচার পাওয়ার দাবি করছেন তিনি।’

সংবাদ সম্মেলনে অনামিকার বাবা জানান, তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাদের একমাত্র মেয়ে অনামিকা। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকা ফ্ল্যাট কেনার জন্য সুমনের সোনালী ব্যাংকে মানিকগঞ্জ শাখার সঞ্চয়ী হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকা জমা দেয়া হয়েছে।

এই টাকাগুলো জমার রশিদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে অনামিকার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে ড. সুমন কুমার পান্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: