সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বন্ধুকযুদ্ধে নিহত ফাহিমের বিচার বিভাগীয় তদন্তের নোটিশ

221716_নিউজ ডেস্ক:
মাদারীপুরে বন্ধুকযুদ্ধে নিহত ফাহিমের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার দুপুরে জনস্বার্থে এ নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টও আইনজীবী এসএম জুলফিকার আলী জুনু। স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, পুলিশ সুপার (মাদারীপুর জেলা) এবং ঐ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর এ নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় মিডিয়া ও সংবাদপত্রে রিমান্ডে থাকা ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত শীর্ষক একটি নিউজ আমাদের দৃষ্টি ঘোচর হয়েছে। মাদারীপুর সরকারী নাজিম উদ্দীন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার গোলাম ফায়জুল্লাহ ফাহিম পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় গত ১৮জুন শনিবার সকালে।

তার আগের দিন ১৭জুন শুক্রবার ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর পরদিনেই ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। মিয়ারচর ঘটনাস্থলে ধান ও পাটক্ষেতের মাঝখানে ফায়জুল্লার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানা যায়। তার হাতে পেছনের দিকে হ্যান্ডকার্প পরানো ছিল। পুলিশ হেফাজতে থাকা রিমান্ডের আসামী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা দেশ ও জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক এবং আইনের শাসনের পরিপন্থি।

এতে আরো বলা হয়, রিমান্ডে থাকা আসামীকে নিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশ সম্পূর্ন নিস্ক্রিয়তার ভূমিকা পালন করেছে। রিমান্ডে থাকা আসামীকে নিয়ে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশগন কেন আসামীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করেন নাই তাহাও প্রশ্নবিদ্ধ।
এই আইনজীবী আরো বলেন, পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে থাকা আসামী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও উক্ত অভিযানে কোন দুস্কৃতিকারী দুর্বৃত্ত তথা পুলিশ সদস্য বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় সরাসরি আহত বা নিহত হন নাই।

তিনি বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে পত্রপত্রিকার সূত্রে জানতে পারি যে এলকাবাসীঘটনার সময় গুলাগুলির কোনো আওয়াজ শোনেননি বা কাউকে পালাতে দেখেননি কিন্তু মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ বিভিন্ন সাংবাদিকদের জানান ফায়জুল্লাহকে নিয়ে অভিযানে গেলে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায় এই সময় ফায়জুল্লাহ নিহত হয়।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এবং এলকাবাসীর বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং তাদের বক্তব্য থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, রিমান্ডে থাকা ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনায় নাটকীয়তা ও রহস্য রয়েছে। পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা মানবাধিকার লংঘন দেশের প্রচলিত ফৌজদারী আইন হেফাজত আইন ও উচ্চ আদালত কর্তৃক রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত গাইড লাইন ও আদেশের পরিপন্থী।

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিমান্ডে থাকা ফাহিম বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে নাকি প্রকৃত ঘটনা ও দোষীদের নাম আড়ালে রাখার জন্য তাকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা জাতির কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে। এবং কেন উক্ত ঘটনার প্রকৃত কারন উদঘাটনে নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না? কেন উক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে ডিপার্টমেন্টাল এ্যাকশন নেওয়া হবে না তাহা লিখিত আকারে জানাতে বলা হয়েছে। যথাসময়ে নোটিশের জবাব না পেলে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা দায়ের করবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: