সর্বশেষ আপডেট : ৪০ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওয়ার্ক পারমিটের নামে প্রতারণা: আতঙ্কে অবৈধ শ্রমিকেরা

66-696x435প্রবাস ডেস্ক:
মালয়েশিয়ায় বিদেশি অবৈধ শ্রমিকদের ওয়ার্ক পারমিটের নামে প্রতারণার অভিযোগে নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান মাইইজিকে ২২ লাখ ৭০ হাজার রিংগিত জরিমানা করা হয়েছে।

মাইইজির কার্যক্রমে আরও কোনও ত্রুটি আছে কি না ইমিগ্রেশন বিভাগসহ সরকারের অন্যান্য বিভাগ তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার জন্য চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটির সরকার রি-হায়ারিং প্রোগ্রাম চালু করেছিল মাইইজি কোম্পানির মাধ্যমে। সেই মাইইজিকেই জরিমানা করেছে মাইসিসি (মাইসিসি)।

২৪ জুন শুক্রবার মাইসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয় মাইইজির সাথে বিদেশী শ্রমিকের যে বৈধতা নিবন্ধনের চুক্তি হয়েছিল সরকারের। তাঁরা তা কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকদের মাঝে কিছু মিথ্যা বানোয়াট কথা যোগ করে বীমার নামে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে তা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

মালয়েশিয়ার জাতীয় দৈনিক দ্য স্টার ও নিউ স্ট্রেইটস টাইমস অনলাইন রোববার সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ার কম্পিটিশন কমিশন মাই ইজি সার্ভিস অবৈধভাবে বিদেশী শ্রমিকদের সাথে (পিএলকেএস) ভিসা রিনিউ করার নামে যে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে তা তদন্ত করার পর প্রমাণ পেয়ে ২২ লাখ ৭০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করেছে।

কমিশন সূত্রে বলা হয় ৫ই জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি এবং ২রা মে থেকে ৬ই অক্টোবর ২০১৫ পর্যন্ত প্রতিদিনের জরিমানা ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৫শ রিঙ্গিত।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের পর অবৈধ অভিবাসীদের মালয়েশিয়ার সরকার আর বৈধতার ঘোষণা দেয়নি। নতুন ঘোষণা হবে বলে কিছু আদম বেপারী মিডিয়া এবং সামাজিক পোর্টাল ফেইসবুকে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। আর এসব দেখে সহজ সরল অসহায় শ্রমিকরা মালয়েশিয়া আসার জন্য জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে। কেউ নদী পথে, কেউ বা এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্টে আবার কেউ এসেছে স্টুডেন্ট ভিসায়।

বিশেষ করে কিছু সংখ্যক লোক যখন নদী পথে মালয়েশিয়ায় এসে পৌঁছে তারপর থেকেই নদী পথে আসার হিড়িক পড়ে যায়। বিগত দিনে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার সরকারের সাথে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গুলো যোগাযোগ করা শুরু করে দেয়। কিছু সংস্থা মালয়েশিয়া সরকারের সাথে বৈঠক করে একটা সমাধানের পথ খুঁজে নেয়ার জন্য চাপ দেয়। তৎক্ষণাৎ মালয়েশিয়া সরকার জরিপ করে দেখতে পায়, অনেকেই কাজের ভিসায় এসে দালালদের খপ্পরে পড়ে ভিসা রিনিউ করতে পারেনি। তাই বিভিন্ন কারণে যারা ভিসা রিনিউ করতে পারেনি তাদের জন্য সরকার রি-হায়ারিংয়ের একটি প্রোগ্রাম বের করে। আর এই প্রোগ্রাম পরিচালনা করার জন্য মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাই ইজিকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তখন দেশটির দ্য সানসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকায়ও এ খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করেছিলো। এর ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত অবৈধ শ্রমিক বৈধতা পাবার স্বপ্নে বিভোর হয়। রাজধানী কুয়ালালামপুর, জোহর বারু, মালাক্কা, পাহাং, পেনাংসহ সবকটি প্রদেশে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীরা এ খবরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল।

এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ধুম্রজালের অন্ত নেই। দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। এ প্রক্রিয়ায় আসতে পারে পরিবর্তন। দালাল চক্রের তৎপরতা আর নানা অনিয়মের কারণে মারাত্মক ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে শ্রমিকদের। এতে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। যেন দেখার কেউ নেই! শ্রমিকরা কারো কাছ থেকে সঠিক কোনও দিক নির্দেশনা না পাওয়ায় তারা পড়েছেন মহাবিপদে। একদিকে অবৈধ অন্যদিকে পুলিশি অভিযান সবমিলিয়ে অজানা আতংকের মধ্যে সময় কাটছে তাদের। এ বিষয়ে শ্রমিকদের করণীয় নিয়েও বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে কোনও সঠিক দিক নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তাই নানা অনিয়ম ও অস্পষ্টতার কারণে এখনও অনেকে নিবন্ধন করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রি-হিয়ারিং এর নিবন্ধনে অতিরিক্ত সার্ভিস ফি সহ শ্রমিকদের গুণতে হচ্ছে প্রায় ৪ থেকে ৫শ’ রিঙ্গিত। প্রায় ১৬টি ক্যাটাগরিতে টাকা জমা দিতে হচ্ছে। এদিকে যারা আবেদন করছেন তাদেরকেও পারমিটের কোনও গ্যারান্টি দেয়া হচ্ছে না। যদি কোনও আবেদন নাকচ করা হয় তাহলে নিবন্ধনের জন্য জমা দেয়া টাকা ফেরত দেয়া হবে কি না তার সদুত্তর উত্তর মিলছে না। সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া চললেও কেউ সাহস পাচ্ছেন না নিবন্ধন করতে। যারা এরিমাঝে নিবন্ধন করেছেনে পুলিশের চিরুনি অভিযানে তাদেরও গণহারে গ্রেফতার জেলে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশসহ ১৫টি সোর্স কান্ট্রিকে একটি গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারকে আলাদা করা হয়েছে। মোট ৫টি ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানিকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ একই গ্রুপের ১৫টি দেশের শ্রমিকদের নিবন্ধন করার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মাই ইজির নেতৃত্বে পিএমএফ কনসোর্টিয়াম করা হয়েছে ৩টি কোম্পানিকে। মাইইজির সার্বিক তত্ত্বাবধানে কন্সট্রাকশন, ম্যানুফ্যাক্চারিং, সার্ভিস সেক্টর, ওয়ার্ক পারমিট ভিসা করতে সর্বমোট ৬২৫০ রিঙ্গিত জমা দিতে হয়। এছাড়া নিবন্ধন ১০০০ ও ফিংগার প্রিন্ট ১৫০০ মোট ২৫০০ রিঙ্গিত অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে। ফিংগার করার সময় মাইইজির অফিসিয়াল সিম কার্ড দেয়া হচ্ছে আবেদনকারীদের। যার মাধ্যমে আবেদনকারীর ভিসা কার্যক্রম সম্পর্কে জানা যাবে এসএমএস এর মাধ্যমে। তবে আবেদনকারীরা ভিসা পাবে কিনা তার কোন নিশ্চয়তা মিলছেনা তাদের কাছ থেকে। মাই ইজির মাধ্যমে নিবন্ধনকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক এ প্রতিবেদককে বলেন, নিবন্ধন করেছি কিন্তু কবে যে পারমিটি পাবো তা সঠিক করে বলতে পারছেন না মাই ইজির কর্মকর্তারা।

এদিকে মালয়েশিয়ায় চলমান অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণ (রি-হায়ারিং) প্রকল্পে গত ১৩ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশিসহ এক লাখ ২৪ হাজার ২৭৯ জন শ্রমিক নিবন্ধন করেছেন। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার সংসদে এ তথ্য জানান উপপ্রধানমন্ত্রী ডঃ আহমদ জাহিদ হামিদি।

সংসদে উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি আহমদ জাহিদ হামিদি বলেন, অবৈধ বিদেশি শ্রমিক আটকের জন্য সারাদেশে পাঁচ হাজার ৬২২টি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। অভিযানে ৯১ হাজার ৭৫ জন শ্রমিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৬৯ জনকে অবৈধ পাওয়া গেছে। এদের অনেকেই দেশটিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই অবস্থান করছিলেন। অনেকের ভিসায় আবার ভুল পাওয়া গেছে। তিনি জানান এ পর্যন্ত ৩২ হাজার ৮০৩ শ্রমিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখনও যারা অবৈধ আছেন তাদেরকে ‘আউটপাস’ নিয়ে দেশে চলে যেতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হামিদ জাহিদ। ঈদের পরপরই বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: