সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মরণনেশা এ যুদ্ধের শেষ কোথায়?

Teta Fight

ডেইলি সিলেট ডটকম :: নরসিংদীর রায়পুরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপদ নিলক্ষা। চরাঞ্চলের এই জনপদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে অনেকটা এগিয়ে গেছে এই জনপদ। পিছিয়ে নেই শিক্ষাক্ষেত্রেও। চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্যেও যুক্ত রয়েছে এলাকার অনেকে। বিদ্যুৎ এর আলোয় আলোকিত হয়েছে এলাকা। তবে হাজারো উন্নতি ও উজ্জ্বলতার মাঝেও নিলক্ষার সবচেয়ে ভয়াবহ ও অন্ধকার অধ্যায় হলো টেঁটাযুদ্ধ।

পান থেকে চুন খসলেই টেঁটা নিয়ে মরণযুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে এখানকার মানুষ। শিক্ষিত ও সভ্য মানুষগুলো যেন হঠাৎ করেই হয়ে ওঠে বর্বর। লিপ্ত হয় ভয়াবহ সংঘর্ষে। যেন সভ্যতার আলো পৌঁছলেও আলোকিত হয়নি তারা এতটুকুও। অথবা শিক্ষিত হলেও ভেতরে প্রবেশ করেনি শিক্ষার প্রকৃত আলো।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে,কতিপয় দাঙ্গাবাজদের কারণে যুগ যুগ ধরে অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে নিলক্ষা ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে প্রাণহানি,পঙ্গুত্ববরণ ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে অনেককে। আর এসব ঘটনার জেরে মামলা ও বিরোধ নিয়ে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় জটিলতা। এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন সমাজের মুখোশধারী এক শ্রেণি। বিবাদমান দলের মধ্যে সমঝোতার নামে তারা চালান বাণিজ্য। পরিণামে বিবাদ মীমাংসার পরিবর্তে মাছ শিকারে ব্যবহৃত টেঁটার ব্যবহার হচ্ছে মানুষ হত্যায়।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুয়ায়ী, দেশীয় অস্ত্র হিসেবে টেঁটার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হয় নরসিংদীর চর এলাকাগুলোতে। নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল বলে খ্যাত আলোকবালী, চরদীঘলদী, করিমপুর এবং রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর, বাঁশগাড়ী, পাড়াতলী, চরমধুয়া, মির্জাচর, চরআড়ালিয়া ও নিলক্ষা ইউনিয়নে টেঁটার সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৮০ সাল থেকে শুধু নিলক্ষা ইউনিয়নেই ভয়ানক এই টেঁটাযুদ্ধে প্রাণ গেছে অনেকের।

তার মধ্যে গোপীনাথপুর গ্রামের ফজলুল হক, হারুন মিয়া, মনু মিয়া, আব্দুল হেকীম, মোহাম্মদ আলী, আক্কাছ আলী, দড়িগাঁও গ্রামের নিজাম উদ্দিন, রইছ, কদম আলী, হরিপুর গ্রামের মামুন, দলা মিয়া, বীরগাঁও গ্রামের ইয়াকুব আলী, আল আমিন, আমিরাবাদ গ্রামের তাজু মিয়া, মোতালেব ও সোনাকান্দি গ্রামের রাজু মিয়াসহ প্রায় ৩২ জনের প্রাণ যায় নিলক্ষায়। এ সব ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে বিচার হয়নি আজও একটি মামলারও। কারণ আদালতের পরিবর্তে সমাজপতিরা স্থানীয়ভাবে অর্থদন্ড করেই আপোষ মীমাংসা করছেন এসব খুনের। যার ফলে গ্রাম্য প্রাধান্য ও ত্চ্ছু ঘটনা নিয়ে যুগ যুগ ধরে এ টেঁটাযুদ্ধ চলেই আসছে।

এদিকে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আজিম শিকদার, ফয়সাল, খোকা মিয়াসহ অনেকে হয়েছেন আজ পঙ্গু। অনেক নারী হয়েছেন বিধবা,মা হারিয়েছেন তার ছেলেকে,ছেলে হারিয়েছেন তার বাবাকে। নিলক্ষা ইউনিয়নের গ্রামগুলোর প্রায় প্রত্যেক পরিবারেই আছে ৫/৬টি করে টেঁটা। তুচ্ছ ঘটনার জেরে পরিবারের নারী-পুরুষ সবাই টেঁটা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন প্রতিপক্ষের ওপর।

যে ভাবে অশান্ত শুরু হয় নিলক্ষা:
টেটাযুদ্ধ শুরুটা সেই ১৯৮০ সালে থেকেই। মাঝে মধ্যে স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসা হয়ে থাকলেও দুই এক বছর পর পরই শুরু হয় আবার এ যুদ্ধ। বর্তমানে এ টেটাযুদ্ধ সূচনা হয় ২০১২ সালে ২১ অক্টোবর। নিলক্ষার গোপীনাথপুর গ্রামের জজ মিয়া ও রহিম মিয়া নামে তাদের দুই চাচা-ভাতিজার মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। এ সময় জজ মিয়ার সমর্থক আঃ হেকিমকে প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। দরবারীরা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রহিমরে সমর্থক ৯ জন কে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে।

এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে সংর্ঘষ ছড়ি পরে নিলক্ষা ইউনিয়নের সাতটি গ্রামে। এতে করে গত ২০১২ সালে থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ তিন বছরে বিক্ষিপ্ত কয়েক দফা সংঘর্ষে দুই পক্ষের সমর্থক টেঁটাবিদ্ধ হয়ে দড়িগাঁও গ্রামের রইস আলী, কদম আলী, হরিপুর গ্রামে মামুন ও গোপীনাথপুর গ্রামের আব্দুল হেকীমসহ ৪ ব্যক্তি নিহত হয়। এ পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ হয়েছে প্রায় ৫০টি বসত ঘরে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকারও উপরে সম্পদ। গত ২০১৩ সালের নভেম্বরে তৎকালীন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী রাজি উদ্দিনের নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দিয়ে ছিলেন। দীর্ঘ চার মাস বিরতির পর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্লেখিত গ্রুপের মাঝে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আপোষ মিমাংশার পর দ্বিতীয় পর্যায় দুই গ্রুপে ইতোমধ্যে ৯ দফা সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক ব্যক্তি টেঁটা ও ককটেল বিস্ফোরণে আহত হয়।

এ পর্যন্ত দুই পক্ষেরই মামলা পাল্টা মামলা ও হত্যা মামলাসহ ১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আসামী করা হয়েছে প্রায় তিন হাজার ব্যক্তিকে। উক্ত মামলায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাও বাদ যায়নি। যার ফলে ব্যাপক ভাবে ব্যঘাত ঘটছে শিক্ষার্থীদের পাঠকায্যও। কিন্তু লাঠিয়াল বাহিনীরা এ সব কোন মাথায় না নিয়ে তাদের টেঁটাযুদ্ধ অব্যাহত রাখছেন। অবশেষে স্থানীয় সচেতন মহলের সহযোগিতায় রায়পুরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ২০১৪ সাল গত ১৩ মে এক সালিশের মাধ্যমে আপোষ মিমাংসার করেন।

এতে দুই পক্ষের কয়েক দফা টেঁটাযুদ্ধের ৪টি হত্যার জন্য জরিমানা ধায্য করা হয়েছে সাড়ে ২২ লাখ ও বাড়ীঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা। কিন্তু এ আপোষ মিমাংসার রেশ কাটতে না কাটতেই বীরগাঁও গ্রামের মহাজন বাড়ীর নাসু মিয়া ও সরকার বাড়ীর আনোয়ার হোসেনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। এতে টেটার আঘাতে ঘটনাস্থলেই নাসু গ্রুপের ইয়াকুব আলী (৫০) নামে আর এক ব্যক্তি মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই লিয়াকত আলী বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়। তার পরেও থেমে থাকেনি টেটাযুদ্ধ ।

চলতি বছরের ৭ মে অনুষ্ঠিত হয় চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল হক সরকারকে পরাজিত করে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো: তাজুল ইসলাম। এপ্রেক্ষিতে গত ৮ মে সকালে স্থানীয় আতশ আলী বাজারে বসে নৌকার সমথর্ক একব্যক্তি বিদ্রোহী প্রার্থীকে উদ্দ্যেশ করে উৎসকানী মূলক কথাবার্তা বললে আব্দুল হক সরকারের সমর্থক আনোয়ার হোসেন প্রতিবাদ করেন। এ সময় দুই জনে মাঝে কথাকাটাকাটির এক পর্যায় সংঘর্ষের রূপ নেই। এ সংঘর্ষে আব্দুল হক সরকারের সমর্থক আনোয়ার হোসেনকে আতশ আলী বাজারে এলোপাথারী কুপেয়ে আহত করে মৃত ভেবে ফেলে চলে যায়।

এ খবরে পাওয়ার পর দু’গ্রপের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষের বাধলে সাবেক চেয়াম্যানের বাড়ীসহ প্রায় ২০/২৫টি বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ হয়। এর পরে থেকে দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে চলে আসছিল বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুন সকালে পূর্বের ঘটনার জের ধরে বিজয়ী চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সমর্থক ও সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হকের সমর্থক মধ্যে টেঁটাযুদ্ধ শুরু হয়। পরে উক্ত সংঘর্ষ পর্যায়ক্রমে নিলক্ষার সাতটি গ্রামে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ককটেল বিস্ফোরণ ও টেটা বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে লিটন মিয়া নামে এক ব্যক্তি নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত লিটনের স্ত্রী শুক্কুরি বেগম বাদী হয়ে রায়পুরা থানায় একটি হত্যা মামলা ও রায়পুরা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

টেঁটাযুদ্ধের কৌশল:
একটি টেঁটা তৈরি করতে মোট খরচ হয় তিন থেকে চারশ’ টাকা। এক সঙ্গে যুক্ত লোহার তিনটি ধারালো ফলাকে লম্বা হাতল লাগিয়ে কচ্ছপ বা মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হতো এই টেটাঁ। দেশের নদ-নদী, খাল-বিল শুকিয়ে মাছের সংখ্যা কমলেও কমেনি টেঁটার ব্যবহার। পাল্টেছে শুধু লক্ষ্যবস্তু আগে টেঁটার লক্ষ্য ছিল মাছ, এখন মানুষ। চরাঞ্চলের এসব গ্রামে সংঘর্ষ হলে লাঠি-বল্লম-ঢালের বদলে টেঁটাই বেশি ব্যবহার হয়। চরাঞ্চলের টেঁটা খুব জনপ্রিয়। দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষেই থাকেন কয়েকশত টেঁটাবাজ। সংঘর্ষের প্রথম সারিতে যারা থাকেন তারা টেঁটা ছুড়েন। দ্বিতীয় সারিতে থাকা ব্যক্তিদের দায়িত্ব হলো টেঁটাবিদ্ধদের সরিয়ে নেওয়া। আর তৃতীয় সারির লোকজন নিয়োজিত থাকেন টেঁটা সরবরাহে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও নীরব দর্শকের ভূমিকা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। কারণ জীবন বাজি রেখে কে যেতে চায় সংঘর্ষের মাঝখানে ? সংঘর্ষ শেষ হলে মাটির নিচে বা ডোবা-নালার কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় এসব টেঁটা। ফলে টেঁটার হদিস পায় না পুলিশ।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
নিলক্ষা টেটাযুদ্ধ নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষে হত্যাসহ বিভিন্ন দাঙ্গা-হাঙ্গামার বিষয়ে স্থানীয়রা ও পুলিশের দায়ের করা ১৫/১৬টি মামলা হলেও এ পর্যন্ত পুলিশ কোন চিহৃত টেটাবাজ লাঠিয়া কে গ্রেফতার করেননি। টেটাযুদ্ধ শুধু হলেই পুলিশ দাঙ্গাবাজদের আড়াল করে সাধরণ মানুষ গ্রেফতার করে শুরু করে অর্থ বাণিজ্য। আর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লাঠিয়াল বাহিনীর নেতাদের কে পৌচ্ছে দেয় পুলিশের অভিযানের আগাম খবর। তার বিনিময়ে বিকাশের মাধ্যমে পুলিশের কাছে চলে যাচ্ছ মোটা অংকের টাকা। যার ফলে চিহিৃত টেটাবাজ ও লাঠিয়াল বাহিনীর মূল হোতারা থাকছে পুলিশের ধরা ছোড়ার বাহিরে। পুলিশের এ রকম সহযোগিতার কারণে ত্চ্ছু ঘটনা নিয়েই যুগ যুগ ধরে এ টেঁটাযুদ্ধ চলে আসছে।

টেটাযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন জনের অভিমত:
নরসিংদী আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. ন.ম রুহুল আমিন বলেন, আদালতের বেশীরভাগ মামলা-ই নরসিংদীর চরাঞ্চলের। একেকটি মামলায় শতাধিক লোককে আসামী করা হয়ে থাকে। টেঁটাযুদ্ধ নরসিংদীর চর এলাকায় লেগেই আছে। আজ এ-গ্রাম কাল ওই গ্রামে। এ সব ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও সর্ব শেষ দুই পক্ষের মাঝে সমজোতা মাধ্যমে মামলা গুলো নিষ্পতি করে নেই।

তবে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ইন্ধন দেয়ায় এসব সংর্ঘষ হচ্ছে। তাদের লাভ, পরে আপোসের নামে টু-পাইস কামিয়ে নেওয়া। এরা থানা পুলিশেরও দালাল নামে পরিচিত। মামলা চালাতে কেউ নিঃস্ব হয়ে পড়লে নামমাত্র টাকা দিয়ে তাদের জমিও কিনে নেয় এই প্রভাবশালী মহল। ফলে টেঁটাঁযুদ্ধের পিছুটানে তারা।

নিলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হক সরকার বলেন,এলাকার অধিপত্য বিস্তার এবং বংশগত বিরোধের কারণে যুগ যুগ ধরে এলাকায় টেঁটাযুদ্ধ চলে আসছে। অনেক বুঝিয়েও এলাকার মানুষকে এ ভয়াবহ যুদ্ধ থেকে ফেরানো যাচ্ছে না।

নবজাগরণ সংগঠনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এখানকার স্থানীয় এক শ্রেণী মাতাব্বর ও জনপ্রতিনিধিরাই এসব ঘটনার সৃষ্টি করেন। নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা ঝগড়া-লড়াই জিইয়ে রাখেন। তারা সচেতন না হলে শুধু প্রশাসনের চেষ্টায় টেঁটাযুদ্ধ রোধ করা যাবে না। চরাঞ্চলের টেঁটাযুদ্ধ সামাজিকভাবে প্রতিরোধ ছাড়া শুধুমাত্র পুলিশ দ্বারা বন্ধ করা সম্ভব না। মূলত স্থানীয় মাতাব্বর ও জনপ্রতিনিধিদের হাতেই রয়েছে এখানকার টেঁটাযুদ্ধ সংস্কৃতির কলকাঠি।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাহারুল ইসলাম সরকার বলেন, নিলক্ষার এ ঝগড়াটা যুগ যুগ ধরে ঐতিহ্যগত ভাবেই চলে আসছে। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তাদের এ টেঁটাযুদ্ধ দমন করতে। এছাড়া এ নিলক্ষার কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তারাই টেঁটাযুদ্ধের মূল নায়ক। তবে খুব শীঘ্রই তাদেরকে গ্রেফতার করতে পারবো বলে আমি আশাবাদী।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বলেন, টেটাযুদ্ধ থামাতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত সকলকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে। বাঁশগাড়ীর মতো নিলক্ষাতেও শান্তি ফিরে আসবে অবশ্যই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: