সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যে কারণে চুনারুঘাট দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চেয়েছিল ১৮৭ বাংলাদেশি

simanto

চুনারুঘাট সংবাদদাতা :: ভারতে অনুপ্রবেশ করতে যাওয়া চুনারুঘাটের দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলের ১৮৭ উপজাতি (আদিবাসি) শিশু ও নারী-পুরুষকে ফিরিয়ে এনেছে বিজিবি। শনিবার (২৫ জুন) বিকেলে দেশ ত্যাগ করতে কালেঙ্গা সীমান্তে জড়ো হয়। পরে ভারতের গুমসিং ক্যাম্পের বিএসএফ’ সদস্যরা তাদের আটক করে বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর করে। রোববার সকালে বিজিবি, বনবিভাগ, প্রশাসন ও উপজাতিদের সাথে বৈঠকে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

উপজাতিরা এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে- বন বিভাগের সাথে ভুল বুঝাবুঝির এ বিষয়টি তারা স্তানীয় প্রশাসন কিংবা বিজিবি না জানিয়ে দেশ ত্যাগ করতে গিযে তারা ভুল করেছে। তারা বিটকর্মকর্তা ওয়াদুদ মিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানালে বন বিভাগ তাকে ক্লোজ করে নিয়ে যায়।

এদিকে, বনবিভাগের সাথে শ্রেফ দ্বন্দ্বের জেরে নাকি স্থানীয় কোন মহলের ইশারায় রাজনৈতিক সমস্যা তৈরির জন্য তারা এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিজিবি ও স্থানীয় প্রসাশন। তবে স্থানীয়রা মনে করছেন- তাদের দেশ ত্যাগে রাজনৈতিক কোন কারণ থাকতে পারে। কারণ এসব উপজাতি শত শত বছর ধরে কালেঙ্গা বনে বাস করছে এবং বন বিভাগের সাথে ভিলেজার (বন পাহাড়াদার) হিসেবে কাজ করছে।

এলাকাবাসী ও বিজিবি জানায়- চুনারুঘাট উপজেলা কালেঙ্গা বন রেঞ্জের অধীন মঙ্গল্যাবাড়ি, কাইল্যাবাড়ি, ছনবাড়ি ও ডেবরাবাড়িতে যুগ যুগ ধরে প্রায় সাড়ে ৫শ’ দেববর্মা সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করছেন। এরা মূলত বন বিভাগের সাথে ভিলেজার হিসেবে কাজ করে এবং বন মজুরি করেই সংসার চালায়। তারা বন বিভাগের জমিতে ফসল ফলিয়ে জীবন ধারণ করে এবং বনরক্ষীদের সাথে বন পাহাড়ায কাজ করে।

গত ২০-২২ দিন ধরে তাদের বেশ কজন সদস্য বন বিভাগের সাথে বন পাহাড়ায় যাচ্ছেনা। গত শুক্রবার বিকেলে কালেঙ্গা রেঞ্জের ছনবাড়ি বিটকর্মকর্তা ওয়াদুদ মিয়া ভিলেজারদের প্রধান রমেশ দেববর্মাকে (৪৫) কালেঙ্গা বাজারে পেয়ে বন পাহাড়ায় না আসার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে রমেশ দেববর্মার সাথে বিট কর্মকর্তার বাক্বিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যায় রমেশ বাড়িতে গিযে তার লোকজনকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, পিকল, তীরধনুক নিয়ে ছনবাড়ি বিটকর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলা চালাতে আসে। এসময় বিটকর্মকর্তা না থাকায তারা কার্যালয়ে ভাংচুর করে কালেঙ্গার রাস্তার বসে থাকে।

রাতে এ খবর পেয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা নুরুজ্জামান ও বিটকর্মকর্তাসহ বনরক্ষীদের নিয়ে ছনবাড়ি এলাকায় উপজাতিদের ধাওয়া করে ৪ উপজাতিকে আটক করে। এ নিয়ে ঐ এলাকার মঙ্গোলিয়া বাড়ি, ডেবরাসহ ৪টি পাড়ায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাতেই বনকর্মীরা তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

এ নিয়ে পরদিন শনিবার সকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার লোকজন বিষটি নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন। কিন্তু রমেশ দেববর্মা সেটা না মেনে ডেবরা বাড়ি ও মঙ্গল্যাবাড়ির প্রায় ১৮৭ জন নারী-শিশুসহ দেববর্মারা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের দিকে রওয়ানা করে। তারা পায়ে হেঁটে বিকালে পৌঁছে ত্রিপুরা সীমান্তের ১৯৬৫ এর ৪ সাব পিলারের ২৯নং গেইটের সামনে। সেখান থেকে কাঁটা তার ডিঙ্গিয়ে তারা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই জেলার চাম্পারহাওড় গ্রামে প্রবেশের চেষ্টা করলে গুমসিং বস্তি ক্যাম্পের বিএসএফ বাধা দেয় এবং আদিবাদিদের জন্য তাবু গাড়ে ও খাদ্যের ব্যবস্থা করে।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর এ বিষয়টি বিজিবি’র কাছে পৌঁছলে বাল্লা বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার মেছবাউর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যে সীমান্তের ১৯৫৪নং পিলারের কাছে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফ’র কমান্ডিং অফিসার রাজকুমার এবং বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাল্লা বিজিবি’র কোম্পানি কমান্ডার মেছবাউর রহমান। পরে ওই আদিবাসি দেব বর্মাদের বিজিবি’র হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। আদিবাসিরা রাত প্রায় সাড়ে ৯টার সময় মঙ্গল্যাবাড়িতে পৌঁছে।

গতকাল রবিবার বিজিবি’র ৫৫ ব্যাটালিয়ানের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সাজ্জাত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ জামিল, বনবিভাগের সহকারী বনসংরক্ষক হাসানুর রহমান, স্থানীয় চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উপজাতিদের নিয়ে বৈঠকে বসেন।

বৈঠকে তারা ছনবাড়ি বিট কর্মকর্তা ওয়াদুদ মিয়ার আচার-আচরণ ভাল নয় বলে তাকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানায়। একই সাথে তারা বিষয়টি স্থানীয় বিজিবি কিংবা উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে ভুল করেছে বলেও স্বীকার করে। বৈঠক শেষে বিটকর্মকর্তা ওয়াদুদ মিয়াকে ছনবাড়ি থেকে ক্লোজ করে নেওয়া হয়েছে।

বিজিবি’র ৫৫ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাজ্জাত হোসেন বলেন- নিছক ঝগড়াঝাটি করে তারা দেশ ত্যাগ করতে পারেনা। এখানে কোন ইন্ধন থাকতে পারে।

তিনি বলেন- তারা বিষয়টি স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে ভারতে যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। এ জন্য উপজাতিরা ভুল স্বীকার করেছে বলেও তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: