সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘ঢামেকের যে লিফটের দরোজা-জানালা কিছুই নেই’ (ভিডিও)

Damekডেইলি সিলেট ডেস্ক :: এই লিফটে রোগী নিয়ে উঠি ঠিকই, কিন্তু দমটা বন্ধ করে আল্লাহকে ডাকি- কখন কী যে হয়ে যায়! হাসপাতালে এসে যদি এই টেনশনে থাকতে হয় তাহলে এর চেয়ে ভয়ের কিছু নাই- বলছিলেন কামরুল হাসান। আর সেই লিফটেই রোগী বাবাকে নিয়ে চারতলায় যাওয়ার সময় তিনি এই প্রতিবেদককে এ কথা বলছিলেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে- ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের চারতলা ভবনের লিফটটির নেই দরোজা, একটি কলাপসিবল গেটে আটকে থাকে লিফট, ভেতরে নেই লিফটের ফ্লোর কমান্ড বাটন, গ্রাউন্ডে নেই লিফটটিকে কল দেওয়ার বাটন এবং লিফট চলাচলের কোনও দিকনির্দেশনা। লিফটটি চলতে শুরু করলে ক্যাচ ক্যাচ করে শব্দ হতে থাকে। কেউ লিফটটিকে কল দিতে চাইলে তাকে সামনে থাকা লিফটের কলাপসিবল গেট ধরে ঝাঁকি মারতে হয়, তবেই লিফটম্যান বুঝতে পারেন যে- কেউ লিফটের জন্য অপেক্ষা করছেন। এভাবেই চলছে রোগী আনা-নেওয়া, রোগীদের খাবারের বড় ট্রলিসহ হাসপাতালের নিত্য প্রয়োজনীয় আরও নানা কাজ। আর প্রতিদিন এই লিফটে করে যাতায়াত করছেন হাসপাতালটির চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও। লিফটের সামনেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানালেন- ‘ভয় লাগলেও কিছু করার নেই, এর ভেতর দিয়েই আমরা চলছি।’

হাসপাতালের বহির্বিভাগের ভবনটি চারতলা। নিচতলায় শিশুবিভাগসহ বেশকিছু অফিস কক্ষ। দ্বিতীয় তলায় নাক-কান-গলা বিভাগ, চক্ষু বিভাগ, মানসিক অসুস্থতা এবং চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগসহ রয়েছে আরও কিছু বিভাগ। তৃতীয় তলায় দন্ত, ক্যানসার বিভাগের ওয়ার্ড, লিভার বিভাগের ওয়ার্ড। চতুর্থ তলায় হাসপাতালের নিজস্ব কিছু কক্ষ ছাড়াও রয়েছে হাসপাতালটির নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের থাকা খাওয়ার জায়গা।

বহির্বিভাগের নিচতলায় লিফটের সামনেই দুই বছর ধরে কর্মরত আছেন নিরাপত্তারক্ষী নুরুল ইসলাম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এই লিফট খুব জরুরিভিত্তিতে বদলানো দরকার, এই লিফট আর চলে না। দুই-একদিন পর পরই লিফট মাঝপথে আটকে যায় রোগী নিয়ে। তখন যে কী এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সেটা না দেখলে বোঝানো যাবে না।

নুরুল ইসলাম বলেন, নিচতলা থেকে কল করার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় লিফট যখন ওপরে থাকে তখন আমরা দৌড়ে উপরে যাই। দোতলা, তিনতলা বা চারতলায় গিয়ে লিফটটিকে নিয়ে আসি। কখনও কখনও রোগীর স্বজনরা উপরে গিয়ে নিয়ে আসে। আবার প্রতিদিন তিনবেলা যখন রোগীদের খাবারের গাড়ি আসে তখনও একই কাজ করতে হয় আমাদের। আবার লিফট যদি আটকে যায়, তাহলে তিনতলা এবং চারতলার রোগীর স্বজনদের দোতলায় এসে খাবারের গাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যেতে হয়-পুরো ব্যবস্থাটাই খুব ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানালেন নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা ১৭০ জন নিরাপত্তারক্ষী থাকি এই ভবনের চারতলার ছাদে। এই ১৭০ জনের খাবারের জন্য প্রতিদিন পাঁচ বস্তা করে চালের বস্তা, সবজির বস্তা আমাদেরকে টেনে তুলতে হয় লিফট সচল না থাকলে।

অপর দিকে লিফটম্যান মোহাম্মদ আক্তার এখানে কাজ করছেন গত ছয় বছর ধরে। তিনি বলেন, আমি এখানে এসেই দেখেছি লিফটের এই অবস্থা। কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতেই বললেন- ‘এই লিফটের দরোজা-জানালা কিছুই নেই। চলছে তো চলছেই…কারও কোনও মাথাব্যথা নেই, সরকারি মাল, আল্লাহর নামে ছাইড়া দিছে।’

মোহাম্মদ আক্তার বলেন, লিফটের সামনে যখন কোনও রোগী আসেন তখন তারা কেচি গেট (কলাপসিবল গেট) ধইরা ঝাঁকি দেয়, তাতেই আমি বুঝি রোগী বা অন্য কেউ আসছে, তখন আমি নিচে নেমে আসি। তবে লিফটটি খুব দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।

আর দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি এই হাসপাতালের বহির্বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ লিফটের কথা স্বীকার করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ডা. খাজা আবদুল গফুর। তিনি বলেন, লিফটটির এই দশা গত প্রায় বেশ কয়েক বছর ধরেই। আমরাও লিফটে উঠতে গিয়ে মাঝে মাঝে আতঙ্কবোধ করি আর রোগীসহ তার স্বজনদের কী অবস্থা হয় সেটা অনুমান করতে পারি।

অধ্যাপক আবদুল গফুর বলেন, এটা পিডব্লিউডি’র কাজ, তাদেরকে আমরা বার বার চিঠি দিয়েছি এটা ঠিক করার জন্য, কিন্তু তাদের কাছ থেকে কোনও সাড়া পাচ্ছি না। তবে খুব শিগগিরই আবার তাদেরকে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ভিডিও দেখুন : https://youtu.be/QxkOdDRx6GU

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: