সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

যুক্তরাজ্যের ধাক্কা লাগবে বাংলাদেশেও

liders-550x490নিউজ ডেস্ক : ঐতিহাসিক এক গণভোটে ব্রিটেনের বেশীরভাগ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর এর প্রতিক্রিয়া এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে সারাবিশ্ব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়া হয়নি। এছাড়া রুশনারা আলী এমপি ছাড়াও রূপা হক, টিউলিপ সিদ্দিক- এ দুজন বাঙালি এমপিও ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার বিপক্ষে ছিলেন। কিন্তু বাঙালি প্রবাসীদের অধিকাংশ ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে। তাদের মতে, জোটভুক্ত দেশগুলোতে যে হারে অভিবাসীরা আসছেন তাদের চাকরির বাজারে বাঙালি তথা এশিয়ানদের দ্বার সংকুচিত হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাসস্থান, চিকিৎসা ব্যবস্থা, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ায়ও।

বাংলাদেশে কী প্রভাব পড়তে পারে, এ প্রসঙ্গে অন্যতম প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের রেমিটেন্সে বিরূপ প্রভাব পড়বে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিটেন্স কমে গেলেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে বড় অঙ্কের রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসছে।

কিন্তু পাউন্ড যেভাবে দর হারাচ্ছে তাতে রেমিটেন্সে বড় ধাক্কা আসছে। তাছাড়া এ ধরনের পরিস্থিতিতে ‘আতঙ্ক’ সৃষ্টির ফলে সেদেশ থেকে রেমিটেন্স পাঠানো কমে যেতে পারে। শুধু ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়া নয়, অভিবাসনের ক্ষেত্রেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা হচ্ছে তৈরি পোশাকের রফতানি বাজার। ইইউতে শুল্কমুক্ত সুবিধা এখন আর যুক্তরাজ্য দিতে বাধ্য নয়। গণভোট হলেও সম্পূর্ণরূপে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসতে আড়াই থেকে তিন বছর সময় পাওয়া যাবে। বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো আমাদের রফতানির বড় বাজার হলো ইউরোপ। ব্রিটেন ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে অন্যান্য দেশও ইইউ থেকে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে রফতানির নতুন বাজার সন্ধান করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে। বর্তমানে পর্তুগাল, স্পেন, ইতালির অর্থনীতি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে হলে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের বড় শত্রু।

অনিশ্চয়তা আরো বাড়লে বিশ্বে বিনিয়োগও কমে যেতে পারে। সবমিলিয়ে বিষয়টি আমাদের জন্য ইতিবাচক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

কেননা গণভোটের ফল প্রকাশের দিনই দেশটির মুদ্রা পাউন্ডের দর কমে গেছে । এটি অব্যাহত থাকলে তাদের ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতা কমতে পারে। ফলে রপ্তানিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। দেশটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার। তবে তিনি বলেন, ব্রেক্সিটের ফলে কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে – তা নিশ্চিত হতে হলে আরো অপেক্ষা করতে হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরেন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষের শিবির ভাবছে কেন এই ফলাফল হলো।

গণভোটের এই ফলাফলের কারণে ৪৩ বছর পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশটি। ইউরোপের শেয়ারবাজারগুলোতে প্রতিক্রিয়া হয়েছে ব্যাপক। লন্ডনের মূল শেয়ার সূচক দিনের শুরুতেই সাত শতাংশ পড়ে গেছে।

এশিয়াতেও শেয়ারের দাম পড়েছে। টোকিয়োতে সূচক পড়েছে আট শতাংশ।

অনেকেই বলছেন, ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর বাজারের এ ধরণের অস্থিতিশীলতা তাঁরা আর লক্ষ্য করেননি।

ব্রিটেনে বাঙালি এমপি রুশনারা আলী বলেন, ‘ব্রেক্সিট’ সফল হলে বাংলাদেশিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গড়পড়তায় চাকরি হারাবেন প্রায় পাঁচ লাখ। এতে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। ব্রেক্সিটের বিপক্ষে রুশনারা আলীর যুক্তি, ১৯৭৫ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ভিত মজবুতের প্রধান নিয়ামক হলো ইউরোপিয়ান জোটের সদস্য হওয়া। একক বাজারের অংশ হিসেবে ইইউতে ব্রিটেনের সবচেয়ে শক্তিশালী ও নিরাপদ অবস্থান। সেই অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে আমাদের ইইউ জোটের মধ্যেই থাকতে হবে। গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিমত প্রকাশ করেন রুশনারা আলী।

তিনি বলেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে এক ভয়ানক অর্থনীতির চাপে পড়তে হবে। মন্দার ঝুঁকিতে থাকতে হবে, যার কারণে পাঁচ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা থেকে কেন অজানা অস্থিতিশীল অন্ধকারময় পথে হাঁটতে হবে। অজানা গন্তব্যের দিকে না গিয়ে বিদ্যমান ব্যবস্থায় অবস্থান করে নিজেদের প্লাটফর্ম আরও দৃঢ় করার পক্ষে দুইবার নির্বাচিত বাঙালি অধ্যুষিত বেথনালগ্রিন অ্যান্ড বো আসনের এই এমপি। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে গেলে অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে বাংলাদেশিসহ সংখ্যালঘুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষ জয়ী হওয়ায় এই ফলাফল যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যেক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। এই পেক্ষাপটে নিকট ভবিষ্যতে ব্রিটিশ সমাজের বাঁক বদলে সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা মানুষদের জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই আইনপ্রণেতা। ভোটের ফলের পর শুক্রবার নিজের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান ইইউতে থাকার পক্ষের প্রচারণায় থাকা টিউলিপ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: