সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৩১ বছরের মধ্যে পাউন্ডের দাম সর্বনিম্ন

20183_b1ডেইলি সিলেট ডেস্ক::
বৃটেনের ইইউ ছাড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর ৩১ বছরের মধ্যে ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বৃটিশ মুদ্রা পাউন্ড। ডলারের বিপরীতে ১০ শতাংশেরও বেশি দরপতন ঘটেছে পাউন্ডের। একপর্যায়ে প্রতি পাউন্ডের মূল্য দাঁড়ায় ১.৩২৩৬ ডলার, যা ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন। পাউন্ডের দরপতন ছাড়াও লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের এফটিএসই ১০০ সূচকেরও পতন ঘটেছে ৮ শতাংশেরও বেশি। বিশ্বের অন্যান্য পুঁজিবাজারেও দরপতনের প্রবণতা ছিল উল্লেখযোগ্য। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে, তারা ‘নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা’ করছে এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ’ গ্রহণ করবে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। ভোটের ফলাফল আসার আগে পাউন্ডের মান ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী ধারণা করেছিলেন ‘রিমেইন’ বা থেকে যাওয়ার পক্ষেই রায় দেবেন বৃটিশরা। তখন প্রতি পাউন্ড সমান ছিল দেড় ডলার! কিন্তু উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে প্রাথমিক ফলাফল আসার পরপর একলাফে পাউন্ডের দাম নেমে যায় ১.৪৩ ডলারে। পরবর্তী ধাপের পূর্বাভাসেও ইইউ ছাড়ার পক্ষে মানুষের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়। এরপর আরও কমে যায় পাউন্ডের দাম। বিরোধী লেবার দলের ছায়া অর্থমন্ত্রী জন ম্যাকডনেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, পাউন্ড চাঙা করতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে হয়তো হস্তক্ষেপ করতে হবে।

মুদ্রা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ অবস্থা ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের সময়ের চেয়েও মারাত্মক। এটিএক্স ক্যাপিটালের প্রধান জো রান্ডল বলেন, এমনটা জীবনেও দেখিনি। এ ধরনের দরপতন জীবনে একবারই দেখা যায়। লেহম্যান ও ব্ল্যাক উইডনেসডের চেয়েও এটি বড় দরপতন। অথচ, আমরা এখনও গণভোটের আসল ফলাফলই পাইনি। তার আগেই এই অবস্থা! বিবিসির খবরে বলা হয়, মধ্যরাতের দিকে স্টার্লিং-এর মূল্য দেড় ডলারে উন্নীত হয়। ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে অন্যতম প্রধান প্রচারণাকারী নাইজেল ফ্যারেজ তখন বলেছিলেন, ‘রিমেইন’ বা ছেড়ে যাওয়ার পক্ষের ভোট একেবারেই কাছাকাছি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ওই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান হারায় স্টারলিং। কেননা, প্রথম দিককার ফলাফলে ইইউ ছাড়ার পক্ষে জোরালো অবস্থান প্রকাশ পায়।

এদিকে বৃটেনের ইইউ ছাড়ার খবরে ধস নেমেছে লন্ডনের শেয়ারবাজারে। ভোটের ফলাফল আসতে শুরু করলে গতকাল সকালেই এফটিএসই ১০০ সূচকের পতন ঘটে ৮ শতাংশেরও বেশি, যা যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দরপতন। ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, লন্ডনের প্রিমিয়ার সূচকও ৪৫৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫,৮৮০ পয়েন্টে; শতকরা হারে যা ৭.১৯ শতাংশ কম। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এমন দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে। বৃটেনের শেয়ার বাজারের এই দরপতন ১৯৭৮ সালের ‘উইন্টার অব ডিসকনটেন্ট’, ১৯৯২ সালের ‘ব্ল্যাক ওয়েডনেসডে’ বা ২০০৯ সালের লেম্যান ব্রাদার্সের ঘটনার চেয়েও এই ধসের পরিমাণ বেশি। যুক্তরাজ্যের ব্যাংকগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব রেখেছে ব্রেক্সিটের ফলাফল। রয়্যাল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ডের (আরবিএস) শেয়ারের মূল্য কমেছে ৩৪ শতাংশ, লয়েড ব্যাংক পিএলসির শেয়ারের মূল্য কমেছে ২৮ শতাংশ, বারক্লেসের মূল্য কমেছে ৩০ শতাংশ। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর মার্ক কারনে জানিয়েছেন, ব্রেক্সিট ভোট ইস্যুতে ‘বাজার ও অর্থনীতিতে খানিকটা অনিশ্চয়তা আগে থেকেই আশা’ করছিলেন তারা। এর জন্য ব্যাংক আগে থেকে প্রস্তুত ছিল বলেও জানান তিনি। বাজারকে স্থিতিশীল করতে ২৫ হাজার কোটি পাউন্ড দেয়ার জন্য তাদের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বাজারকে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে এবং যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের বাড়তি পদক্ষেপ নিতে ব্যাংক দ্বিধা করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নাগরিকরা যেভাবে ভ্রমণ করেন, যেভাবে আমাদের পণ্য সরবরাহ হয়ে থাকে বা যেভাবে আমাদের সেবা বিক্রি হয় তাতে প্রাথমিকভাবেই কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে ইউরোপ ও বাকি বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য খানিকটা সময় লাগবে।’

ফলাফলের আঁচ লেগেছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারেও। দরপতন হয়েছে প্রায় সবখানে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, টোকিওর নিক্কেই ২২৫-এ দরপতন হয়েছে ৭.৯ শতাংশ। জার্মানির ড্যাক্সের সূচক কমেছে ৭.৫ শতাংশ, ফ্রান্সের বেঞ্চমার্ক সূচ ক্যাক ৪০-তেও দরপতন হয়েছে ৯ শতাংশ। ইতালি ও স্পেনের শেয়ারবাজারে দরপতন ছাড়িয়েছে ১১ শতাংশ। জাপান বাদে এশিয়া-প্যাসিফিকি অঞ্চলের জন্য এমএসসিআইয়ের সূচক কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। চীনের সাংহাইয়েও ১.১ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

এদিকে বেক্সিট বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে ‘ট্রিপল এ’ ক্রেডিট রেটিং হারাচ্ছে বৃটেন। এই রেটিং ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত একমাত্র প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপির প্রধান রেটিং কর্মকর্তা মরিটজ ক্রেমার ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ‘আমরা মনে করছি যে এই পরিস্থিতিতে ট্রিপল এ রেটিং যুক্তিগ্রাহ্য নয়।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: