সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আমেরিকা-ব্রিটেন নয়; বাংলাদেশেই সম্ভব করেছেন সামিউল মাসুদ

full_679171777_1466766708নিউজ ডেস্ক:: শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন, চাঁদপুর কর্তৃক পরীক্ষামূলকভাবে বিগত ১৯ জুন ২০১৬ তারিখ হতে চালু হয়েছে উপজেলা কল সেন্টার (Upazila Call Centre)। বিগত প্রায় ৮মাস ধরে নানাবিধ কারিগরী পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলায় কর্মরত সকল বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ এর সার্বিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যেহেতু এটি পরীক্ষামূলকভাবে এই কলসেন্টারটি চালু হয়েছে তাই এর কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে তাদের মূল্যবান মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সামিউল মাসুদ।

কল সেন্টারের মূল ধারণাটি কি?
• শাহরাস্তি উপজেলার কলসেন্টারের কনসেপ্টটি উন্নত বিশ্বের ৯১১-এর আদলে তৈরি।
• উপজেলা বা সরকারি অফিসে না এসেই ঘরে বসে কাঙ্ক্ষিত সেবা/তথ্য, বা কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, অভিযোগ যেন জানানো সম্ভব হয়।

• উপজেলা কল সেন্টারে গৃহীতে কলটি তথ্য সংক্রান্ত হলে পূর্ব হতেই সংগৃহীত ডেটাবেইজের মাধ্যমে তথ্য আগ্রহী ব্যক্তিতে প্রদান করা হবে। এটি উপজেলা কল সেন্টার একটি তথ্য ভান্ডার হিসেবেও কাজ করবে।

• কোন তথ্য বা কাঙ্ক্ষিত সেবা কলসেন্টার হতে দেয়া না হলে বা সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধান, প্রয়োজনে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান/উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা উপজেলা পর্যায়ের উপযুক্ত ব্যক্তির নিকট হতে তথ্য গ্রহণ করে উক্ত সেবা বা তথ্য প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, উপজেলা কল সেন্টারে আগ্রহী ব্যক্তিকে মোবাইল ফোনের মত কলে রেখেই সর্বোচ্চ ৭ জন ব্যক্তিতে কল কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযু্ক্ত করে ফোনের মাধ্যমেই তাৎক্ষণিক সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

• স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার, ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বা অন্যান্য বিভাগীয় প্রধান ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একত্রিত প্রচেষ্টায় তাৎক্ষণিকভাবে যে কোন নাগরিক সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এর মাধ্যমে নিজেদের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে জনগণের ক্ষমতা জনগণের নিকট ফিরিয়ে দেয়া।

আগেই বলা হয়েছে, উপজেলা কল সেন্টারের মূল ধারণাটি অনেকটা উন্নত দেশের ৯১১ কনসেপ্টের মত। যে কোনো প্রয়োজনে মানুষের কাছে এই নম্বরটি যেমন পরিচিত, তেমনভাবে উপজেলা কলসেন্টারের জন্য প্রাথমিকভাবে BTRC থেকে একটি শর্টকোডের আবেদন করা হলেও নানা জটিলতায় তা না পাওয়ায় নেটওয়ার্ক ও সার্বিক টেকনিক্যাল ফিজিবিলিটি স্টাডি করে গ্রামীন ফোনে চারটি নম্বর কলসেন্টারের নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নম্বরগুলি হল-
01719-444444,
01793-777111
01795-999444
01786-224400

কি ধরণের নাগরিক প্রয়োজন?

o বাল্যবিবাহ
o নারী নির্যাতন
o যৌতুকপ্রথা
o ঈভটিজিং
o বিদ্যুৎ সমস্যা
o জমি-জমা সংক্রান্ত সমস্যা
o আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যা
o দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য
o প্রকল্পে অনিয়ম সংক্রান্ত সমস্যা
o শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সমস্যা
o সরকারি সেবা সংক্রান্ত সমস্যা (স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ইত্যাদি)
o অসহায় দুঃস্থ শিশু, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, মহিলা বা অন্যন্য
o মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সেবন সংক্রান্ত তথ্য
o সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সংক্রান্ত
o সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অফিস সংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ
o নাগরিক সমস্যা সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা, অভিযোগ, পরামর্শ
o অন্যান্য যে কোন সমস্যা

কীভাবে এটি কাজ করবে?

১. উপজেলার সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ সর্বত্র ইতোমধ্যে ৪০টি মেগাসাইন বোর্ড, ৭০টি বিলবোর্ড ও ব্যানার, ৫০০০ পোস্টার, ১০০০০ স্টিকার ও লিফলেটের মাধ্যমে উক্ত নম্বর ৪টি প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাধ্যমে জনগণকে অবহিতকরণ করা হচ্ছে। স্থানীয় কেবল নেটওয়ার্ক ও প্রিন্ট/অনলাইন নিউজেও প্রোমো দেয়া শুরু হয়েছে।

২. জনগণ তার যে কোন সরকারি অফিস সংক্রান্ত তথ্য, নাগরিক অভিযোগ, পরামর্শের জন্য উক্ত যে কোন একটি নম্বরে ফোন করলে উপজেলা কলসেন্টারের প্রশিক্ষিত সার্বক্ষণিক (অফিস আওয়ারে) দায়িত্বে নিয়োজিত ৪ জন অফিস সহকারী কলগুলি গ্রহণ করবে।

৩. ৯১১ এর মত প্রতিটি কল গ্রহণের পর একটি CRM (Customer Relationship Management) Software-এর মাধ্যমে নতুন অভিযোগ, হিসেবে তা ল্যাপটপে এন্টি করা হয়। এক্ষেত্রে অভিযোগকারীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর এন্ট্রি করে তার মূল অভিযোগটি সংক্ষিপ্ত আকারে লিপিবদ্ধ করা হয় । যদি সমস্যাটি তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নেয়ার মত হয় তবে সঙ্গে সঙ্গে এটি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান/জনপ্রতিনিধি অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কল কনফারেন্স করে (৭জন পর্যন্ত) নির্ধারণ করা হয়- কে উক্ত নাগরিক সমস্যাটি কতদিনের মধ্যে সমাধান করবেন। সে অনুযায়ী এটি সফটওয়্যারে এন্ট্রি করে সংরক্ষণ করে হার্ড কপি তখনই প্রিন্ট করা হয়।

৪. যে ব্যক্তি উক্ত সমস্যাটির সমাধানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন তাকে সেদিনই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষরিত কপিটি পৌছে দেয়া হয় এবং সফটওয়্যারের ড্যাশবোর্ডে তার এন্ট্রি থাকে। ফলে, কার কাছে কোন্ নাগরিক সমস্যা কতদিন যাবৎ অনিষ্পন্ন আছে তা সহজেই মনিটরিং করা যায়…

৫. কল কনফারেন্সের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সকল জনপ্রতিনিধি, গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, সকল শিক্ষক, নিকাহ রেজিস্টার, জেলা পর্যায়ের সকল বিভাগীয় প্রধানসহ যারা উপজেলা পর্যায়ের স্টেকহোল্ডার বলে পরিচিত, তাদের সকলের প্রোফাইলসহ মোবাইল নম্বর এতে সংযুক্ত আছে। এছাড়াও, তথ্যভান্ডার হিসেবে সকল সরকারি দপ্তরের কর্মপদ্ধতি, সিটিজেন চার্টারসহ বিস্তারিত তথ্যও সংরক্ষিত আছে, যাতে জনগণে সরকারি যে কোন সেবার তথ্য সেখানে পেতে পারেন।

টেকনিক্যাল সেট-আপ কী কী?

* আধুনিক সজ্জাবিশিষ্ট একটি পৃথক কলসেন্টার রুম
* চারটি ল্যাপটপ ও ৪টি মোবাইল (সফটওয়্যারসহ ইনস্টলড)
* CRM Software যা প্রত্যেকটি ল্যাপটপের সাথে LAN-এর মাধ্যমে সংযুক্ত করা
* ৪জন প্রশিক্ষিত সার্বক্ষণিক দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিস সহকারী ও পার্ট-টাইম দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলার ২২ জন বিভাগীয় প্রধান কর্মকর্তাবৃন্দ।

কলসেন্টারের সাথে চলমান সম্পূরক অন্যান্য সেবা কার্যক্রম:

১. উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পাঠদানসহ সহশিক্ষা কার্যক্রম মনিটরিং: কল সেন্টারের মাধ্যমে সপ্তাহে ৫টি কার্যদিবসে প্রতিদিন ১০-১২ পর্যন্ত ২ জন কর্মকর্তা রোস্টার মোতাবেক প্রতিটি স্কুল/কলেজ/মাদ্রাসায় সকল বিষয়ের শিক্ষককে ফোন করবেন, দৈবচয়নক্রমে প্রতি ক্লাসে ৩-৪ জন শিক্ষার্থীকে সেদিনের পাঠ্যবিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন এবং তাদের অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক/অধ্যক্ষকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য পৃথক ডেটাবেইজ প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মান আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসন মনে করে।

২. কলসেন্টারের মাধ্যমে প্রাথমিক/মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা: এখন পর্যন্ত ২২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক শিক্ষা পোর্টাল নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হওয়ায় ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ফোন নম্বর সংরক্ষিত রয়েছে (www.shahrasti.edu.bd ওয়েবসাইট হতে পাওয়া যাবে)। সেখান থেকে বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে ফোন করে ৫টি প্রশ্ন করা হয়। সবগুলি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে তার জন্য ছোট ছোট পুরস্কার প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। (এটি আগামী মাসের ১০ তারিখ হতে পুরোপুরিভাবে চালু করা হবে)। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণ জ্ঞান অর্জনসহ লেখাপড়ার বিষয়ে ইতিবাচক মানসিকতা ও প্রতিযোগিতা তৈরি হবে বলে বিশ্বাস।

কলসেন্টারকে আরো বিবিধ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই গ্রুপের সম্মানিত সদস্যদের মূল্যবান মতামত এবং পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের পর যাতে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সে বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্য স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীরউত্তম) মহোদয়, জেলা প্রশাসক জনাব আব্দুস সবুর মন্ডল সহ শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জনাব দেলোয়ার হোসেন মিয়াজি ও সকল বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: