সর্বশেষ আপডেট : ১৫ মিনিট ২৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মেয়েটাকে মেরে ফেলো না, অন্তত বাঁচিয়ে রেখো’

full_1433701712_1466791925ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে সিরিয়ার বিবাহযোগ্য নারীদের ৭০ শতাংশই স্বামী সংকটে ভুগছেন।

সিরিয় এক নারী শুকরান বলেন, যথাযথ একজন স্বামী পাওয়াটা এখন প্রায় পুরোপুরি অসম্ভবই হয়ে পড়েছে। প্রেমিক জোটানো খুব একটা কঠিন না হলেও উত্তোরত্তর বেড়ে চলা সাম্প্রদায়িকতা ও গোষ্ঠীতন্ত্রের কারণে নিজ ধর্ম বা নৃগোষ্ঠেীর বাইরে বিয়ে করাটা একটি জঘন্য ঘৃণ্য কর্ম হিসেবে গণ্য হয়।

সম্প্রতি শুকরানের সঙ্গে তার প্রেমিকের বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। কারণ শুকরানের প্রেমিক ছিলেন খ্রিস্টান, আর তিনি নিজে একজন মুসলিম।

কারণ হিসেবে জানা যায়, সিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধে নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ পুরুষ। এছাড়া অসংখ্য পুরুষ মৃত্যুভয়ে দেশটি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

সিরিয়ার গ্রামাঞ্চলে পুরুষদের বহুবিবাহ আগে থেকেই ছিল। আর এখন যেন তা আরো জরুরি হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে পণের টাকা ছাড়াই অনেক বাবা তার মেয়েকে যেনতেন স্বামীর হাতে তুলে দিচ্ছেন। শুধু একটাই অনুরোধ- মেয়েটাকে মেরে ফেলো না, খাইয়ে পরিয়ে বাঁচিয়ে রেখো।

এছাড়া টাকার অভাবও একটি বড় কারণ। সিরিয়ার বড় বড় শহরগুলোতে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেও তরুণরা চাকরি পাচ্ছেন না। পাঁচবছর আগে শুরু হওয়া বিদ্রোহের পেছনে এটিও একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। এদিকে সিরিয়ান পাউন্ডের দামও দশভাগ কমে গেছে। সিরিয়ার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি অনুযায়ী একজন পুরুষকে বিয়ে করতে হলে স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য সোনার আংটি দরকার হয়।

বর্তমানে মাত্র এক গ্রাম সোনার দাম ১৭ হাজার সিরিয়ান পাউন্ড (৩৪ ডলার)। একটি আংটি বানাতে গড়পড়তা ১৮ গ্রাম সোনা লাগে। যা এখন কোনো পুরুষের পক্ষে যোগাড় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জারা নামের ২৩ বছর বয়সী এক নারী জানান, তার বন্ধুমহলে এখন প্রতি একজন পুরুষের বিপরীতে নারী রয়েছেন চারজন!

জারা আরো বলেন, ‘১৯৮০-র দশকের শেষদিকে বা ১৯৯০-র দশকের শুরুতে যাদের জন্ম হয়েছে পুরুষদের সে প্রজন্মটি হারিয়ে গেছে’। তারা হয়তো মাত্র পড়ালেখা শেষ করে কোনো কাজে যোগ দিতে চাইছিল আর ঠিক সেই সময়েই চলমান এই সংঘাতের শুরু হয়।

জারা বলেন, ‘আমাদের পুরুষরা সব মরে গেছেন’। আর একজন নারীর জন্য ভালো স্বামী খুঁজে পাওয়াটা সত্যিই কঠিন হয়ে পড়েছে। কেউ যদি কায়ক্লেশে একজন স্বামী যোগাড় করতে সক্ষমও হন তাহলেও দেখা যাবে যে তিনি হয়তো সারাক্ষণই সামরিক পোশাক পরে রয়েছেন। এমনকি কোনো পুরুষের সাক্ষাৎ পাওয়ার পরপরই মনের মাঝে যে চিন্তাটি উঁকি দেয় তা হলো- এরপর কী ঘটতে যাচ্ছে? সে কি পালিয়ে যাবে, নাকি সরকারি সামরিক বাহিনীতে যোগ দিবে? সে যদি সামরিক বহিনীতে যোগ দেয় তাহলে সবকিছুই খুব কঠিন হয়ে পড়বে।

কারণ সামরিক বাহিনীতে কাজ করতে গেলে টানা এক থেকে দুই বছেরেরও বেশি সময় পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মেলে না। আর সে যদি পরিবারের একমাত্র ছেলে হয় তাহলে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে কাজ করার হাত থেকে মুক্তি পেলেও চাকরি পাবে না।

৩৫ বছর বয়সী গুফরান জানান, বেশ কয়েকজন যুবক তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন। এদের বেশিরভাগেরই নজর ছিল তার চাকরি ও বেতনের দিকে। তার অভিযোগ সিরিয়ার যুবকদের বেশিরভাগই মানসিক অবসাদে আক্রান্ত। সন্তান লালন-পালনের জন্য তাদের হাতে কোনো অর্থকড়ি নেই। তারা সবসময় খালি কাজ ও সেনাবাহিনী নিয়ে অভিযোগ করে। ফলে তিনি এদের সাথে নিরাপদ বোধ করি না।

গুফরান জানান, সেনাবাহিনীতে কাজ করে এমন কাউকে তিনি বিয়ে করতে রাজি নন। কারণ একজন সৈনিক মাসে মাত্র তিন থেকে চারদিন ছুটি পায়। সিরিয়ার যুদ্ধের আরেকটি ফলাফল হলো- অল্পবয়সী নারীরা ৫০ বা তারও বেশি বয়সী পুরুষদের শিকারে পরিণত হচ্ছেন। বুড়োরা এখন তরুণীদেরকে প্রেম, যৌনতা অথবা দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন।

গুফরান আরো জানান, দামেস্কের যত তরুণীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে তাদের প্রায় সবার ভাগ্যেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আর কঠোর দারিদ্র ও যুদ্ধপীড়িত রক্ষণশীল সুন্নি মুসলিমদের অবস্থাতো আরো খারাপ। রক্ষণশীল সুন্নী মুসলিমদের এলাকাগুলোর বেশিরভাগই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সেসব এলাকার অবিবাহিত নারীরা আরো অবর্ণনীয় দুর্দশায় রয়েছেন। বিধবারা এনজিও বা জাতিসংঘের দানের টাকায় বেঁচে আছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: