সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক যুগেও ক্ষতিপূরণ পায়নি টেংরাটিলাবাসী

Eসুনামগঞ্জ :: টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এক যুগ পূর্তি আজ (২৪ জুন)। কানাডিয়ান বহুজাতিক কোম্পানি নাইকোর অদক্ষতায় ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় পুড়ে গিয়েছে কোটি কোটি টাকার গ্যাস। সেই সঙ্গে আশপাশের এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীবন ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে।

দেশ ও বিদেশে আলোচিত ওই দুর্ঘটনার এক যুগ পার হলেও ক্ষতিপূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত টেংরাটিলার বাসিন্দারা। চলতি বছরের শুরুর দিকে ৩ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি বিদেশি প্রযুক্তিবিদরা দফায় দফায় গ্যাস ফিল্ড এলাকায় ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপনে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক আদালতে শালিসি মামলা মোকাবেলা করতেই তারা বৈজ্ঞানিক উপায়ে ক্ষয়-ক্ষতির তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। তবে আজ অবধি কেউ কোনো ক্ষতিপূরণ পায়নি।

সূত্রমতে, ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে প্রথম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। আগুনের তাপে গভীর রাতে গ্যাসফিল্ডের প্রডাকশন কূপের রিগ ভেঙে আগুন ২০০ থেকে ৩০০ ফুট ওঠানামা করছিল। এভাবে এক মাসেরও বেশি সময় জ্বলার পর আপনা-আপনি নিভে যায় আগুন।

এরপর দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণ ঘটে একই বছরের ২৪ জুন রাত ২টায়। ঘটনার সময় নাইকোর তরফ থেকে প্রথমে বিপদ-সংকেত বাজানো হয়। পরে রাত ৩টায় লোকজনকে এলাকা ছেড়ে তিন কিলোমিটার দূরে চলে যাবার পরামর্শ দেয়া হয়। রাত সাড়ে ৩টায় দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার সময় কূপ এলাকার তিন কিলোমিটার দূরে অনুভূত হয়েছিল ভূ-কম্পন।

দুই দফা অগ্নিকাণ্ডে গ্যাসফিল্ডে পুড়ে যায় ৩ বিলিয়ন কিউবিক ফুট (বিসিএফ) গ্যাস আর রিজার্ভ ধ্বংস হয় কমপক্ষে ৫ দশমিক ৮৯ থেকে ৫২ বিসিএফ গ্যাস। সেই সঙ্গে আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরিশনগর, কৈয়াজুরি, টেংরাবাজার এবং শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি, গাছগাছালি ও হাওরের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছে বিভিন্ন জরিপ সংস্থা। দুর্ঘটনার পর নাইকো তাদের যন্ত্রপাতি সড়িয়ে নিয়ে গেলেও আজও বুদবুদ করে গ্যাস বেরুচ্ছে পুরো এলাকায়। এলাকাবাসী সেই গ্যাস বিপজ্জনকভাবে ব্যবহার করে ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যায় জর্জড়িত এলাকাবাসী। এছাড়াও আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

নাইকো অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেও এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা। উল্টো ক্ষতিপূরণ না দিতে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। টেংরাটিলার পরিবারগুলো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

সূত্রমতে, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণের জন্য সাড়ে ১২ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে এক আন্তর্জাতিক শালিসের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানির (বাপেক্স) কর্মকর্তারা বলছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সরকার ঢাকার একটি আদালতে মামলা করে। তবে সরকার এখন বিষয়টি নিয়ে লন্ডন-ভিত্তিক শালিসি আদালত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউট বা ইকসিড-এ যাচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: