সর্বশেষ আপডেট : ৫২ মিনিট ১২ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দোয়ারাবাজারে প্রশংসাপত্র বাণিজ্য : প্রতি পত্রে নেওয়া হচ্ছে পাঁচ শ’ টাকা!

image_152831

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি একদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রশংসাপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় অর্থনৈতিক বাণিজ্যের সুযোগ নিচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দোয়ারাবাজারে এবার ১৫২৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২৬৭ জন। তাদের প্রশংসাপত্র প্রদানকালে ধনী, গরীব, অনাথ, মেধাবী সবার কাছ থেকেই বিধি বহির্ভূত ভাবে ইচ্ছেমাফিক অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

উপজেলার কাটাখালি মিতালী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিটি প্রশংসাপত্র প্রদানকালে ৫শ’ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ময়না মিয়া বলেন, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা টাকা নিচ্ছি।

দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিটি প্রশংসাপত্রে নিচ্ছেন ৩শ’ টাকা। প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, পত্রিকায় এসব লেখালেখি করে লাভ কি। যা পারেন তা লিখেন, এসবে কিছুই আসে যায় না।

সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণিতে ২০ টাকা, ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে ৩০ টাকা এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে ৫০ টাকা করে মোট ৫১৯ জন উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘিলাছড়া স্কুল ও কলেজে প্রতিটি প্রশংসাপত্রে নিচ্ছেন ৫শ’ টাকা করে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একই পরিমাণ টাকা নেয়া হচ্ছে।

বগুলা রোছমত আলী রামসুন্দর স্কুল ও কলেজে নেয়া হচ্ছে ৩শ’ টাকা করে। আমবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় নিচ্ছে ২০০ টাকা করে। প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান বলেন, আমরা দু’একশ’ টাকা নিলে আপনারা দেখেন, বড় বড় দূর্নীতি হচ্ছে এসব দেখছেন না।

টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেয়া হচ্ছে ২শ’ ৫০ টাকা করে। মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপটেন হেলাল খসরু উচ্চ বিদ্যালয় নিচ্ছে ২০০ টাকা করে। প্রধান শিক্ষক গোলজার আহমদ বলেন, পাঁচ বছর লেখা পড়া করেছে তারা, তাই আমরা কিছু টাকা নিচ্ছি তাদের কাছ থেকে।

লিয়াকতগঞ্জ স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ নূর আহমদ বলেন, আমরা নির্ধারিত হারে কোনো টাকা নিচ্ছিনা। খুশিমত যে যা দেয় তা নিচ্ছি। বড়খাল স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক নজির আহমদ বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ৫বছর লেখাপড়া করেছে, তাই বিদায় লগ্নে প্রশংসাপত্র প্রদানকালে তাদের কাছ থেকে আমরা কোনো টাকা না নিয়ে বরং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করছি। কিন্তু বাদবাকি বিদ্যালয়গুলোতেও প্রশংসাপত্র নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কমবেশি টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মেহেরুল্লাহ বলেন, প্রশংসাপত্র বাবদ নির্ধারিত হারে টাকা নেয়ার কথা নয়। অবৈধভাবে যারা টাকা নিচ্ছে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ সংক্রান্ত আরো সংবাদ : একাদশে ভর্তি : সিলেটে ডিজিটাল বিড়ম্বনায় মেধাবিরা, সুযোগ নিচ্ছে প্রাইভেট কলেজগুলো

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: