সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২২ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হবিগঞ্জে সেকাল ও একালের ইফতার

Iftar-3নিউজ ডেস্ক :: আব্দুর রহিম দিনমজুর। বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশায়। পরিবার নিয়ে বাস করছেন হবিগঞ্জ শহরে। পরিশ্রমের কাজ করলেও রোজা ভঙ্গ করছেন না তিনি। কাজ শেষে ঘটনাস্থলেই অন্য মজুরদের নিয়ে ইফতারে বসে পড়ছেন। ইফতারে তাদের প্রিয় খাবার মুড়ি আর ছোলা। সাথে পিঁয়াজু থাকে। আর সাদা পানি। খবরের কাগজের মধ্যে মুড়ির সাথে মিশ্রিত করে রাখা ইফতারী সবাই মিলে খান।

আলাপকালে তারা জানালেন- ঘরে কিছু তৈরি করা হয় না। যদিও এক সময় গ্রামে থাকাকালে হরেক রকম পিঠা তৈরি হতো। এখন আর এমনটা সম্ভব হয় না। তাই ছোলা-মুড়িই তাদের ইফতারের একমাত্র উপকরণ। দিনমজুর রহিমের মতো এ শহরের পুরানবাজারের রিক্সাচালক আবুল হাসিমও (৫০) ইফতারে একই খাবার ব্যবহার করছেন। কারণ এসব খাবার তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।

দাউদনগর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এক সময় বাড়ি থেকে খিচুড়ি, পিঠা তৈরি হয়ে আসত। এখন এ ঝামেলায় না গিয়ে বাজারের তৈরি পোলাও দিয়ে ইফতার সেরে নিচ্ছি।

হবিগঞ্জ শহরের বিভিন্নস্থানে গড়ে উঠেছে অভিজাত হোটেল। এসব হোটেলে হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী তৈরি করে রাখা হচ্ছে। অনেকেই বাসায় ঝামেলা না করে হোটেল থেকে তৈরি পোলাও, বিরানী, জিলাপী, বেগুনী, পিঁয়াজু, খেজুরসহ নানান খাবার ক্রয় করে নিয়ে ইফতার করছেন।

জেলার শায়েস্তাগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হোটেল আল সোহাগে ইফতার ক্রয় করতে আসা চাকরিজীবি সুলতান আহমেদ অফিস থেকে ফেরার পথে হোটেল থেকে ইফতারী কিনে বাড়ি ফিরছেন। ইফতারী প্রস্তুতে আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে না তাকে।

হোটেল মালিক খন্দকার বাছির আহমেদ বললেন- দুপুর থেকে পুরোদমে ইফতার সামগ্রী বিক্রি শুরু হয়, চলে ইফতারের শেষসময় পর্যন্ত।

হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৫/৬ বছর আগেও পুরোদমে বাড়িতেই ইফতার সামগ্রী তৈরি করা হতো। এখন সে রেওয়াজটি বদলে গেছে একেবারেই। এখন সবাই যেন হোটেল নির্ভর হয়ে উঠেছে। ইফতারে হোটেলের তৈরি খাবারই বেশি স্থান পাচ্ছে।

আর সেকালে দিনমজুর থেকে অবস্থাপন্ন কমবেশি সবাই ইফতারে বাড়ির তৈরি পিঠা-পায়েস-খিচুড়িই এসব খেতেন। এখন সেকালের ধারা পাল্টে গেছে। লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। মানুষ এখন কর্মব্যস্ত। তাই ইফতার সামগ্রী তৈরির চেয়ে টাকা রোজগারের প্রতিই বেশি মনযোগী।

আলাপকালে স্থানীয় ডাক্তার এমএ ওয়াহাব বললেন, ‘ইফতারে বাড়ির তৈরি নরম খাবার সবচেয়ে ভাল। কিন্তু তাও বাড়িতে তৈরি করতে সমস্যা। তাহলে আর কি করা, হোটেলের খাবার খেতেই হবে।’

তিনি বলেন, ‘হোটেলের খাবার খেয়ে অনেকেই আমাদের কাছে আসছে পেট ব্যথা নিয়ে। এ খাবারে পেটে গ্যাস হচ্ছে।’

জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলার প্রবীণ বাসিন্দা ইদ্রিছ খান বলেন- ‘এক সময়ে পবিত্র রমজান মাস আসলেই বাড়ি বাড়ি তৈরি হতো হরেক রকমের খাবার। এরমধ্যে সবাই খিচুড়ি আর পাটি সাপ্টা পিঠাই বেশি পছন্দ করতেন। আশপাশের বাড়ির সবাই মিলে ইফতার করতেন এক সাথে। একালে পূর্বের অনেক কিছুই পাল্টে গেছে, হারিয়ে গেছে সেকাল।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: