সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বদলে গেছে মান্ধাতা আমলের ভুমি অফিসের চিরাচরিত চিত্র

chhatak news daily sylhetজাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীঃ
ছাতকে বদলে গেছে যুগ যুগ ধরে মান্ধাতা আমলের ভুমি অফিসের চিরাচরিত চিত্র। ভুমি সংক্রান্ত বর্তমান সেবার মান নিয়েও সন্তোষ্টি প্রকাশ করছেন এখানের ভুক্তভোগি শ’ শ’ ভুমি মালিক। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা চাইলে এবং সততা ও কর্তব্য পরায়ন হলে যে কোন দপ্তরের কর্মকর্তা সরকারের ন্যাস্ত দায়িত্ব সেবার মনোভাব নিয়ে মানুষের দোড়গোড়ায় পৌছে দেয়া সম্ভব। এমনই একজন কর্মকর্তা ছাতকের সহকারী কমিশনার(ভুমি) শেখ হাফিজুর রহমান, যার আন্তরিকতা ও দায়িত্বপরায়ন ভুমিকায় বদলে গেছে এখানের ভুমি অফিসের সার্বিক চিত্র।

গত বছরের ২৯সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার(ভুমি) হিসেবে এখানে যোগদান করেন শেখ হাফিজুর রহমান। যেগদানের পর থেকেই ভুমি সংক্রান্ত সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা করে সফল হতে থাকেন এ কর্মকর্তা। পরামর্শ ও সহায়তা নেন সুদক্ষ ইউএনও আরিফুজ্জামানের। ভুমি সেবাকে সহজ ও প্রত্যক্ষ করতে এ কর্মকর্তার বিভিন্ন বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মধ্যে মাটির ছাতা নির্মান অন্যতম। মাটির ছাতা (সেবা নিকেতন) তৈরির মাধ্যমেই ভুমি অফিসের সার্বিক চিত্র পাল্টে দিয়ে তিনি স্থাপন করেছেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যা শত বছরের ইতিহাসেও এখানের ভুমি মালিকরা প্রত্যক্ষ করতে পারেনি। মাটির ছাতা (সেবা নিকেতন)’র আনুষ্টানিক উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার জামাল উদ্দীন আহমেদ।

সহকারী কমিশনার ভূমি শেখ হাফিজুর রহমানের সাথে এ প্রতিনিধির আলাপচারিতায় ভুমি সেবাকে হয়রানীমুক্ত করার বিভিন্ন গৃহীত পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ছাতককে নিয়ে এ কর্মকর্তার রয়েছে নানাবিধ ভবিষ্যত পরিকল্পনা। এখানে দায়িত্ব পালনের শেষদিন পর্যন্ত তিনি মানুষের কল্যানে ও সেবায় কাজ করতে চান। ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিত্তবানদের আর্থিক সহযোগিতায় ছাতকের নাম করনের ছাতার আকৃতির দৃষ্টিনন্দন মাটির ছাতা (সেবা নিকেতন) নির্মান করেন। যার মাধ্যমে সুষ্ট ও সহজভাবে সেবা প্রদানের চেষ্টা করছেন তিনি। এখানে বসে প্রতিদিন তিনি সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘন্টা সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ তাৎক্ষনিক সমাধানের চেষ্টা করা করেন।

সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে তিনি লালন করে ভুমি সেবাকে ডিজিটালইটিজ করতে কাজ করছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন ভুমি অফিসসমুহের প্রাঙ্গনে বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত সিটিজেন চার্টার ও উপজেলা অফিসের প্রবেশ মুখে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। অফিসের যাবতীয় নথিপত্র, বলিয়মসহ কাগজপত্র সাল ভিক্তিক রেক অনুসারে সাজানো হয়েছে। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রেকর্ড রুমের নতিপত্র শ্রেনীবিন্যাস করা হয়েছে। এ ছাড়া রেকর্ডরুম ফাইল চার্চসিং ম্যানেজমেন্ট সিষ্টেম নামক ডিজিটাল এপস তৈরীর প্রক্রিয়া চলছে। যাতে খুব সহজেই একজন ভুমি মালিকের যাবতীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বের করা ও নথি দ্রুত প্রদান করা সম্ভব হবে। রেকর্ডরুমে নথিপত্র কোথায় রয়েছে গ্রাহক তা অন লাইনের মাধ্যমে নিজেরাই দেখতে পারবে।

ভুমি অফিসের সামনে রাখা স্বচ্ছ বক্সের অভিযোগগুলোর ব্যাপারেও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। রিভিউ, নামজারি ও বিবিধ মামলার শুনানীর তারিখ সম্পর্কিত ডিসপ্লে¬ বোর্ড স্থাপন করে মামলার নম্বর, শুনানীর তারিখ ও সময় নিয়মিত লিখে রাখা হচ্ছে। প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের এ২১ প্রকল্পের সহায়তায় ই-মোটেশন কার্যক্রম দ্রুত চালু করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ কর্যক্রমের আওতায় সহকারী কমিশনার(ভুমি)সহ কার্যালয়ের একজন নামজারী সহকারী, সার্ভেয়ার ও একজন ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা দু’দিনের প্রশিক্ষন গ্রহন করেছেন। ভুমি অফিসকে দালালমুক্ত ও হয়রানীমুক্ত রাখা এ কর্মকর্তার একটি বিশেষ পরিকল্পনা। ভুমি খাত থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির নানা পরিকল্পনাও রয়েছে এ কর্মকর্তার।

তবে সর্বক্ষেত্রে এখানের সাধারন মানুষের সার্বিক সহযোগিতা থাকার প্রয়োজনীতার কথাও বললেন তিনি। রাজনৈতিক সচেতন ও প্রবাসী অধ্যুষিত ছাতকের ভুমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ও প্রকৃত ভুমি মালিকদের হয়রানী লাঘব করে ভুমি সেবাকে সার্বোজনীন করার ইচ্ছেও প্রকাশ করলেন তিনি। সাধারন মানুষের কাছে প্রিয় হলেও অপরাধীদের কাছে শেখ হাফিজুর রহমান অত্যন্ত ভয়ংকর। নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হিসেবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তিনি তা ইতিমধ্যেই প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন। ভুমি সেবা সহজ করতে প্রতিদিন অফিস চলাকালীন সময়ে নিজ কক্ষে বসেই সরাসরি ভুমি মালিকদের সকল সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করেন তিনি। ভুমি অফিসের পুরনো ও বিতর্কিতদের সরিয়ে গোটা অফিসই এখন কর্মচাঞ্চল হয়ে উঠেছে।

সৌর বিদ্যুতায়িত উপজেলা ভূমি অফিসে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব-স্ব স্থানে নাম, পদবীসহ দায়িত্ব সংক্রান্ত বিষয়াদি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ডিজিটাল সাইনে। অফিসের বারান্দায় সাটানো রয়েছে ভুমি সেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও গাইডলাইন। ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ কর্মকর্তা সদা সজাগ দৃষ্টি রাখায় ভুমি অফিসের সকল কলংক প্রায় বিলুপ্ত হতে চলছে। বড়কর্তার বদৌলতে ভুমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনেকটা বদলে গেছেন। ভুমি মালিকদের এখন আর দালাল খুঁজতে হয়না। বর্তমানে ভুমি অফিসের দায়িত্বশীলদের আচরন ও সেবায় মুগ্ধ এখানের সাধারন ভুমি মালিকরা।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: