সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুকুরের বিষ্ঠা সংগ্রহ করে মিলিওনার

2016_06_23_14_33_25_5sApjNmgon9oAYt7E8n09TnbSKYqFI_originalফিচার ডেস্ক::প্রতিবার ক্যাথলিন করিডনের সন্তানেরা ঈশ্বরের কাছে একই প্রার্থনা করে। বছর ঘুরে জন্মদিন আসে কিন্তু তাদের প্রার্থনা পূরণ হয় না। তাই যতদিন পর্যন্ত প্রার্থনা পূরণ না হচ্ছিল ততদিন পর্যন্তই চলছিল ক্যাথলিনের সন্তানদের প্রার্থনা। বেশি কিছু না, শুধুমাত্র একটি কুকুরের বাচ্চা চেয়ে তাদের এত প্রার্থনা। দোকান থেকে একটি কুকুরের বাচ্চা কিনে ফেললেই কিন্তু সকল ঝামেলা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও বাচ্চাটি কিনছেন না ক্যাথলিন পরিবার। আর এই কুকুরের বাচ্চা না কেনার কারণটা নিহিত আছে ক্যাথলিনের স্বামীর ক্ষেত্রে। স্বামী প্রায় ৪০ বছর ডাকপিয়ন হিসেবে কাজ করেছেন এবং এই কাজ করতে গিয়ে কয়েকবার কুকুরের কামড় খেয়েছেন তিনি। আর সেই থেকেই তিনি কুকুরদের একেবারেই সহ্য করতে পারেন না।

শেষমেষ বাচ্চাদের বয়স যখন বারো বছরের কাছাকাছি তখনই ক্যাথলিন তাদের সন্তানদের একটি কুকুর কিনে দেয়। নিউজার্সির মনমথ অঞ্চলে কুকুর কেনা খুব একটা সহজ নয়। একজনের কুকুর যদি অন্য কোনো পরিবারের ক্ষতি সাধন করে তাহলে ওই কুকুরের মালিক পরিবারটির বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত হয়। তাই করিডন পরিবার কুকুর কিনে দেবার সময় বাচ্চাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করান যে, বাড়ির পেছনের বাগানে যেন কুকুরের ফেলে যাওয়া কোনোকিছুই না থাকে। কিন্তু সেই প্রতিজ্ঞা এক মাসের বেশি টেকেনি। কী আর করা, শেষমেষ সন্তানদের সাপ্তাহিক হাত খরচের টাকা থেকে সপ্তাহে ৯ ডলারের বিনিময়ে একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় করিডন পরিবার। ওই কোম্পানিটি নিয়ম করে কুকুরের মল থেকে শুরু করে অন্যান্য সবকিছু পরিস্কার করে নিয়ে যায়।

ডুডি নামের এই প্রতিষ্ঠানটি ২০০১ সালে নিউজার্সিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ম্যালি অ্যালেন জানান, বর্তমানে তার কাছ থেকে সেবা নিচ্ছেন মোট সাড়ে চারশ পরিবার। গোটা আমেরিকার ইতিহাসে ডুডিই সর্বপ্রথম কোম্পানি যারা কুকুরের মল পরিস্কার করার কাজটি অন্যের হয়ে করে দেয়। পরবর্তীতে উত্তর আমেরিকাতেও এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে বলে জানা যায়। ব্যবসার উপাদানটি অস্বস্তিকর হলেও এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, নিয়মিত বেশ ভালো পরিমান অর্থই উপার্জন করে ওই কোম্পানিগুলো। তবে কোম্পানিগুলো কিন্তু শুধু মল সংগ্রহ করেই ক্ষ্যান্ত দেয় না। মানুষের মল থেকে শুরু করে পশুর মল থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। যারা এই কাজ করেন তাদের কাছে সেই মলগুলো বিক্রি করে দিয়ে আবারও মুনাফা করেন ডুডির মতো কোম্পানিগুলো।

২০০৮ সালের দিক থেকেই এই ব্যবসায় নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছিল বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের খরচে কুকুরদের ডিএনএ পরীক্ষা করে দেয়ারও ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালে মূলত বায়োপেট ভেট ল্যাব নামের একটি প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিকল্পনা নিয়ে আসে। তারা এমন একটি খেলনা তৈরি করে যা দিয়ে কুকুরদের বিষ্ঠা বা মল থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করা যাবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্য ছাড়াও কানাডাসহ আরও কয়েকটি দেশে এই খেলনা পাঠাতে হচ্ছে কোম্পানিটিকে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশেই রাস্তায় কুকুর বা অন্য কোনো পশুর মলমুত্রকে জরিমানার দৃষ্টিতে দেখা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনেক পরিবারকে এক কুকুরের জন্য দেখা গেছে বছরে তিন থেকে চারবার জরিমানা দিতে হয়। আর প্রতিবারই জরিমানা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। এসব দিক বিবেচনায় অনেকেই কুকুরের মল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হচ্ছেন বাধ্য হয়ে। তবে আরও কিছু দিক আছে যে কারণেও এই প্রতিষ্ঠানকে এখন বেশ জরুরী বলে মনে করছেন কুকুর মালিকেরা। বিভিন্ন অ্যাপার্টমেন্ট দালানে অনেক মানুষ একত্রে বাস করার কারণে একের কুকুর অন্যকে জ্বালাতন কিংবা কামড়ে দেবার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে কুকুরটির কোনো রোগ আছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করতে হয় মালিককে। তাইতো কোম্পানিগুলো মালিকদের ডিএনএ পরীক্ষা সুবিধা দিয়ে থাকে এবং ওই কুকুরটির একটি প্রোফাইলও তৈরি করে দিয়ে যায়। যাতে কেউ কোনো প্রমাণ ছাড়াই কুকুরের প্রতি অভিযোগ তুলতে না পারে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: