সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষে বাংলাদেশ হয় কি করে ?

mqdefaultব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকবে কি থাকবে না এই লক্ষে আজ সে দেশের জনগণ ভোট প্রধান করছে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পূর্বে জয় পরাজয়ের কথা সঠিক করে বলা কঠিন। কারণ এপর্যন্ত প্রকাশ হওয়া বিভিন্ন জরিপ পরিসংখ্যান অনুসারে পার্থক্য খুব একটা বেশি নয় বলে জানা যায়। সুতরাং লড়াইটা হবে শেয়ানে শেয়ানে।

তবে ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গেলে সবচেয়ে লাভবান হবে বাংলাদেশ সহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। কারণ তখন তারা ইউ ইউর বাধা ধরা নিয়ম থেকে সরে এসে সরাসরি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাহিরে গিয়ে বাণিজ্য করার সুযোগ পাবে। সেই সাথে বাংলাদেশ সহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য ব্রিটেনে তাদের রফতানী বাজার বৃদ্ধি পাবে। মোটকথা লাভবান হবে ব্রিটেন লাভবান হবে তৃতীয় বিশ্ব।

মিডিয়ার মতে ব্রিটেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বেরহয়ে গেলে সবচেয়ে ক্ষতি হবে জার্মানির। বর্তমানে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তর রফতানীর বাজার হলো ব্রিটেন। এই কারণে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জার্মানের শিল্প প্রতিষ্ঠান সহ বাণিজ্যিক মহল এখন খুবই উৎকণ্ঠায় সময় অতিবাহিত করছে। অন্যদিকে ব্রিটেনের সাধারণ মানুষ ই ইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে বলে জানা যায়।

বিশেষ করে দেশের বামপন্থী রাজনৈতিক দল সহ বিভিন্ন দলের ভেতরে থাকা প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের মতে, এখন সময় এসেছে ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার।

এছাড়া ব্রিটেনে বসবাসরত বেশিরভাগ বহিরাগতরাও চান ই ইউ সাথে ব্রিটেনের সম্পর্কছেদ। এর প্রধান কারণ পোল্যান্ড ,হাঙ্গেরি সহ ইস্ট ইউরোপের দেশগুলো থেকে অশংখ্য নাগরিক ব্রিটেনে প্রবেশের কারণে চাকুরীর বাজারে মন্দা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন কাজ এসকল দেশ থেকে আসা নাগরিকরা খুব অল্পমূল্যে করাতে স্থানীয় ব্রিটিশদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রিটেন ই ইউ তে থাকবে কি থাকবে না বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্রিটিশদের মতামতের উপর নির্ভর করবে। এখানে বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লন্ডনে এসে এক সভায় বাংলাদেশী ব্রিটিশদের ই ইউর পক্ষে ভোট প্রধানের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

অনুরোধটি ব্যক্তিগতভাবে হলে কোনো কথা ছিল না। কিন্তু তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনের কোথাও এখানে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশের সরকারের একজন মন্ত্রী হিসেবে সৈয়দ আশরাফের এধরণের বক্তব্য দেওয়া যুক্তিসঙ্গত কি না প্রশ্ন আসতে পারে।

এই নির্বাচনকে নিয়ে ব্রিটেনের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে রয়েছে মতানৈক্য। এমনকি বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেও রয়েছে বিভক্ততা। এমন পরিস্থিতি বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঠিক নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে ব্রিটেনের ই ইউর ভেতরে থাকার পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য তিনি স্থানীয় ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেন ব্রিটেন ই ইউএ ভেতরে থাকলে বাংলাদেশ হবে লাভবান। আসলেই কি তাই? বাংলাদেশের পণ্য রফতানীকারী প্রতিষ্ঠানরাই একমাত্র বলতে পারবেন বাণিজ্যক্ষেত্রে ই ইউ আসলে তাদের কি বাধা ও ক্ষতির সৃষ্টি করেছে।

এদিকে বাংলাদেশের কিছু কিছু সংবাদপত্রে এসেছে ই ইউর পক্ষে বাংলাদেশ। কিন্তু আমি বলবো ই ইউর পক্ষে গোটা বাংলাদেশ নয়। সরকার হলেও হতে পারে। কিন্তু এজন্য গোটা বাংলাদেশ বলাটা কি ঠিক হবে? ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কি কারণে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং তাতে লাভ ক্ষতি কাদের হয়েছে বিষয়টি আমাদের ভালো করে জানা উচিত। প্রতিটি দেশ ইউ ভুক্ত হওয়ার পূর্বে স্ব স্ব দেশে হয়েছে গণভোট। এইসময় বড় বড় শিল্পপতিরা তাদের নিজেদের স্বার্থে অর্থ ঢেলেছে ই ইউ প্রচারণার পক্ষে।

তবে সব দেশেই বামপন্থী দলগুলো সহ প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষ ই ইউ প্রতিষ্ঠা এবং নিজ দেশের অন্তর্ভুক্ততার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি প্রধান কারণ হলো তৃতীয় বিশ্বের সাথে ইউরোপীয় দেশগুলোর একটি প্রাচীর যেন সৃষ্টি করা না হয়। কারণ তাহলে রফতানী ক্ষেত্রে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোকে হারাতে হবে এক বিরাট রফতানী বাজার।

বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নিয়ম অনুসারে কোটাভিত্তিক রফতানী করার সুযোগ রয়েছে। তাও আবার বাধা ধরা নিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। এসকল বিভিন্ন কারণে ব্রিটেনের বামপন্থী, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল সহ বিভিন্ন দলের ভেতরে থাকা রাজনীতিবিদদের আশা আজকের ভোটের ফলাফল যেন ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে আসার পক্ষে পরে। পরিশেষে বলা যেতে পারে ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে থাকার পক্ষ অবলম্বন করে বাংলাদেশ আসলেই কি কোনো লাভ আছে? আমিতো দেখছি শুধু ক্ষতি। আর তাই যদি হয় তাহলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পক্ষে বাংলাদেশ হয় কি করে?

লেখক : মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, নির্বাচিত সভাপতি সুইডিশ লেফট পার্টি স্টকহোল্ম হেসেলবি ভেলেংবি ব্রাঞ্চ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: