সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

একাদশে ভর্তি : সিলেটে ডিজিটাল বিড়ম্বনায় মেধাবিরা, সুযোগ নিচ্ছে প্রাইভেট কলেজগুলো

HSC_Admission_dailysylhetশুয়াইব হাসান :: এসএসসি পরীক্ষায় সিলেটের প্রথম সারির একটি স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ‘জিপিএ ৫’ পেয়েছে জামিল। শহরের স্বনামধন্য কলেজগুলোর যেকোন একটিতে ভর্তির স্বপ্ন দেখছে সে। এজন্য অনলাইন আবেদনেও পছন্দক্রম দিয়েছে সিলেট এমসি কলেজ, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট কলেজসহ ৪টি প্রতিষ্ঠান।

ভর্তির প্রথম মেধা তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানে অপেক্ষমান তালিকায় রয়েছে জামিল। কিন্তু, অবাক করার মতো কান্ড। যে প্রতিষ্ঠানটি তার পছন্দক্রমে ছিল না, এমন একটি কলেজে বিজ্ঞান অথবা মানবিক বিভাগে ভর্তির জন্য এসএমএস এসেছে তার মুঠোফনে!

এভাবে জামিলের মতো সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে পড়ার মতো অবস্থা। কে বা কারা এই পছন্দক্রম যুক্ত করে দিয়েছে অথবা কিভাবে এটা করেছে সে ব্যাপারে কেউ কিছুই জানে না তারা।

এমন কারসাজির ফলে উজ্জল ভবিষ্যত নিয়ে কোমলমতি মেধাবি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে, কিছু অসাধু প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে মেধাবিদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সংগ্রহ করে তাদের অনুমতি ছাড়াই পছন্দক্রমে নিজেদের প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে দিয়েছে।

গত ১৬ জুন একাদশে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষাবোর্ড। এ তালিকা অনুযায়ী ২২ জুন বুধবার ছিল ভর্তির শেষ দিন। ২৪ জুন অপেক্ষমানদের দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা স্কুলের ‘এ প্লাস’ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সংগ্রহ করে সিলেট নগরীর বেশ কিছু প্রাইভেট কলেজ। তারা পছন্দক্রমে কৌশলে নিজেদের প্রতিষ্ঠান যুক্ত করে দেয়। অথচ, শিক্ষার্থীরা জানেই না ‘কিভাবে ওই প্রতিষ্ঠান তার পছন্দক্রমে সংযুক্ত হলো?’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার সিলেটের প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। মেধাবিদের প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় প্রথম সারির কলেজগুলোতে স্থান করে নিয়েছেন ‘গোল্ডেন এ প্লাস’ প্রাপ্ত ও মোট সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।

সিলেট এমসি কলেজ, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, স্কলার্সহোম কলেজ, মদনমোহন কলেজকে যারা পছন্দক্রম দিয়েছে, তারা অনেকে অপেক্ষামান তালিকায় রয়েছে।

এই সুযোগ নিচ্ছে নিম্নমানের কোন কোন প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভূক্ত করায় প্রথম মেধা তালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানটি চলে এসেছে। এতে তারা শিক্ষা বাণিজ্যেরও সুযোগ পাচ্ছে।

হাসনা আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন- এসএসসি’র ফলাফল প্রকাশের পর একটি প্রাইভেট কলেজের পক্ষ থেকে ‘এ প্লাস’ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। তিনিও সে সংবর্ধনায় গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে তাদের রোল নাম্বার ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সংগ্রহ করে কলেজটি। কিন্তু, তিনি তার অনলাইন আবেদনে ওই কলেজকে পছন্দক্রমে রাখেননি। অথচ, মেধা তালিকা প্রকাশের পর তিনি জানতে পারেন তার পছন্দক্রমে ওই কলেজটি রয়েছে।

এমনও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে মেধাবিদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার সংগ্রহ করেছে প্রাইভেট কলেজগুলো। বিষয়টি জানতে পেরে শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এই ভয়ে শিক্ষার্থীরা সরাসরি অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছে না।

সিলেট শিক্ষাবোর্ডের সেকশন অফিসার আবুল কালাম বলেন, ‘এরকম দু’তিনশ’ অভিযোগ আমরা পেয়েছি। শিক্ষার্থীর রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বার কারো জানা থাকলে যে কেউ পছন্দক্রম দিতে পারে। তবে, শিক্ষার্থীর পূর্বানুমতি ব্যতিত এটা প্রত্যাশিত নয়।’

তিনি বলেন, ‘কোন প্রতিষ্ঠান এমনটা করে থাকলে এবং ভোক্তভূগিরা লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তবে, এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কিছু নেই জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘মেধাক্রমে পিছিয়ে থাকলে যেকোন শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয়-তৃতীয় সারির প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। আর অপেক্ষমান তালিকায় থাকলে তাকে ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না হলেও চলবে। কেউ ভর্তি হওয়ার পর দ্বিতীয় মেধা তালিকায় পছন্দের অন্য প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেলে টিসি নিয়ে সেখানে ভর্তি হতে পারবে।’

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন- এসব কারণে তারা হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এই সুযোগে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলো মোট অংকের বাণিজ্যের সুযোগ পায়। কারণ, কেউ ভর্তি হয়ে টিসি নিতে চাইলে তাকে সহজে ছুটি দেয়া হয় না। অন্যদিকে, বিশাল অংকের যে ভর্তি ফি নেয়া হয় সেটি ফেরত দেয়ার কোন নির্দেশনা নেই শিক্ষাবোর্ডের।

গত ২০১৫-১৬ সেশনে ভর্তি হওয়া এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘আমার ছেলে নগরীর একটি প্রাইভেট কলেজে ভর্তি হয়। দ্বিতীয় মেধাতালিকায় সে প্রথম সারির কলেজে সুযোগ পেলে টিসি আনতে যাই। দু’দিন চেষ্টার পর শেষ সময়ে অর্থাৎ, ভর্তির সময়সীমার দেড় ঘন্টা বাকি থাকতে টিসি দেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। যে কারণে আমি, আমার ছেলে ও গোটা পরিবার ভর্তি নিয়ে অনিশ্চিয়তায় ছিলাম। তবে, শেষমেশ রক্ষা পাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট শিক্ষাবোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘ভর্তির পর কোন শিক্ষার্থী অন্য কলেজের মেধাতালিকায় সুযোগ পেলে তাকে চাহিবামাত্র টিসি দিতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠান না দিলে এবং এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে শিক্ষাবোর্ড যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’

নতুন পদ্ধতিতে এবং ডিজিটাল পদ্ধতির সুবাদে শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা যেমন সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি পদ্ধতিগত দুর্বলতার কারণে হয়রানি ও দুর্ভোগে পড়ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কিছু অসাধু শিক্ষা ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ নিচ্ছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের যথাযথ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: