সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘একটি চক্র আদর্শগত কারণে মাদ্রাসার সুনাম ও উন্নতি বাধাগ্রস্থ করতে চাচ্ছে’

2. daily sylhet press confarenceডেইলি সিলেট ডেস্ক : সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর মডেল ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শুয়াইবুর রহমানের বিরুদ্ধে অবাস্তব, বানোয়াট ও মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদ করেছেন মাদ্রাসার অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তারা বলেছেন, গুটি কয়েকজন লোক মাদ্রাসার সুনাম ও অগ্রগতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা আদর্শগত কারণে মাদ্রাসার সুনাম ও উন্নতি বাধাগ্রস্থ করতে চাচ্ছে। ওই মহলটি মাদ্রাসায় টানানো বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়েও বিরোধীতা করে আসছে। ২২ জুন বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত জড়াকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ভাদেশ্বর মডেল ফাজিল মাদ্রাসার অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন মো. ফরিদ আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে মো. ফরিদ আহমদ উল্লেখ করেন, ১৩ জুন সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন, ওলিউর রহমান নামের এক ব্যাক্তি। মূলত তিনি একজন টাকার ব্যবসায়ী। নিজেকে কখনো জামায়াতে ইসালামী কখনো তাবলিগ জামায়াতী বলে দাবি করেন। তিনি মাদ্রাসার দাতাও নয়, অভিভাকও নয় কিংবা উন্নয়ন কর্মকান্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততাও নেই। মাদ্রাসা প্রধান, মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বিরোধীতা করাও তার ‘পারিবারিক ঐতিহ্য’? তিনি কিছু লোককে ভুল বুঝিয়ে সহজ সরল লোকদের মাদ্রাসার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহন করান।
বক্তব্যে বলা হয়, ১৮৭২ সনে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি বিদ্যাপীঠ ভাদেশ্বর মডেল ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে মাওলানা শুয়াইবুর রহমান যোগাদানের পর এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদ্রাসটি সার্বিক দিক দিয়ে আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি যোগদানের সময় মাদ্রাসার ছাত্র সংখ্যা ছিল অপ্রতুল, পাশের হার ছিল নি¤œমুখি, তহবীল ছিল সামান্য, ছিল অবকাটামোগত সমস্যা। তার যোগদানের পর সকলের সহযোগিতায় এসকল অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটি আলিম থেকে ফাজিল শ্রেণিতে উন্নতিসহ প্রতিষ্ঠানটি দেশের ৩২টি মডেল মাদ্রাসার অন্যতম। ২০১২ সালে মাদ্রাসাটি আলিম ফলাফল মূল্যায়নে সিলেট বিভাগের ২০টি সেরা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হয়। মাদ্রাসার সার্বিক দিক বিবেচনা করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মাদ্রাসাকে মডেল ঘোষনা করে কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার এবং গ্রন্থাগার স্থাপন করেন। প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে সাধারণ বিভাগের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও কম্পিউটার বিভাগ চালু রয়েছে। অথচ সংবাদ সম্মেলন করে মাদ্রাসায় ম্যানেজিং কমিটি নেই, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাত, প্রথম শ্রেণি না থাকা, বেতন ও পরীক্ষার ফি আদায়ে রশিদ না দেওয়া, ক্যাশ বইতে আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ না হওয়া, আরবি প্রভাষক ইউনুছ আহমদকে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তের কথা উল্লে¬খ করা হয়। যা মিথ্যা ও অপপ্রচারের শামিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওলিউর ও তার সহযোগিরা মাদ্রাসার আদর্শের পরিপন্থি নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি সর্বপ্রথম জেলা প্রশাসক বরাবরে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে। একই সালের ৯ জুন তদন্তকর্মকর্তা ওই সকল অভিযোগের সত্যতা পাননি মর্মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রথম দফায় ব্যর্থ হয়ে ২০১৪ সালে আবার নামে বেনামে একই অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে করা হয়। তা আমলে নেয়নি উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু তারা থেমে থাকেনি। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আবার ঘুরিয়ে পেছিয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তওে আবেদন করে তারা। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করান গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তদন্ত শেষে উভয় পক্ষকে ডেকে ২০১৬ সালের ১ ফেব্র“য়ারি তার কার্যালয়ে শুনানী করেন নির্বাহী কর্মকর্তা। শুনানীকালে তারা কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। পরবর্তীতে তিনি ১৩ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন ও অধ্যক্ষ’র দাখিলকৃত কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় কোনো অভিযোগ প্রমানিত হয়নি মর্মে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে অধ্যক্ষকেও অবহিত করা হয়।
গত ১৩ জুন সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে মাদ্রাসার শুভানুধ্যায়ীরা জানান, ওই মহলটি নিজেদের ফায়দা হাসিল করতে না পেরে তারা মাদ্রাসার উন্নতি ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্থ করছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে তার মানহানি করছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করছে। শুধু তাই নয়, সরকারি সীদ্ধান্ত মোতাবেক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি টানানোর সমালোচনা করে ওরা এলাকার লোকজনকে মাদ্রাসা বিদ্ধেষি করে তোলার অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত্র না হওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সবকিছুর উর্ধে রেখে আন্তরিকতার সাথে মাদ্রাসার কল্যানে এগিয়ে আসার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান মাদ্রাসার শুভানুধ্যায়ীরা।
আরবি প্রভাষক মাওলান ইউনুছ ছাড়পত্র নিয়ে মাদ্রায় যোগদান করেছেন দাবি করে বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বিধিমত মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি রয়েছে। অধ্যক্ষের প্রথম শ্রেণি ও তার অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা বিবেচনা করেই নিয়োগ কমিটি বিধিমত নিয়োগ প্রদান করেছে। সম্পূর্ণ অবৈতনিকভাবে পরিচালিত মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের বেতন নেওয়া বা রশিদ প্রদানের প্রশ্নই উঠেনা। সেশন ফিসহ অন্যান্য ফি রশিদের মাধ্যমেই আদায় করা হয়। আলাদা অর্থ উপ কমিটির মাধ্যমে ওয়াজ মাহফিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব করা হয়ে থাকে। এছাড়া মাদ্রাসা অধ্যক্ষ ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক একাউন্ট পরিচালিত হয়। এখানে অধ্যক্ষের টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে অর্ধশতাধিক লোকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অভিভাক আজির উদ্দিন, মহরম আলী, আলহাজ হেলাল উদ্দিন, ছাতিক আহমদ, মো. হেলাল আহমদ, ময়ুর মিয়া, সাইদ আহমদ ইউপি সদস্য, হাফিজ আমিনুর রহমান, মওদুদ আহমদ দুদু, জাকির আহমদ, সাইফুল ইসলাম, সাদিকুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, জামিল আহমদ, রুবেল আহমদ, রেহান আহমদ, ছাত্র প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম, হোসাইন আহমদ, আমান উল্লাহ, জাহেদ খান, হামিদুজ্জামান, জামিল আহমদ, নাহিদ আহমদ, রিয়াদ আহমদ, আব্দুল ওয়াহিদ, আবু জাফর প্রমুখ

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: