সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেট উপশহরে প্রিপেইড মিটারে চলছে তুঘলকী কারবার

untitled-47_147627মোঃ মিজানুর রহমান ::

আমি সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা। বিগত প্রায় একযুগ ধরে আমরা স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক প্রতিস্থাপিত প্রিপেইড মিটার সিস্টেমে আমাদের ব্যবহার্য বিদ্যুতের অগ্রিম বিল দিয়ে আসছি। বিদ্যুতের মিটার কারসাজি, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বন্ধকরণ ইত্যাদিসহ বেশ কিছু সুবিধার জন্য বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম চালু হয়েছিল বেশ ক’বছর আগে। কিন্তু এর সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের অনেক ভোগান্তির ইতিহাস।
প্রথমত প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে (শুধু অফিসিয়াল কার্যদিবসে) সকাল ৯:৩০টা থেকে বিকাল ৩:৩০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছে।

শাহজালাল উপশহরস্থ এ-ব্লকের একটি চার তলা বাসার চার তলায় ওঠতে হবে। শুক্রবার ও সরকারী ছুটির দিন হলে অফিস বন্ধ। এখন বিদ্যুতের নিরবিচ্ছিন্ন প্রয়োজনে বাসায় সরকারী ছুটির দিনে বিদ্যুৎ শেষ হয়ে গেলে পরবর্তীতে অফিস না খোলা পর্যন্ত বিদ্যুতবিহীন থাকতে হবে। আর অফিসে কাউন্টারে বসে থাকা লোকজনের আচরণ দেখলে মনে হয় তারা একেকজন জমিদার পরিবারের সদস্য। আমরা যেন প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভুল করেছি। এটা এখন আমাদের সমস্যা। কাস্টমার সার্ভিসের কোন বালাই নাই। কোন হটলাইন নাই যে একটু খবর বা তথ্য নেয়া যেতে পারে। কখনো কখনো বিদ্যুতের ডিফল্ট কিলো বাড়ানোর জন্য ঐ অফিসে বসে থাকা দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়। কিন্তু প্রথম দফায়ই উনি না করে দেবেন, কিন্তু টাকা দিলে ঠিকই কিলো বাড়িয়ে দেন। প্রতি কিলোতে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা, ক্ষেত্রবিশেষে এই রেট আরো বাড়তে পারে। এটা যেন এক অলিখিত নিয়ম। সবকিছু মিলিয়ে প্রিপেইড মিটার সিস্টেমে চলছে তুঘলকী কারবার।

প্রিপেইড মিটার সিস্টেমে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও অসুবিধার কথা বিবেচনা করে নিম্নে আমি কতিপয় প্রস্তাবনা তুলে ধরলাম।

১) প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুৎ কেনার জন্য সপ্তাহের ৭ দিনই এমনকি সরকারী ছুটির দিনও বিশেষ ব্যবস্থায় অফিস খোলা রাখতে হবে যাতে গ্রাহকরা স্বাধীনভাবে প্রয়োজন মাফিক বিদ্যুৎ কিনতে পারেন।
২) বৃদ্ধ ও মহিলা গ্রাহকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রিপেইড বিদ্যুৎ বিক্রয়ের বর্তমান অফিসটি চারতলা ভবন থেকে আশেপাশের কোন একতলা বাড়ীতে স্থানান্তর করতে হবে।
৩) সরকারী ছুটি বা অনিবার্য কারণবশতঃ অফিস বন্ধ রাখতে হলে প্রিপেইড মিটার সিস্টেমে কমপক্ষে ২০ ইউনিট ইমার্জেন্সী বিদ্যূৎ ক্রয়ের সুযোগ রাখতে হবে যা গ্রাহকের পরবর্তী রিচার্জ থেকে সমন্বয় করে নেয়া যেতে পারে।
৪) একটি গ্রাহক সেবা হটলাইনের ব্যবস্থা রাখতে হবে যেন গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটার সিস্টেম সংক্রান্ত কোন প্রয়োজন বা অভিযোগ জানাতে পারেন।
৫) কিলো বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট চার্জ যা সরকারী ভাউচারের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যাবস্থা করতে হবে।
৬) প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড বা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরন সাপেক্ষে এক মিটার থেকে অন্য মিটারে ইউনিট ট্রান্সফার সিস্টেম চালু করতে হবে।
৭) বিদ্যুৎ বিক্রয় কর্মীদের গ্রাহকসেবার মান বাড়ানোর স্বার্থে যথাযথ জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।

আশা করি প্রিপেইড মিটার সিস্টেমে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও অসুবিধার কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত দাবীগুলো সদয় বিবেচনাপূর্বক আশু বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করবেন।

ভূক্তভোগীদের পক্ষে
মোঃ মিজানুর রহমান
ব্লক-ই, শাহজালাল উপশহর, সিলেট।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: