সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বড়লেখায় সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দের টাকা প্রকল্প কর্মকর্তার পকেটে!

34292e3f-fc0a-41cb-bf21-7479db379a02জালাল আহমদ :: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গত অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রণাবেণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দকৃত টাকা লুটপাট ও নি¤œমানের সোলার স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা পিআইও অফিস ও শাসক দলের কতিপয় নেতাকর্মীর যোগসাজসে বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ায় সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের আসল উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রণাবেণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় সাধারণ খাতে ৭১ প্রকল্পে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ২৫ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৬ টাকা ৭৩ পয়সা নগদ অর্থ উপ-বরাদ্দ প্রদান করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। গত বছরের ২৫ মে জেলা প্রশাসক ইউএনও’র নিকট বরাদ্দের তালিকা প্রেরণ করেন। তালিকার ৭১ প্রকল্পের মধ্যে ৩১ প্রকল্পই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বাড়িতে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য।
বরাদ্দকৃত সোলার প্যানেল উপজেলার হাওর তীরবর্তী একটি এলাকায়ই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে দেখিয়ে টাকা লুটপাট করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে গড়ে উঠা অসাধু সিন্ডিকেট বরাদ্দের অর্ধেকের চেয়েও কম দামে নিম্নমানের সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে দেখিয়ে সিংহভাগ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ফলে লুটপাট জায়েজ করতে কিছু স্থানে সোলার প্যানেল স্থাপনের ২-৩ মাসের মধ্যে তা বিকল হয়ে গেছে। এছাড়া অনেক মসজিদ-মাদ্রাসায় এলাকাবাসীর দান-খয়রাতে স্থাপিত সোলার প্যানেলও সরকারি বরাদ্দে স্থাপিত দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। বরাদ্দ তালিকার ৫৭ নম্বর প্রকল্প অনুযায়ী, সুজানগর ইউনিয়নের উত্তর পাটনা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় সোলার প্যানেল স্থাপনে বরাদ্দ দেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। বরাদ্দের এক বছর পরও সরেজমিনে গিয়ে সোলার প্যানেলের অস্তিত্বই খোঁজে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা সাইদুর রহমান জানান, তার মাদ্রাসার নামে সোলার প্যানেল বরাদ্দের খবর তিনি কিংবা মাদ্রাসা কমিটির কেউ-ই জানেন না।
৬০ নম্বর প্রকল্পে সালদিগা ক্যাডেট মাদ্রাসায় সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ২০ হাজার টাকা। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম জানান, তার মাদ্রাসায় সরকারি কোনো সোলার প্যানেল স্থাপন হয়নি। সম্প্রতি প্রবাসীদের আর্থিক সাহায্যে একটি সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন। এটিকে হয়তো কেউ সরকারি দেখিয়ে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছে। উত্তর সুজানগর মাজুম বাড়ি মসজিদ কমিটির সভাপতি এবিএম শহীদ আহমদ চৌধুরী ও সম্পাদক আখলু মিয়া জানান, তাদের মসজিদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে তারা শুনেছেন। কিন্তু তা তারা আজও পাননি।
উত্তর সুজানগর নতুন মসজিদে ১২-১৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি সোলার প্যানেল থাকতে দেখা গেছে। কিন্তু বরাদ্দ তালিকার ৫৮ নম্বর প্রকল্পে দেখা গেছে, এ মসজিদে সোলার স্থাপনের জন্য ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আ’লীগের এক শীর্ষ নেতা জানান, অখ্যাত সোলার কোম্পানীর সাথে গোপন চুক্তি করে নি¤œমানের সোলার স্থাপন করে সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নামে-বেনামে সোলার স্থাপন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। অনেক স্থানে নিম্নমানের কিছু সোলার স্থাপন করায় অল্পদিনেই তা নষ্ট হয়ে গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজাদের রহমান জানান, অতীতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যূতি হলেও এখন আর এসবের সুযোগ নেই। তবে একেবারেই সোলার প্যানেল না লাগিয়ে বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তার জানা নেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: