সর্বশেষ আপডেট : ২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বরাষ্ট্র ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে সতর্কবার্তা

031617Pic-172নিউজ ডেস্ক: অনলাইনের মাধ্যমে গোয়েন্দাদের ব্যবহার করা ডিভাইস সাধারণ বাজারে অবাধে বিক্রি হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে স্পাই ক্যামেরাযুক্ত কলম, ডিজিটাল টেবিল ক্লথ, চশমা, চাবির রিং, হাতঘড়ি, আইডি কার্ড ইত্যাদি। এসব গোপনীয় ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস অপব্যবহারের মাধ্যমে দেশের মধ্যে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর আশংকা রয়েছে।
পাশাপাশি বিভিন্ন সাইটে গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের ব্যবহৃত গোপনীয় এবং স্পর্শকাতর ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পণ্য তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব পণ্য বাজারে বিক্রি বন্ধে ৬ ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সম্প্রতি দেশের শীর্ষ এক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে বর্তমানে কয়েক শত অনলাইন রয়েছে যারা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বিক্রি করছে। কলম, জামার বোতাম থেকে শুরু করে বাড়িতে ইলেকট্রিক সংযোগের জন্য ব্যবহার করা প্লাগ ও সকেটেও যুক্ত থাকছে গোপন ক্যামেরা ও অডিও রেকর্ডার। যে কোন বাসা বাড়ি বা অফিসে এসব ডিভাইস ব্যবহার করে খুব সহজেই নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমে দূর থেকে মোবাইল ফোন, ট্যাব বা কম্পিউটারে বসে দেখা যাচ্ছে প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ড। শোনা যাচ্ছে তার কথাবার্তা। এসব ডিভাইস অনেকটা গোপনে বিক্রি হয়ে থাকে। টেলিফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ডার নেয়া হয়। এরপর তা পোস্ট অফিস বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পৌঁছে দেয়া হয় ক্রেতার ঠিকানায়।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায় ইজিবাই নামের এক অনলাইন প্রতিষ্ঠানের নাম। গোপনে সব ধরনের গোয়েন্দা ডিভাইস বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। ক্রেতা সেজে টেলিফোনে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় কর্মকর্তা ফয়সালের সঙ্গে।
তিনি জানান, গোপন ক্যামেরা রয়েছে এমন কলমের দাম ২১৫০ থেকে ৪ হাজার টাকা। আবার ক্যামেরাসমৃদ্ধ সানগ্লাস বিক্রি হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। এসব পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে জানান তিনি। বলেন, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য বিক্রি করতে হয়। তাই অফিসে কোন আইটেম বিক্রি করা হয় না। অনলাইন ও টেলিফোনের মাধ্যমে আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পণ্য সরবরাহ করে থাকি। তার মতে বাংলাদেশে এরকম শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ ধরনের কেনাবেচা পর্যবেক্ষণ করে গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে সারাবিশ্বে অনলাইন শপিং ব্যবস্থা একটি জনপ্রিয় ক্রয়-বিক্রয় মাধ্যম। তথ্য প্রযুক্তির ক্রম বিকাশের ফলে বাংলাদেশেও এ ব্যবস্থাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সময় এবং চাহিদার সমন্বয়ে এ ধরনের অনলাইন শপিং সাইটের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং এগুলোর বিজ্ঞাপন বিভিন্ন পত্রিকা, টিভি চ্যানেল ও সামাজিক মাধ্যম দেয়া হচ্ছে। এসব শপিং সাইট থেকে যে কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ছাড়াও গোয়েন্দা কাজে ব্যবহৃত স্পর্শকাতর ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যাচ্ছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকার অভ্যন্তরে হিউম্যান সার্ভিস ও ঢাকার বাইরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে অবাধে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এসব ডিভাইস অপব্যবহারের মাধ্যমে যে কোন সময় রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এ নিয়ে ৬টি সুপারিশ করা হয়।
এগুলো হচ্ছে-প্রচলিত অনলাইন শপিং ব্যবস্থায় স্পর্শকাতর পণ্য/গোয়েন্দা সরঞ্জামাদি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করা, ঢাকাসহ সমগ্র দেশের ইলেক্ট্রনিক মার্কেটসমূহে এ ধরনের গোয়েন্দা ইলেক্ট্রনিক গেজেট ক্রয়-বিক্রয়ের উপর আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের প্রয়োজনীয় ও অনুমোদন ব্যতিরেকে এ ধরনের গোপনীয় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসসমূহের সকল প্রকার আমদানি নিষিদ্ধ ও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সকল অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকারকর্তৃক অনুমোদন গ্রহণ এবং অননুমোদিত শপিং সাইটসমূহ বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা, সকল অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠানসমূহের তথ্যাদি সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখা এবং কোন অনৈতিক কাজ করলে স্বল্পসময়ে তা চিহ্নিত করা ও অনলাইন শপিংয়ের জন্য রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ছবি/জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংযুক্ত বাধ্যতামূলক করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তথা র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা, বিডিসিআইআরটি এবং বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান/মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশি বা বিদেশি যে কোন অনলাইন শপিং সাইটে স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ কেনাবেচার বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করা। সূত্র: মানবজমিন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: