সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের লক্ষীপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক শফিকুলের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে বানিজ্যের অভিযোগ

93fbb3e3-f646-4e40-82cc-0ff2b968507cদোয়ারাবাজার সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়োজিত মেডিকেল অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চিকিৎসা সেবার নামে বানিজ্য ও প্রতারনা’র অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারন মানুষ তার দ্বারা নানাভাবে নাজেহাল ও হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

গত রবিবার সরজমিনে গিয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারকে তার বড় বউকে নিয়ে অফিস রুমে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। এসময় একজন রোগী ডাক্তারের সাথে দেখা করে চিকিৎসা নিতে চাইলে তিনি আধা ঘন্টা পরে এসো বলে রোগীকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। ঠিক আধা ঘন্টা পরে তার বউকে নিয়ে বেরিয়ে এসে রোগীদের দেখা দিলেও কাউকে কোন চিকিৎসা সেবা দেননি তিনি। আধ ঘন্টা পর কেরামত আলী নামের আরেক বৃদ্ধ গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা নিয়ে তার কাছে আসলে “পরে এসো” বলে ঐ রোগীকেও তিনি বিদায় করে দেন।
স্থানীয় লোকজন জানান,এই ডাক্তারের কাছে আসলে সরকারি ঔষুধ মিলেনা মিলে ফার্মেসির ঔষুধ। একটা প্রেসকিপশন লিখে পশ্চিম বাংলাবাজারের খলিলের মার্কেটের দক্ষিণ পার্শের হারুন ফার্মেসি এবং রহিম ফার্মেসি থেকে ঔষুধ ক্রয়ের পরামর্শ দিয়ে রোগীদের বিদায় করে দেন তিনি। সরকারের বরাদ্ধকৃত ঔষধ ঐ ফার্মেসীতে পাঁচার করেন নিয়মিতো। স্থানীয়রা আরোও জানায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতি দিন সকাল সাড়ে ১১টায় দরজা খুলে ১টায় বন্ধ করে দেয়া হয়। সময়মতো ডাক্তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকেন না। হারুন ফার্মেসিতে প্রাইভেট চেম্বার চালু করে নগদ টাকা নিয়ে রোগী দেখেন তিনি। গত কয়েক মাস ধরে তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষুধ মিলে না। তিনি রোগীদের কথা শুনে ও মুখ দেখে ঔষুধ দেন। বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বলেন, “সরকারে আমরারে ঔষুধ দেয়নাতে আমরা কইতাকি দেব, সরকাররে কউ আমরারে ঔষুধ দিতে আমারা তোমরারে ঔষুধ দেব”।

লক্ষীপুর গ্রামের রূপনগরের মোঃ আমির আলী জানান, মেয়েরা চিকিৎসা নিতে আইলে এই ডাক্তার ক্যূদৃষ্টিতে তাকায়। এসব কারনে মেয়েরা ভয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসেনা। দুইতালা ভবনে একা অবস্থান করেন তিনি। কয়েক দিন আগে তার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কালাইপুরা গ্রামের একটি মেয়ে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসছিল তখন মেয়েটির সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন ডাক্তার। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে তাকে বাধ্য হয়ে বিয়ে করেন তিনি। পরে মেয়েটিকে আবার প্রত্যাখ্যানও করেন।
লক্ষীপুর ইউনিয়নের রসরাই গ্রামের ফরিদ মিয়া জানান, এই ডাক্তার ঔষুদের কথা কইলে কয় নাই। আবার শ-পঞ্চাশ টাকা দিলে তার আলাদা আলমারি থেকে ঔষুধ আইনা দেয়। এই ডাক্তার আমরা গরিবের কাছে টাকাদি ঔষুধ বিক্রি করে। আর যারা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যাক্তি তাদেরকে পাতার পাতা ঔষুধ দিয়া দেয়।

লক্ষীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের রমজান আলী জানান, আমি অসুস্থ ব্যাক্তি আমার এই এলাকায় আত্বিয় স্বজন নাই মানুষের বাড়িতে চাইয়া থাকি। অসুস্থ হলে হাসপাতালে গেলে ডাক্তার বলে ঔষুধ নাই। আমরার লাকান গরিবের লাগি যদি ঔষুধ না তাকে তাইলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রেরও কোন দরকার নাই। ঔষুধ নাইতে বন্ধ করা ভালা। তার কাছে গেলেই যদি হারুন ফার্মেসিতে যাওয়া লাগে তাইলে তার মত ডাক্তারেরও দরকার নাই। লক্ষীপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন হেলাল-খসরু হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা জানান,ডাক্তরের কাছে গেলে শর্দি, ঝড়ের কথা কইলে দুইটা প্যারাসিটামল দিয়া এক প্রেসকিপশন লিখে দেয়। বলে বাজার থাকি কিনে ঔষধ খাওয়ার জন্য।

স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে খালেদ মিয়া, কামরুল ইসলাম, রইছ আলী, সেন্টু মিয়া, সবুজ আহমদ, আফরোজ আলী, সেলিম আহমদ, মোজাফর আলী, আব্দুল মোমেন, সুজন মিয়া, কামাল হোসেন, আঃ রহিম, এমরান মিয়া, মানিক মিয়া, হানিফ মিয়া, আনোয়ার হোসেন, ছাত্তার আলী, আব্দুস ছামাদ, শফিকুল ইসলাম, জাকির হোসেন, আলমগীর হোসেন, রমজান আলী, আমির হোসেন, নুরনবী, কবির হোসেন, রুমান মিয়া, বদরুল ইসলাম, মুনসুর আলী, আবু সাঈদ, আসকর আলী, অজুদ মিয়া, ছালেক মিয়া, শফর আলী, মরম আলী, আজাদ মিয়া, আহাদ মিয়া, মিজানুর রহমান, ফজল আলী, আতই মিয়া, সাদ্দাম আলী, সিরাজ আলীসহ প্রমুখ জানান,আমাদের এই সুনামধন্য ঐতিহ্যবাহী নাম লক্ষীপুরটাকে এই প্রতারক ডাক্তার নিজের সম্মানের চিন্তা না করে অন্যের সম্মান নিয়ে টানাটানি করেছে। গত কয়েক দিন আগে এক বউকে রেখে আবার এখানে আরেকটি বিয়ে করেছে। তারা এই ডাক্তারের অপসারন দাবী করেন।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষীপুর গ্রামের উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সীমিত ঔষুধ দেয়া হয়। ঔষুধ আসলে আমরা রোগীদেরকে দিয়ে দেই। অবৈধ সম্পর্ক করে বিয়ের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিয়ে করেছি এটা আমার পারিবারিক বিষয়। আমার বউয়ে যদি বলে আমি আরোও ১৪টা বিয়ে করবো। এখন দুইটা বিয়ে করছি তাতে তোমার আসে যায় কী।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: