সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ধর্মপাশায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে কৃষকদের মাঝে সাড়া

ddrrtttttধর্মপাশা সংবাদদাতা ::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার দু’টি খাদ্যগুদামে সরকারি ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে গত এক মাসে মাত্র ৬৫০মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এ উপজেলার গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারগুলো থেকে সরকারি খাদ্যগুদামে মণপ্রতি দুইশো থেকে আড়াইশো টাকা ধানের মূল্যের ব্যবধান হওয়ায় খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
এবারই প্রথমবারের মতো উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে প্রস্তুতকৃত তালিকা অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকেরা গুদামে ধান নিয়ে আসায় খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুদামে ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাজারগুলোতে ধানের মূল্য বৃদ্ধি পেলে খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে দুটি খাদ্যগুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ধর্মপাশা সদর খাদ্যগুদামের আওতায় চারটি ইউনিয়ন ও মধ্যনগর খাদ্যগুদামের আওতায় ছয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি কেজি ধানের বিক্রয়মূল্য ২৩টাকা ও প্রতিমণ ধান ৯২০টাকা মূল্য নির্ধারণ রয়েছে।
প্রত্যেক কৃষক সর্বনিম্ন ৪০ কেজি ও সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক ধান গুদামে বিক্রয় করতে পারবেন। চলতি বছরের ১৯ মে থেকে এ দুটি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। ধর্মপাশা খাদ্যগুদামে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৯০০মেট্রিক টন আর মধ্যনগর খাদ্যগুদামে নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৩৬২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে গত ১৯জুন পর্যন্ত গত একমাসে ধর্মপাশা খাদ্যগুদামে ৩৭০ মেট্রিক টন ও মধ্যনগর খাদ্যগুদামে ২৮০মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ৩১আগস্ট পর্যন্ত এ সংগ্রহ অভিযান চলবে।

উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া চৌধুরী (৬৫) বলেন, “অতোদিন হুইনা আইছিলাম ধর্মপাশা গুদামও কৃষকরার ধান নিয়া গেলেই ভেতরে নয়ছয় অয়। অহন সরহারিভাবে কৃষকরা তালিকা অওয়ায় আসল কৃষকরাই গুদামও ধান দিতা হারতাছে। আমি ৪৩মণ ধান গুদামও দেওয়ার হরই আমার ব্যাংক একাউন্টে টেহা চইল্যা গেছে। নিজের হাতে টেহা তুলছি। কই কুনু নয়ছয়তো অইতাম দেখছি না।”

একই ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া (৩৯) বলেন, গুদামও ধান নিয়া গেলে কুনু ঘুষ
দিতে অয়না। তয় বেশি শুকনা ধান গুদাম লইয়া গেলেও ধানে যাতে ছুছা না থাহে এইডার লাইগ্যা
ফ্যান দিয়া ধান ওড়াইয়া দিতে অয়। এইভাবে বেক কৃষক গুদামও ধান দিত হারতো না।

ধর্মপাশা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) মনধন চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয় ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতায় সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ন্যায্যমুল্যে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। হাট-বাজারে দামের চেয়ে গুদামে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে পারায় কৃষকেরাও আনন্দিত। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশাবাদী।

মধ্যনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, কৃষকদের কাছ খেকে ধান গুদামে ঢুকানোর আগে ধান মানসম্মত কীনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিতে হয়। তাছাড়া একই সঙ্গে অধিক কৃষক ধান নিয়ে আসায় গুদাম চত্বরে ধানের কিছুটা স্তূপ জমেছিল যা এখন আর আগের মতো নেই। সুষ্ঠুভাবে ধান সংগ্রহের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারি বিনির্দেশ মোতাবেক ধান সংগ্রহ চলছে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, ধর্মপাশা খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সুশৃঙ্খলভাবে ধান সংগ্রহ করা হলেও মধ্যনগর খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহ করা নিয়ে অলসতা করা হচ্ছে। যথাসময়ে ধান গুদামে না নেওয়ায় এবং গুদাম চত্বরে কৃষকদের ধান স্তূপাকারে পড়ে থাকায় ধানের আদ্রতা বাড়ার এবং নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আমি বিষয়টি ইউএনওকে জানিয়েছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শোয়েব আহমেদ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বলেছেন, ধান ভালোভাবে শুকিয়ে ছিটামুক্ত করে সরকারি বিধি মোতাবেক গুদামে নিয়ে আসার জন্য।

তাছাড়া উপজেলা খাদ্য বিভাগ ধান সংগ্রহ করা নিয়ে মাইকিং, বাজারে বাজারে ঢোল, লিফলেট, ডিজিটাল ব্যানারের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে খাদ্যগুদামে সরকারি ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রয় নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এ উপজেলার দুটি খাদ্যগুদামে এখানকার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। মধ্যনগর খাদ্য গুদামে চত্বরে কৃষকদের ধান যাতে স্তূপাকারে জমা থেকে নষ্ট না হয় সে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মধ্যনগর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: