সর্বশেষ আপডেট : ৮ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাতাসের গতিতে ছুটবে স্বপ্নের লাল-সবুজ ট্রেন

cR,Uনিউজ ডেস্ক:
লাল-সবুজ ট্রেনকে ঘিরে পদ্মাপাড়ের রাজশাহীতে এখন কৌতুহলের শেষ নেই। আরামদায়ক ভ্রমণে নিরাপদ ও দ্রুতগতির এই চকচকে ট্রেনটি রাখা হয়েছে রাজশাহী রেলস্টেশনে। সেটি এখন স্টেশনের ৩ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে।

এ ট্রেনে ওঠার জন্য উৎসুক মানুষের যেন তর সইছে না। কিন্তু আগামী ২৫ জুন উদ্বোধনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাদের।

তবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪০ কিলোমিটার গতিতে চলার কথা থাকলেও আপাতত তা হচ্ছে না। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাওয়া দ্রুতগতির অত্যাধুনিক এ ট্রেনটি চলবে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে। তবে পর্যায়ক্রমে রেলট্র্যাক আধুনিকায়নের পর ট্রেনটির গতিসীমা আরও বাড়বে। খবর: বাংলানিউজ

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, পবিত্র ঈদ-উল ফিতরে যাত্রী পরিবহরে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা দু’টি ট্রেন আগামী ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ট্রেন দু’টি ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলের কথা রয়েছে।

তবে ট্রেন দু’টির নাম এখন চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে চলাচলের কথা চূড়ান্ত হলেও রাজশাহী-ঢাকা রুটের বিষয়টি এখনও অপেক্ষমান। তবে একই দিন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু করার সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

গত শনিবার (১৮ জুন) ঢাকা-রাজশাহী রুটে লাল-সবুজ ট্রেনটির ট্রায়াল জার্নিও করা হয়েছে।

শনিবার ট্রেন দু’টির ফাইনাল ট্রায়াল সম্পন্নের পর থেকে পতাকাবাহী লাল-সবুজ ট্রেনে ঈদ ভ্রমণের জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন যাত্রীরা। ওই ট্রেনে ২৫ জুনের টিকিটের জন্য প্রতিদিন কাউন্টারে গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন তারা। তবে ওই দিন থেকে চলাচলের বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনই টিকিট মিলছে না।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের সুপারিনন্টেন্ড বি জামান জানান, নতুন ট্রেন, তাই তার সিট ক্যাপাসিটি আলাদা। এ জন্য টিকিটিং রি-অ্যারেঞ্জের প্রয়োজন রয়েছে, কাজটি চলছে। ২৫ জুন যদি উদ্বোধন হয়েই যায়, তাহলে প্রথম দিন রাজশাহী থেকে যাত্রী ছাড়াই সৌজন্য ভ্রমণে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে যাবে ট্রেনটি। এর পরদিন থেকেই রাজশাহী-ঢাকা রুটে অত্যাধুনিক লাল-সবুজ ট্রেনের টিকিট ছাড়া হবে।

তিনি জানান, নতুন ট্রেন দু’টির বিশেষত্ব হচ্ছে- ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এটি হবে ননস্টপ। অর্থাৎ ঢাকা থেকে ছেড়ে বিরতিহীনভাবে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র পৌনে চার ঘণ্টা।

আর একইসঙ্গে চলাচল করার অপেক্ষায় থাকা ট্রেনটির রাজশাহী রুটের স্টপেজ কমবে। যাত্রাপথের সময়সীমাও অনেক কমিয়ে আনা হবে। এ ট্রেনে রাজশাহী থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগবে মাত্র চার ঘণ্টা। এজন্য রেললাইনেরও সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহী-ঢাকা রুটে ধূমকেতু, সিল্কসিটি ও পদ্মা নামে চলাচলকারী তিনটি আন্ত:নগর ট্রেনের সময় লাগে সাড়ে ৬ ঘণ্টারও বেশি।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী-ঢাকা রুটের নতুন ট্রেনটিতে ১৩টি ব্রডগেজ বগি দেওয়া হয়েছে। এসব বগির মধ্যে চারটি এসি চেয়ার ও দু’টি স্লিপিং কেবিন এবং উন্নতমানের খাবার গাড়ি রয়েছে। এ ট্রেনে দেশের প্রথমবারের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য বিশেষ সিঁড়ি ও টয়লেট সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়া নতুন এ ট্রেনের বগির জানালায় বিশেষ ধরনের কাচ লাগানো হয়েছে। ফলে ভ্রমণের সময় যাত্রীরা ট্রেনের বাইরের প্রাকৃতিক দৃশ্য খুব কাছে থেকে উপভোগ করতে পারবেন।

এবার ঈদের আগে এ ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ঘরমুখো যাত্রীকে বহন করা সম্ভব হবে। জাতীয় পতাকার রংয়ে রাঙানো নতুন এ ট্রেন দিয়ে রেলের আধুনিকায়নের নবযাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রতিটি কোচে সিট সংখ্যা থাকবে ১০৫টি করে। এছাড়া প্রতিটি বগিতেই আছে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা। এ কোচগুলোতে বিশুদ্ধ পানির জন্য ফিল্টার, টয়লেটে ঠাণ্ডা ও গরম পানির জন্য ব্যবস্থা, হটকেস (খাবার গরম করার জন্য), ডিপ ফ্রিজার, বোটল কুলারসহ বিভিন্ন ধরনের যাত্রীসেবার ব্যাবস্থাও করা আছে।

কোচগুলো হুবুহ ভারতের রাজধানী ও শতাব্দি এক্সপ্রেসের কোচের মতো এবং একই কারখানাতে তৈরি। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, নির্ধারিত ভাড়ায় বিলাসবহুল এসব ট্রেন চালু হলে পশ্চিমাঞ্চল রেওয়ের যাত্রীসেবার মান ও রাজস্ব আয় বাড়বে এবং চলমান পরিবহন সংকটও দূর হবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. ইফতিখার হোসেন বলেন, শনিবার রাজশাহী-ঢাকা রুটে ট্রায়াল হিসেবে নতুন ট্রেনটি সফলভাবে চালানো হয়েছে। ব্রডগেজ বগিগুলো বেশ বড় হওয়ায় ১৩টি বগি দিয়ে ট্রেনটি চালানোর প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

কিন্তু নতুন কোচ নিয়ে ট্রেনগুলো ১৪০ কিলোমিটার বেগে চলার সক্ষমতা রাখলেও রেললাইনের সক্ষমতা না থাকায় তা চালানো সম্ভব হবে না। যদি ১১০ কিলোমিটার বেগেও চালানো সম্ভব হয়, তাহলেও ট্রেনের যাত্রার সময় কমে আসবে। পরবর্তী কোচগুলো আসার পর পদ্মা, সিল্কসিটি ও ধূমকেতুর সব কোচ পরিবর্তন করে লাল-সবুজ কোচগুলো চলাচল করবে। নতুন কোচ এলে প্রতিটি ট্রেনেই কোচের সংখ্যা বাড়বে।

২৫ জুনই চালু হবে কি-না জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিসিও) আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া জানান, জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে সোমবারও পশ্চিমাঞ্চল রেলে বৈঠক হয়েছে। তারা সব রকমের প্রস্তুতিই নিয়ে রেখেছেন বলে ওই বৈঠকে জানিয়েছেন।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) খায়রুল আলম বলেন, ট্রেনটি ঈদে রেলযাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার। আমরা এ রুটে ট্রেন চালানোর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত নির্দেশনা আসেনি। মন্ত্রণালয় চাইলেই ট্রেন চলবে বলেও জানান তিনি।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: