সর্বশেষ আপডেট : ৪৪ মিনিট ২৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কথা শুরুর ইঙ্গিত, জল গড়াচ্ছে তিস্তায়?

145411_1নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি নিয়ে প্রায় এক বছর পরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দরজায় ফের কড়া নাড়তে যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রবিবার জানিয়েছেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে প্রায় এক বছর মমতার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বহু প্রতীক্ষিত এই চুক্তিটি শীঘ্রই সেরে ফেলা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে দু’দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরে সাক্ষী হয়েছিলেন মমতা। সেই সময়ই তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার বাংলাদেশের বিরোধী নয়। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দু’দেশের চুক্তির যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, রাজ্যের স্বার্থ বিবেচনা করে তবেই এ ব্যাপারে এগোনো হবে।

গতকাল তিস্তা চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে মুখ খুলেছেন সুষমা স্বরাজ। তার কথায়, ‘তিস্তা নিয়ে তিন পক্ষের মতামত এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হওয়াটা জরুরি। তিনটি পক্ষ হল— বাংলাদেশ, ভারত এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন থাকায় দীর্ঘদিন মমতার সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলা যায়নি।’

সেই ব্যস্ততা মিটে যাওয়ার পরে ফের কথা শুরু করা হচ্ছে বলে জানান সুষমা।

সুষমা বলেন, ‘ভোটে জয়লাভ করে দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেছেন মমতা। তিনি নিজেও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মমতার সম্পর্কও খুব ভাল। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও উনি হাসিনাকে নিমন্ত্রণ করেছিলেন।’

সেই জন্যই তিস্তা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। সুষমা জানিয়েছেন, নিজেদের মধ্যে তিস্তা নিয়ে ঐকমত্য তৈরি করার জন্য এটাই সব চেয়ে ভাল সময়।

সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন বা তার আগেই দিল্লি যাচ্ছেণ মুখ্যমন্ত্রী। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করার পর এই প্রথম বার তিনি বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে তিস্তা প্রসঙ্গটি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই উঠবে। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তির তিনি যে বিরোধী নন, সে কথা আগেই চিঠি দিয়ে মোদিকে জানিয়েছিলেন মমতা। সেই সঙ্গে কিছু সমাধান সূত্রের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। আলোচনা হবে সেগুলির বাস্তব দিকগুলি নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের চাষবাস তিস্তার পানির উপর নির্ভরশীল। অথচ তিস্তার পানির একটা বড় অংশ আগেই টেনে নেয় সিকিম।

সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে পৃথক জলাধার তৈরি করার প্রস্তাবও মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন।

মনমোহন সিংহের জমানায় তিস্তা নিয়ে যে সমাধান সূত্রটি তৈরি হয়, তাতে বলা হয়েছিল— শুষ্ক মৌসুমে নদীতে যতটা পানি থাকবে, তা সমান ভাগে ভাগাভাগি হবে দুই দেশে। যার মধ্যে আবার প্রত্যেক দেশের প্রাপ্য অংশ থেকে চার ভাগের এক ভাগ পানি বরাদ্দ করা হবে নদীখাতে নাব্যতা বজায় রাখতে চার্জিং-এর জন্য। তখন মমতা এই প্রস্তাবে রাজি হননি। তার যুক্তি ছিল শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় কার্যত পানি থাকেই না। আর বর্ষার সময় বাংলাদেশ পানি পায় প্রকৃতির নিয়মেই। তাই সমস্যাটা মূলত শুষ্ক মৌসুমেই।

কেন্দ্রের তরফ থেকে মমতাকে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে, তিস্তা চুক্তি করা গেলে ওই নদী সংস্কার এবং পানি সরবরাহের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাঙ্ক থেকে বিপুল ঋণ পাওয়া যাবে। তার ফলে এখন তিস্তা প্রকল্পে উত্তরবঙ্গের যে ৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে পানি যায়, ভবিষ্যতে তার পরিমাণ ৯ লাখ হেক্টরে দাঁড়াবে।

মমতা নিজে ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন— কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জমানায় রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই যে ভাবে চুক্তিটি করার চেষ্টা হচ্ছিল, তাতে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তার বক্তব্য, তিস্তার পানির ভাগ কী হবে, আলোচনার মাধ্যমেই সেটা ঠিক হওয়া উচিত।

প্রায় এক বছর পর কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সেই আলোচনাই ফের শুরু হতে চলেছে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: