সর্বশেষ আপডেট : ৩৭ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অবহেলিত হাওরবাসীর কণ্ঠে কেবলেই শুধু বাচাঁর আকুতি ভরা বর্ষার মৌসুমে ভাল নেই হাওরাঞ্চলের মানুষ

1425073c-9dfc-4b4f-b86f-c4344b7cb55cজাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া::হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার দীপ সাদৃশ্য গ্রামের জনসাধরন বর্ষায় ৬মাস বেকার থাকে। কারন এই ছয় মাস যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই পানি থৈ থৈ করছে। সরকারের সু-নজর না থাকায় এই মানব সম্পদ এখন সমাজের ভোজা হচ্ছে দিন দিন। অর্ধহারে,অনাহারে,অভাব-অনটন কে সঙ্গী করে কষ্টের জীবন পার করছে। যেন দেখার কেউ নেই। যার জন্যে এই অনুন্নত অবহেলিত হাওরবাসীর কণ্ঠে কেবলেই শুধু বাচাঁর আকুতি।

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,মধ্যনগর,দিরাই,শাল্লা,বিশ্বাম্ভরপুর সহ হাওর পাড়ের ৮০ ভাগেই পানির উপর ভাসমান হাওর পাড়ের মানুষের হাতে এ সময়ে কোন কাজ না থাকায় বেকার থাকে। তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল,দক্ষিন বড়দল,উত্তর শ্রীপুর,দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নে শত শত গ্রামের সাথে সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় স্কুল,কলেজ ও সরকারী অফিস আদালতে যেতে হাওরবাসীকে পড়তে হয় নানা বিড়াম্বনায়। শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদে মহাব্যস্থ সময় পাড় করে আর ভরা বর্ষার সময় ঘরে বসেই সময় পাড় করছে অভাব অনটন কে সঙ্গী করে। এ সময় তারা কেরাম,ঘাফলা সহ বিভিন্ন খেলা,চায়ের দোকানে বসে চা খেয়ে ও সিডিতে ছবি দেখে,তাস খেলা,গল্প করে সময় পার করে দেয়। বিকালের পর থেকেই ভাসমান দীপ সাদৃশ্য গ্রাম গুলোর ছোট ছোট বাজারে ও আশে পাশে খোলা জায়গায় বসে জমজমাট আড্ডা বসিয়ে থাকে। গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে বাংলা সিনেমা,ভারতীয় সিনামা দেখার হিরিক পড়ে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে হাওর পাড়ের মানুষ মানব সম্পদে পরিনত হতে পারত। কিন্তু সরকারের সু-নজর না থাকায় এই মানব সম্পদ এখন সমাজের ভোজা হচ্ছে দিন দিন। বর্ষার সময় জেলার হাওর পাড়ের হাজার হাজার মানুষ বেকার থাকে মিল-কলখারকানা সহ অন্য কোন কাজের ব্যবস্থা না থাকায়। বর্ষায় কিছু লোকজন আছে তারা ডিঙ্গি নৌকা,বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা তৈরি করে দূর-দূরান্ত যাত্রী পরিবহন। কেই কেই এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার জন্য সড়ক পথের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে ফেরি পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করে।

হাওরবাসী জানান-এ বছর হাওরের বাঁধে ব্যাপক অনিয়মের কারনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বালির বাধেঁর ভেঙ্গে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু অনিয়ম কারীদের বিরোদ্ধে কোন শাস্তির ব্যবস্থা করেনি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। যার জন্যে এখাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে। কেউ আজাইরা থাকতে চায় না আমরা হাওরের মানুষের ব্যস্থ সময় কাটে হেমন্তে (কার্তিক-বৈশাখ) পযর্ন্ত। এ সময় বোরো ধান রোপন,জমি পরিস্কার ও পরিচর্যা সহ ধান কাটা ও মাড়াই কাজের পর ধান শুকিয়ে গোলায় তোলাতে সময় শেষ হয়ে যায়। ৭ মাস প্রচুর পরিশ্রম আর কর্মব্যস্থতা চারপাশ ঘিরে রাখে এর পর তারা বেকার হয়ে পড়ে। বর্ষায় অনেকেই কারেন্ট জাল,কোনা জাল,বেড়জাল নিয়ে হাওরে নেমে পড়ে মাছ ধরার জন্য। এখন আগের মত মাছ নেই তাই বেকার থাকতে হয়। আর প্রভাব শালী ইজারাদাররা জলমহল নিয়ে নিজেদের রাম রাজত্ব কায়েম করেছে। বিশাল হাওর পাড়ের খেটে খাওয়া মানুষ গুলো এ ভাবেই যুগ যুগ ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ক্ষুদা,দারিদ্রতা,রোগ শোক,যোগাযোগ,অশিক্ষা,গোড়ামী আর অবহেলায়। এসব পরিস্তিতির শিকার হয়ে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অন্যত্র। আর এভাবেই চলছে সুনামসগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চল বাসীর জীবন যুদ্ধ।

সচেতন মহল মনে করেন-হাওর উন্নয়নে সরকার হাওরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থা,মিল-কলখারকানা,বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করলেও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ব্যাপারে উদাসীন। এই বেকার জনগোষ্টীকে সম্পদে পরিনত করার জন্য কুটির শিল্পের সাথে যুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হতে পারে। হাওরে বিশাল নারী গোষ্টীকে হস্ত শিল্পে পারদর্শী এবং আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে হাসঁ ও মরগি লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়ে ওই বেকার নারী সমাজ স্বাবলম্বী হওয়ার পাশা পাশি অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই সরকার এই হাওরবাসীর দিকে সু-দৃষ্টি দেবার দাবী জানান।

তাহিরপুর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন,বর্ষায় ৬মাস মাছ ধরা ও শুষ্ক মৌসুমে ৬মাস বোরো ধান চাষাবাদ করাই এ উপজেলা বাসীর প্রধান কাজ। বাকী সময় বেকার থাকতে হয়। এ মৌসুমি বেকার হওয়ার মূল কারন হলো যোগাযোগ ও বিকল্প কাজের ব্যবস্থা না থাকা। কারন বর্ষা মৌসুমে পানি বন্ধী হয়ে পড়ার কারনে কোন কাজ করার সুযোগ থাকে না। তাই অলস সময় কাটলেও অভাব-অনটন লেগেই থাকে হাওরবাসীর দৈনিন্দ জীবনে। তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সহ বিকল্প কাজের ব্যবস্থা খুবেই প্রয়োজন।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারুজ্জামান কামরুল জানান-আমার উপজেলার হাওর বাসীর শিক্ষা,স্বাস্থ্য সহ সকল প্রকার উন্নয়নের জন্য আমার ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাতœক চেষ্টা অব্যাহত আছে। শিক্ষা,স্বাস্থ্য,যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজনী ও যুগােযুগী পদক্ষেপের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলবাসীর উন্নয়নের জন্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে ও বর্তমান সরকার অবহেলিত সুনামগঞ্জ জেলার হাওরবাসীর উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে হাওরবাসীরা তাদের জীবন মানের উন্নয়ন গঠাতে সক্ষম হবে।
তাহিরপুর থানা নির্বাহী কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ জানান-যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকায় যতই কষ্ট হউক না কেন জনসাধারনের নিরাপত্তার স্বার্থে আমি জোরালো প্রদক্ষেপ আগেও নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতেও পুশিল অভিযান অব্যাহত থাকবে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: