সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ফাহিমকে কে কীভাবে দেখছেন?

Comment

ডেইলি সিলেট ডটকম :: মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষক হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে আটক ফাহিম রিমান্ডে থাকাবস্থায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।একেকজন একেক মন্তব্য করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. শফিকুর রহমান, টিআইবি’র চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল, আনু মোহাম্মদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকার ও সাংবাদিক নেতারা বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন। ডেইলি সিলেট পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হল-

প্রধানমন্ত্রী- ফাহিম শিবির কর্মী

PMমাদারীপুরে কলেজশিক্ষক হত্যা চেষ্টায় আটকের পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ফাহিম শিবিরকর্মী বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যায় বিএনপি-জামায়াত জড়িত এতে কোনো সন্দেহ নেই। মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষকের হত্যা প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

তিনি আরো বলেন, ‘কলেজ শিক্ষক হত্যা প্রচেষ্টায় যুক্ত এবং জনগণের হাতে আটক সন্ত্রাসীর পরিচয়- সে একজন শিবির কর্মী।’

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এর ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

রওশন এরশাদ- দেশের মানুষ কোথাও নিরাপদ নয়

rowshon-Ershadবিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকারের। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিলে মানুষের ভিতর ক্ষোভ বাড়বে।’

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর শ্যামপুর বালুর মাঠে শ্যামপুর-কদমতলী জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া- ‘প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই ক্রসফায়ার’

Khaledaপ্রকৃত ঘটনা ও অপরাধীদের আড়াল করতেই রিমান্ডে থাকা আসামিকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটলে জাগপা আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে খালেদা জিয়া এ অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, সাঁড়াশি অভিযানের নামে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের রিমান্ডের নামে ক্রসফায়ারে দেওয়া হচ্ছে।

সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার জনগণের নির্বাচিত নয়। জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে কাউকে বিনা ওয়ারেন্টে ধরতে পারবে না। কিন্তু তারা সেই নির্দেশনা মানছে না। এরা আদালতের নির্দেশ মানে না, উল্টো আদালতে আদেশ দেয় কি করতে, হবে না করতে হবে।’

দেশে বর্তমান সময়ে কারো কোনো নিরাপত্তা নেই মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রী বলেন, ‘যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে যুদ্ধ করেছি, সেটি হারিয়ে গেছে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সবার সমান অধিবার, নিরাপত্তা আজ নেই।’ সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নিজে দেশ চালাচ্ছেন, না কী কারো নির্দেশ পালন করছেন সেই প্রশ্নও তোলেন খালেদা জিয়া।

এরশাদ- বন্দুকযুদ্ধে নিহতরা কি মানুষ না?

ershad_1জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘এক সময় শুনেছি ক্রসফায়ার, এখন শুনি বন্দুকযুদ্ধ। এগুলো কীসের আলামত। ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধ যাই হোক, এসব ঘটনায় যারা নিহত হচ্ছে তারা কি মানুষ না? তাদের কি আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নেই?’

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর শ্যামপুর বালুর মাঠে শ্যামপুর-কদমতলী জাতীয় পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সাঁড়াশি অভিযান হয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী ধরা পড়ে নাই। রমজান মাসে সাঁড়াশি অভিযানের নামে নিরীহ জনগণকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ তবে এরশাদ তার বক্তব্যে সম্প্রতি মাদারীপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ফাহিমের নাম উল্লেখ করেননি।

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি, মহানগর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদত সুজন দে, সুনীল শুভ রায় প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- আমি বলতে পারবো না, জেনে বলতে হবে

kamalগোলাম ফায়জুল্লাহ ফাহিম ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে সঠিক কোনো তথ্য নেই। মন্ত্রী বলেছেন, ‘ফাহিমের ক্ষেত্রে সঠিক কী হয়েছে, সেটি আমি এখন বলতে পারবো না। আমাকে জেনে বলতে হবে।’

শনিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোতাহার হোসেন ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনটাই জানান। এর আগে বাংলাদেশ আইন সমিতির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ফাহিমের গায়ে বুলেটপ্রুভ জ্যাকেট থাকার পরও কীভাবে গুলি লেগেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এমনও হতে পারে তার সঙ্গী-সাথীরা তাকে গুলি করেছে, যাতে কারো নাম না বলতে পারে।’

সুলতানা কামাল- রাষ্ট্র আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে

Sultanaসাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘অনিয়ম লুটপাটের ফলে দেশে যে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা থেকেই তৈরি হচ্ছে হতাশা। মানুষ হতাশ হয়ে দেখছে- কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রাষ্ট্র বারবার আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।’

শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত “এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

মাদারীপুরে শিক্ষক হত্যাচেষ্টায় আটক সন্দেহভাজন জঙ্গি ফাহিম রিমান্ডে থাকা অবস্থায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুলতানা কামাল বলেন, ‘মানুষ আমাদের বলছে, ক্রসফায়ার হওয়ার পরে আপনারা কথা বলছেন কেন? যাদের ক্রসফায়ারে দেয়া হচ্ছে, তারা অন্যের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। অতএব তাদের মানবাধিকার নেই। এই যে একটা বোধ সমাজে চলে আসে, যেনতেনভাবে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করতে হবে- এটা কোনো আধুনিক, গণতান্ত্রিক, সুশাসনসম্পন্ন রাষ্ট্রের লক্ষ্য নয়। মানুষ মানুষকে পিটিয়ে মেরে ফেলছে, অথচ ফতোয়ার মাধ্যমে অমানবিক কার্যক্রমকে সমর্থন দিচ্ছে রাষ্ট্র।’

ডা. শফিক- ঘটনাটি রহস্যজনক

download-56বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “মাদারীপুরের নাজিম উদ্দিন কলেজের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর উপর হামলার অভিযোগে হাতে নাতে ধরা পড়া গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যা করার উদ্দেশ্য কি

গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে গ্রেফতার করার পর তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তাকে তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যা করার ঘটনাটি রহস্যজনক বলে মনে করে দেশের জনগণ। তাকে গ্রেফতার করার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার নিকট থেকে তথ্য উদ্ধার করে তার সাথে থাকা অন্যদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত ছিল।

কিন্তু আইনের পথ উপেক্ষা করে তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে হাত কড়া পরা অবস্থায় হত্যা করার ঘটনায় জনগণের মনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে যে, প্রকৃত ঘটনা জনগণকে জানতে না দিয়ে ধামাচাপা দেয়ার উদ্দেশ্যেই কি গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে তথাকথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যা করা হলো? সে বেঁচে থাকলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ার আশংকায়ই কি তাকে গুলি করে হত্যা করা হলো?

গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে হাতকড়া পরা অবস্থায় গুলি করে হত্যা করার ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য দেশবাসীকে জানানোর জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

জাসদ (একাংশ)- ‘মূল হোতা” কারো পরিচয় আড়াল রাখতেই কি এমন বন্দুকযুদ্ধ?

গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচন হওয়ার উপক্রম হতেই রহস্যজনক ঘটনায় তা আড়ালে চলে যাচ্ছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমের নিহতের ঘটনার পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমনটি বললেন ১৪ দলে থাকা জাসদের একাংশের নেতারা।

নুরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বাধীন জাসদের একাংশের নেতারা বিবৃতে বলেন , “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি ধারাবাহিক ভাবে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী মুক্তমনা, প্রগতিশীল ও ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী ব্যাক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করে সুপরিকল্পিতভাবে একটি মহল একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পারলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধী বিশেষ করে নেপথ্যের গডফাদাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

তারা বলেন, “যখনই গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচন হওয়ার উপক্রম হচ্ছে তখনই রহস্যজনক ঘটনার জন্ম হচ্ছে। মাদারীপুর হত্যা প্রচেষ্টার অন্যতম আসামি ধরা পড়ার পর পুলিশি হেফাজতে তার মৃত্যু একটি রহস্যজনক ঘটনা।”

মাদারীপুরে কলেজ শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি’ গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম শনিবার পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। যাকে ১০ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর অনেকের প্রশ্ন ‘মূল হোতা” কারো পরিচয় আড়াল রাখতেই কি এমন বন্দুকযুদ্ধ।

আনু মুহাম্মাদ- ফাহিম কিছুটা সূত্র দিতে পারতো

Anu Mজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মাদ ফেসবুকে লিখেছেন, এই আশংকাটাই করছিলাম। শিক্ষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলাকারী ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নামে খুন করা হলো।

এখন আর কোনো প্রমাণ নেই সুতরাং নানা কাহিনী চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। কেউ ধরা না পড়লে যথারীতি অনেক গল্প শুনতাম, কিন্তু গোল বাঁধিয়েছে এলাকার মানুষ ফাহিমকে হাতে নাতে ধরে। পুরোটা না পারলেও ফাহিম কিছুটা সূত্র দিতে পারতো নিশ্চয়ই।

গোলাম মোর্তোজা- সব প্রশ্নের উত্তর আছে এই একটি হত্যাকাণ্ডে

Murtazaফেসবুকে সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা লিখেছেন, রাজনৈতিক বক্তৃতায় যে কাউকে অভিযুক্ত করা যায়। নিজেরা ধরতে পারি না, জনগণ ধরে দেয়। তাদের ক্রসফায়ারে বা বন্দুক যুদ্ধে হত্যা করা হয়। এমন একটি হত্যাকাণ্ড যে ঘটতে যাচ্ছে, অভিযানের ধরণে তা প্রত্যাশিতই ছিল।

তিনি আরো লিখেছেন- কারা জঙ্গি, কারা তৈরি করে, কারা পৃষ্টপোষক, কারা জঙ্গি-গুপ্তহত্যা টিকিয়ে রেখে সুবিধা পেতে চায় -সব প্রশ্নের উত্তর আছে এই একটি হত্যাকাণ্ডে মধ্যে।

কাকে আড়াল করতে এই হত্যাকাণ্ড, প্রশ্ন ইমরানের

images-32গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘খুন যেই করুক না কেন, সে খুনি। জঙ্গি করুক, সন্ত্রাসী করুক কিংবা রাষ্ট্র করুক; সে খুনি। এখানে তবে-কিন্তুর কোনো অবকাশ নেই। একজন বোধ-বিবেচনা সম্পন্ন মানুষের কোনো খুনই সমর্থনের সুযোগ নেই।’

ইমরান বলেন, ‘কোনো খুনি কিংবা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ আত্মত্যাগ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানে খুনি কিংবা নিপীড়ক রাষ্ট্র নয়। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে পরিষ্কারভাবেই ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘একজন খুনিকে হত্যার মধ্যদিয়ে সবচেয়ে বেশি অবিচার করা হয় খুন হওয়া মানুষটির স্বজনদের সাথে। কেননা, অপরাধীকে খুনের মাধ্যমে পরিবারটির ন্যায়বিচার পাবার আর কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।’

বিচার বহির্ভূত এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘হাতেনাতে আটক হওয়া খুনিকে হত্যার আরো গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, এইসব খুনির বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকে এবং ন্যায়বিচার পাওয়া সহজ হয়। পাশাপাশি এইসব ক্ষেত্রে চলমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের সুযোগ থাকে। তাহলে প্রশ্ন আসে ঠিক কি কারণে তাহলে এমন অপরাধীকে হত্যা করা হলো?? কাকে আড়াল করতে এই হত্যাকাণ্ড??’

সম্প্রতি বহুল আলোচিত লক্ষীপুরের আ.লীগ নেতা তাহের পুত্র বিপ্লবের সাজামুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একদিকে সরকার নিজ দলীয় সিরিয়াল খুনিদের ফাঁসিসহ সকল সাজা মওকুফ করে দিয়ে জেল থেকে মুক্ত করছে। অন্যদিকে জনতার হাতে ধরা পড়া টার্গেট কিলারদের খুন করে সব প্রমাণ আড়াল করছে।’ এসময় সরকারের প্রতি প্রশ্ন রেখে গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র বলেন, ‘তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এর নাম কি ন্যায়বিচার? এটাই কি ৩০ লাখ মানুষের রক্তে অর্জিত আমার মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ?’

ফারুকী- ‘বন্দুক, তুমি যুদ্ধ বোঝো, তদন্ত বোঝো না?’

Farukiবিখ্যাত পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজের টাইমলাইনে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকের উদ্দেশ্যে সেই স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হল-
বন্দুক, তুমি যুদ্ধ বোঝো, তদন্ত বোঝো না?

যেখানে এই আক্রমণের হাত থেকে আস্তিক নাস্তিক, সংখ্যালঘু সংখ্যাগুরু, নারী পুরুষ, সিভিলিয়ান পুলিশ কেউই ছাড় পাচ্ছিলো না, যেখানে এটা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেছিলো এবং আমরা কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের আলামত দেখছিলাম না, সেখানে মাদারীপুরের মানুষ এক আসামী হাতে নাতে ধরে ফেলার পর আশা করছিলাম ভেতরের কলকাঠির সুলুক সন্ধান করা হবে।

সেই স্থলে এই বন্দুকযুদ্ধের কি মানে? দুই; যদিও আমি জানি এই শব্দ ব্যবহারের তাৎপর্য কি, তবুও সংখ্যালঘু শব্দটা কেনো জানি আমি নিতে পারি না। সরাসরি হিন্দু বা অন্য যে পরিচয় আছে সেটা লিখলে কি ক্ষতি? আমার কোনো বন্ধুরে লঘু ভাবতে আমার খুবই আপত্তি হয়।

ছোটবেলা থেকেই আমাদের কোনো হিন্দু বন্ধুরে আমরা কখনো লঘু হিসাবে দেখছি বলে মনে পড়ে না। এই ভাবা বা ডাকার মধ্যেই আমি ঝামেলা পাই। আমার মনে হয় এর মধ্য দিয়ে আমি আমার মতোই একজনকে চাপ দিয়ে ছোটো বানাইয়া দিচ্ছি। আমি তখন আর তার চোখের দিকে তাকাইয়া কথা বলতে পারি না।

সাংবাদিক ফজলুল বারী- সাধারণত কোন জংগী এভাবে কোর্টে বলেনা

Fazlul-Bariপ্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী প্রশ্ন তোলেছেন, “আদালতে বিচারককে সে চিৎকার করে বলে এই ঘটনার সংগে সে জড়িত না। স্থানীয় এক নেতা তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। পুলিশ তাকে মেরে ফেললো ক্রসফায়ারে? স্থানীয় যে নেতার কথা ফাহিম বলেছিল সে কী পুলিশের জন্যে বিব্রতকর ছিলো?”

বারী লিখেন: “আমাদের ভালো ইচ্ছাগুলোকে করে দেয়া হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ! মাদারীপুরে ধরা ফাহিম ছেলেটির রিপোর্টে পড়ছিলাম তাকে নিয়ে নানা জায়গায় অপারেশনে গিয়ে পুলিশ সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাচ্ছিলোনা!

আদালতে বিচারককে সে চিৎকার করে বলে এই ঘটনার সংগে সে জড়িত না। স্থানীয় এক নেতা তাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। সাধারণত কোন জংগী এভাবে কোর্টে বলেনা। কিন্তু পুলিশ তাকে মেরে ফেললো ক্রসফায়ারে?

স্থানীয় যে নেতার কথা ফাহিম বলেছিল সে কী পুলিশের জন্যে বিব্রতকর ছিলো? সাধারণত দেখবেন গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেবার ঘটনাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বচ্ছ থাকেনা।”

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: