সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ক্রেস্ট আর ফুলের মালা অপছন্দ মন্ত্রীর

gনিউজ ডেস্ক: জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু মঞ্চে বসা মাত্রই কোন শিক্ষার্থী নয়, প্রথমেই সংবর্ধনার জন্য ডাকা হলো মন্ত্রীকে। ক্রেস্ট তুলে দেয়া হবে মন্ত্রীকে- এমন ঘোষণার জোরালো প্রতিবাদ করে বসলেন মন্ত্রী নিজেই। এখানে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিতে এসেছেন তিনি। কেন ক্রেস্ট নেবেন? উল্টো প্রশ্ন করে বসলেন ।

শনিবার ( ১৮ জুন) দুপুরে মন্ত্রীকে আরও দশজন মন্ত্রীর মতো ভেবেছিলো রাজধানীর শহরতলীর ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। ফলাফলে প্রতি বছর দেশসেরা এই প্রতিষ্ঠানে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ‘তারায় তারায় মেলা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি ।
বক্তব্যে উঠে তিনি বললেন, ‘আমার সম্পর্কে এখানকার প্রিন্সিপালের কোন ধারণা নেই। ক্রেস্ট আর ফুলের মালা নেয়ার মন্ত্রী আমি নই।
দুইবার ফুলের মালা মন্ত্রীর গলায় দেয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ মনে করেছিলো মন্ত্রী খুশি হয়েছেন। কিন্তু সেই ভুল ভেঙ্গে গেলো যখন বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বললেন, ‘এটা সন্দেহজনক।’

বিরক্ত হয়ে মন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন তিনি ফুলের মালা নেয়ার মন্ত্রী নন।

মঞ্চের আশেপাশে মন্ত্রীর ছবিতে বিলবোর্ড সাজিয়ে রাখা দেখেও ছন্দে ছন্দে বক্তব্যে বললেন ‘ফুলে মালা থাকবে না। বিলবোর্ডের ছবি মুছে যাবে, পোস্টার আর কাগজের এই ছবি ছিঁড়ে যাবে, গেইটের বাঁধা ছবি ভেঙ্গে যাবে, পাথরের ছবি ক্ষয়ে যাবে, হৃদয়ে লিখো নাম, সে নাম রয়ে যাবে’।
মঞ্চের ভাষণে রীতিমত ক্ষুব্ধ মন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে এখানে তিনঘণ্টা বসিয়ে রেখে নেতারা বক্তৃতা দিলেন। স্কুলের প্রিন্সিপাল দীর্ঘ বক্তৃতা করলেন। স্কুল সম্পর্কে এতো ‍কিছু আমাকে বুঝিয়ে দিলেন যেন আমি কোন খবর রাখি না। আমার স্লোগান হচ্ছে ‘কথা কম কাজ বেশি। ভাষণ হবে কম এ্যাকশন হবে বেশি।’

মন্ত্রী প্রশ্নের সুরে বললেন, ‘এই তিনঘণ্টায় আমি যদি তিনটি রাস্তা পরিদর্শন করতে পারি তাহলে তিনলক্ষ লোক উপকৃত হবে। তাহলে আমি কোনটা করবো তিনঘণ্টা মঞ্চে না, তিনটা রাস্তায়?

মন্ত্রীকে নানা বিশেষণ যোগ করে দীর্ঘ বক্তব্য দেয়ায় স্কুল অধ্যক্ষকে ধুয়ে দিলেন মন্ত্রী। বললেন, ‘মনে হলো আপনাকে রাজনীতিতে মানাবে। স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে নয়!’

মন্ত্রী তার নিজের প্রশংসা শুনে খুশিতে আত্মহারা না হয়ে উল্টো শিক্ষামূলক কথাই শুনিয়ে গেলেন। যা শুনলেন কয়েকশ’ মেধাবী শিক্ষার্থী। মন্ত্রী বলেন, ‘তোমাদের মত মেধাবীদের রাজনীতিতে আসা দরকার। মেধাহীনরা রাজনীতিতে এসে রাজনীতি ধ্বংস করে দিচ্ছে’।

স্কুলটির মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর অন্যতম কারণ ছিলো স্কুল সংলগ্ন এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি রাস্তা নির্মাণের।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে এজন্য বলেই দিলেন, ‘আমাকে যখন আমন্ত্রণ জানানো হয় তখনই আমি বুঝে ফেলেছিলাম, এখানে নিশ্চয়ই রাস্তার কোন একটা ব্যাপার আছে।

মন্ত্রী আগামী ডিসেম্বেরের মধ্যে ডেমরা-কোনাবাড়ি রাস্তাটি নির্মাণের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আগামী বছরের মার্চের দিকে বিআরটিসির নতুন বাস আসলে তা দেয়ারও প্রতিশ্রুতি দিলেন মন্ত্রী।

মঞ্চে যখন মন্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন তাকে ঘিরে ছিলো স্থানীয় নেতারা। মন্ত্রীর পেছনে থাকলে টিভিতে মুখ দেখানো যাবে এমনটি বুঝে মন্ত্রী তাদের তাড়িয়ে দিলেন। আর সতর্ক করে দিলেন মঞ্চে বসা স্থানীয় সংসদ সদস্যকে হাবিবুর রহমান মোল্লাকেও।

তিনি বললেন, ‘ আসার পথে দেখলাম এমপির ছবি দিয়ে নিচে পাতি নেতা, সিকি নেতাদের এক গাদা ছবি। এসব ছবির আসল উদ্দেশ্য আত্মপ্রচার।
ঈদের আগে এসব ছবি টানিয়ে চাঁদাবাজি হয় বলে মন্তব্য করে মন্ত্রী বললেন, এমপির ছবি ব্যবহার করে এরা চাঁদাবাজি করে। আপনার এলাকায় যেন এ রকম ঘটনা না ঘটে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: