সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

পিতা চিরকালই বটবৃক্ষ

fathersonমোঃ কায়ছার আলী::
“মরিয়া বাবর অমর হইয়াছে, নাহি তার কোন ক্ষয়, পিতৃস্নেহের কাছে হইয়াছে মরনের পরাজয়”। মহামতি দিল্লীর সম্্রাট বাবর ছিলেন মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্বীয় বীরত্ব ও বিচক্ষণতায় মোঘল বংশের ভিত রচনা করেন। প্রাণ প্রিয় পুত্র হুমায়ূনের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা প্রদর্শন করে তিনি বিশ্বের ইতিহাসে স্নেহবৎসল পিতা হিসেবে অনন্য নজীর স্থাপন করে গেছেন। তাঁর পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। রাজ্যের সকল বিজ্ঞ চিকিৎসকগণ তাঁকে সারিয়ে তোলার কাজে সদা নিয়োজিত। কিন্তু এই অজ্ঞাত রোগ থেকে রাজকুমারের পরিত্রাণ হচ্ছে না। অস্ত রবির মত তাঁর জীবন প্রদীপটা ক্রমশ নিভে আসছে। বাবর হেকিমদের ডেকে ব্যগ্র কন্ঠে জানতে চাইলেন এই রোগ হতে শাহজাদা মুক্তি পাবে কি? উত্তরে সবাই নীরব নিস্তব্ধ। এই নিষ্ঠুর নীরবতা বাদশাহ্র বুকে শেল হয়ে বিধঁল। এমনি সময় জনৈক দরবেশ বললেন, সম্রাট যদি তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন মহান আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে পারেন তবেই আল্লাহ্র রহমতে শাহজাদার প্রাণ রক্ষা পেতে পারে। বেদনা বিধূর সম্রাট গভীরভাবে উপলদ্ধি করলেন, তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ধন তাঁর নিজ জীবন। তবু তাঁর কোনো শঙ্কা নেই। তিনি আন্তরিকভাবেই চান তাঁর জীবনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন বেঁচে থাক। তখন বাবর নিজ গৃহে গভীর ধ্যানে মগ্ন হয়ে সর্বশক্তিমান আল্লাহ্র দরবারে নিজ জীবনের বিনিময়ে পুত্রের রোগমুক্তি কামনা করেন। আল্লাহ পাক তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন, সেই দিন থেকে বাবরের রোগ লক্ষণ দেখা দিল এবং হুমায়ুনের রোগ মুক্তি হল। মহান পিতার মৃত্যুর অতল জীবন ফিরিয়ে দেন পুত্রের নতুন ঊষার আলো। বাৎসল্য বাবর এই মৃত্যুর মধ্যদিয়ে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন।

আসলে পিতা চিরকালই বৃক্ষ। আপন প্রাণরস দান করে ফল সতেজ রাখাই বৃক্ষের ধর্ম। পিতাও তাই প্রাণ রস দান করে সতেজ রাখেন পুত্র নামক ফলকে। আর এভাবেই জন্মদাতা, পিতা বা বাবাদের ভালবাসা, আদর, সোহাগ, সন্তানের প্রতি অক্টোপাসের মতই মায়ার জালে বন্দি হয়ে আছে সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত। ঝড়ৎৎু এভাবেই থাকবে পৃথিবীর ধ্বংসের শেষ দিন পর্যন্ত।আজ রোববার ১৯শে জুন বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার সারা বিশ্ব জুড়ে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। ১৯১০ সালে আমেরিকার সেনোরা লুইসের একান্ত প্রচেষ্টায় প্রথম বারের মত বিশেষ এই দিনটি উদযাপিত হয়। সেনোরা ছিলেন ৬ ভাই বোনের মধ্যে সবচেয়ে বড়। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মা ইলেন স্মার্ট যখন মারা যান তখন সেনোরার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। মায়ের মৃত্যুর পর বাবা উইলিয়াম স্মার্ট সন্তানদের মানুষ করার দায়িত্ব নেন। সারাক্ষণ তিনি তাদের দেখে শুনে রাখতেন। শত ব্যস্ততার মাঝেও স্মার্ট তাঁদের মায়ের অভাব এতটুকু বুঝতে দেননি। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন স্থায়ী ভাবে বাবা দিবসকে রাষ্ট্রীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। তখন থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাৎপর্যের সাথে পালিত হচ্ছে বাবা দিবস। ১৯৭৪ সালে সেনোরা স্মার্টকে তার অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। আমাদের সকলের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে ও আজ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিভিন্ন তারিখে বাবা দিবস পালিত হলেও আজ ৮৭ টি দেশে বিশ্ব বাবা দিবস পালন করছে। এই পৃথিবীতে অনেক ঘটনাই ঘটে যা কল্পনার অতীত বা চিন্তার বাইরে। প্রাচীন ইরানের মহাকবি ফেরদৌসী (যেহেতু তিনিও একজন মহান বাবা) তাঁর মেয়ের সুন্দর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য গজনীর সুলতান মাহমুদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি শ্লোকের জন্য একটি করে স্বর্ণমুদ্রা দেওয়ার শর্তে পৃথিবীর অন্যতম মহাকাব্য শাহনামা ৭টি বৃহৎ খন্ডে ৬০ হাজার শ্লোকে ৩০ বছর যাবত কঠোর পরিশ্রম করে রচনা করেন। মহাকাব্য গ্রন্থটি প্রাচীন ইরানের রাজা- বাদশাহ ও বীর পুরুষদের কাহিনী নিয়ে রচিত। ষড়যন্ত্রকারীদের কুবুদ্ধিতে সুলতান মাহমুদ ৬০ হাজার স্বর্ণমুদ্রার পরিবর্তে ৬০ হাজার রৌপ্যমুদ্রা মতান্তরে ৬০ হাজার দিরহাম প্রদান করেন। স্বর্ণমুদ্রা না পেয়ে ক্ষোভে, ক্রোধে ও দুঃখে কবি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে অনেক দেরীতে সুলতান নিজ ভুল বুঝতে পেরে প্রাপ্য ৬০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দূত মারফত কবির বাড়ীতে প্রেরণ করে জানতে পারেন যে, কবি আর পৃথিবীতে নেই। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কবির মেয়ে সেই স্বর্ণমুদ্রা গ্রহন করেননি। সেই মহাকাব্যের গৌরব গাথা সোহরাব রোস্তম অর্থাৎ পিতা -পুত্রের অমর কাহিনী আজ সারা বিশ্বে প্রচারিত। প্রাচীন ইরানের জাতীয় বীরযোদ্ধা মহাবীর রোস্তম তাঁর অতুলনীয় শক্তি ও সাহসের জন্য পৃথিবীর মানুষের কাছে কিংবদন্তির মহানায়ক। মহাবীর রোস্তম যেমন একজন জাতীয় বীর তাঁরই পুত্র সোহরাব তাঁর পিতার যোগ্য উত্তরাধিকারী। মহাবীর রোস্তমের জীবন অত্যন্ত করুন এবং মর্মন্তুদ। কৌশলে বীরত্বের রীতির কথা বলে পরের দিন নিজেই সুযোগ বুঝে তীক্ষ্ম ম্লধার তলোয়ার বের করে সোহরাবের বুকে ঢুকিয়ে দেন। সোহরাবের বুকের তাজা রক্তের সাথে সাথে বের হতে থাকে প্রকৃত পরিচয়। ধীরে ধীরে সোহরাবের নিষ্পন্দ দেহ পিতার বক্ষে আশ্রয় লাভ করে। তখন নির্জন গিরিপথে কোনো প্রাণী ছিল না। আকাশের সূর্য এসে সোহরাবের মুখে পড়ে নি। কোনো বিদায় রাগিনী বেজে উঠে সেই বিদায় দৃশ্যকে বিহ্বল করেনি।

তখন রোস্তমের বুক ফাটা হাহাকার আর কান্না পাহাড়ে ধাক্কা লেগে এক বেদনা বিধূর বিলাপ তৈরি করেছিল: সোহরাব ফিরে আয় বাবা, ফিরে আয় সোনামানিক, কথা বল বাবা, বাবা বলে একবার ডাক। প্রতিধ্বনি ফিরে ফিরে বারবার বলছিল নেই সোহরাব নেই। দিবসের শেষ সূর্য যখন পর্বতের ওপারে ঢলে পড়ল, তখনো হতভাগ্য মহাবীর রোস্তম ছেলের প্রাণহীন দেহ বক্ষে ধারণ করে বারবার বলছে: আয় সোহরাব ফিরে আয়। মহাবীর রোস্তম বীর হিসেবে যুদ্ধে একবার জিতেছেন কিন্তু পিতা হিসেবে চিরতরে হেরে গেছেন। বাবা দিবস সম্পর্কে লিখতে গেলেই মনে পড়ে কলম জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ এর আত্মজীবনী মূলক গ্রন্থ “নিউইয়র্কের নীলকাশে ঝকঝকে রোদ” এ তিন ডাবলিউ প্রসঙ্গে স্যার লিখেছেন পরিবারের সবাইকে নিয়ে লসএনজেলস গিয়েছি। হোটেলে ওঠার সামর্থ্য নেই। বন্ধুর বাসায় উঠে রাতে ক্যাম্পিং করতে জঙ্গলে গিয়েছি গভীর রাতে দ্বিতীয়া মেয়ে ১২/১৩ বছরের শীলার ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। দেখি শীলা বসে আছে আর ফুঁপিয়ে কাঁদছে। আমি বললাম,মা কী হয়েছে? শীলা বলল, আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। আমি সারারাত তার পাশে থাকার কথা বলি, তখন শীলা একপর্যায়ে আমার কাঁধে মাথা রেখে নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাল। সকালে ঘুম ভাঙ্গলে শীলা বলে, বাবা তুমি একজন ভাল মানুষ। আমি বললাম “ মা!

পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, একজনও খারাপ বাবা নেই।” শুধু পারিবারিক ভাবেই নয় সামাজিক ভাবেও দেখেছি প্রতিবেশী বাবারা তাদের প্রিয় সন্তানদেরকে প্রতিদিন স্কুলে নিয়ে যেতে। বর্ষার দিনে গ্রামের আঁকাবাঁকা মেঠো পথে সন্তানদের কাঁধে, কোলে, পিঠে নিয়ে ছোট্ট-নালা, কাঁদাযুক্ত ময়লা পানিভরা রাস্তা পার হতে। হঠাৎ বৃষ্টি আসলে নিজ কাঁধে সন্তানদের বসিয়ে মাথার উপর দিয়ে ছাতা মেলে ধরতে যাতে বৃষ্টি নিজের গায়ে যত পড়–ক কিন্তু সন্তানের গায়ে একফোঁটাও পড়তে দিবে না । যদি কোন কারনে সন্তান ভিজে যায় পিতা সঙ্গে সঙ্গে নিজ গামছা বা অন্য কোন শুকনো কাপড় দিয়ে অতি যতœ সহকারে সন্তানদের গা মুছে দিতে দেয়। কোন কারনে অথবা ব্যস্ততায় কোনদিন তাদের বাবারা বিদ্যালয়ে , কোচিং বা প্রাইভেটে না এলে সন্তানেরা বাবার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। বাড়িতে তারা বাবার সাথে হাত ধরে গল্প করতে করতে ফিরে যাবে, কোনকিছু কিনে খাবে, বায়না ধরবে, মজা করবে আরও কত কি? আমার মনে হয় পৃথিবীতে শাসক হলেও বাবাদের হৃদয়টা কিছুটা নারকেলের মত, “উপরে শক্ত আর ভিতরে তুলতুলে নরম”।মোঘল সম্রাট শাহজাহান এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বস্তু হলো “পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ”। হৃদয়ের অকৃত্রিম বন্ধনে বদ্ধ বাবা এবং সন্তান। তাই সন্তানের চোখ দিয়ে পানি পড়লে বাবাদের চোখ দিয়ে রক্ত ঝরে। সন্তান অসুস্থ হলে বাবাদের হৃদয় পুড়ে যায়। কষ্ট পেলে মনে বা অন্তরে ঘা হয়, ব্যাথা পেলে বেদনার ছাপ তাদের চোখে মুখে আপ্লুত হয়। বাবাদের ভালবাসা বর্ষার নদীর উপচে পড়া ঢেউয়ের মত , ঝর্ণার ঝর ঝর ধারার মত , প্রকৃতির মায়বিনী রুপের মত, সকালের সোনাঝরা রোদের মত আর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের মত। সন্তান জন্মের পূর্ব থেকেই একবুক ভালবাসা আর সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যত কিভাবে গড়বে তার চিন্তায় সারাদিন মগ্ন থাকেন বাবা। কি খাবে? কোথায় পড়বে? কোন খেলনা পছন্দ করবে? কিভাবে আলোকিত মানুষ হবে? আরও অনেক কিছু?

বিয়ের দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর আমার এক বন্ধুর স্ত্রীর সন্তান হওয়ায় তার যে কি সীমাহীন আনন্দ, আমি নিজে তা দেখে লিখছি। সর্বদা তার কোলে রাখত তার ছেলেটিকে। তার কাছেই শুনেছি আমি দীর্ঘ প্রায় ২০বছর পর বাবা হয়েছি এই সন্তানের মাঝেই আমি চিরকাল বেঁচে থাকব। ও আমাকে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বাবা বলে ডেকেছে এবং ওই আমার বংশের ধারাকে রক্ষা করবে। ঈযরষফ রং ঃযব ঋধঃযবৎ ড়ভ ধ গধহ আজ আমরা (সন্তানেরা ) অনেক বড় হয়েছি আর আমাদের বাবারা হয়েছেন বৃদ্ধ । একটু পেছনে ফিরে তাকালেই স্মৃতির অ্যালবামে কিংবা ঘরের দেয়ালের ছবিতে দেখা যায় বাবা কোলে নিয়ে কিংবা আদর করে , চুমু দিয়ে সন্তানের সাথে বা পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন কালের স্বাক্ষী হিসেবে । ঐ স্মৃতির ছবির দিকে তাকালেই হৃদয়ের মানসপটে ভেসে আসে গ্রামীন ফোন নির্ভয় ফ্রি বীমার সেই অনিন্দ্যসুন্দর বিজ্ঞাপনটি। যার মধ্যে অনেক বাস্তব শিক্ষা আছে। বাবা এবং ছোট্ট সোনামণি মেয়েটি একটি ঘরে এসেই মেয়েটি দুটো চোখ বন্ধ করে সাত আট নয় দশ পর্যন্ত গণনা করে ।

এরই মধ্যে খেলার ছলে বাবা একটু আড়ালে (লুকোচুরি খেলা) চলে যায়। তখন ছোট্ট ঐ মায়াভরা মেয়েটি বাবা তুমি কই, তুমি কই বাবা বলে বাবাকে এদিক ওদিক খুঁজতে থাকে আর তখন মুখে হাসির পরিবর্তে আফসোস বা টেনশন বাড়তে থাকে। তখন তার দুচোখ বেয়ে মুক্তোর দানার মত একাধারে অশ্রু ঝরতে থাকে। কন্ঠে বাবাকে ফিরে পাবার আকুতি, হৃদয়ে প্রাণভরা মিনতি আর বিনীত আবেদন দুটো হাত দিয়ে বাবাকে স্পর্শ করার আবেগ, ব্যাকুলতা আর প্রাণভরা অস্থিরতা। একটু পরে বাবা আর সহ্য করতে না পেরে ফিরে এলেই মেয়েটি কান্না থামিয়ে বাবাকে বুকের মাঝে জাপটে ধরে। আবার হারিয়ে না যাবার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় এবং অঙ্গীকার আদায় করে। তখন বিবেক বলে উঠে “আপনি না থাকলে ওকে আগলে রাখবে কে?” মেয়েটি তখন তার নিরাপত্তা , আশ্রয় , ঠিকানা , ভরসা এবং সবকিছুই বাবার কাছে ফিরে পায়। আর বাবাও বাধ্য হয়ে ভালবাসার কাছে পরাজিত হয়ে প্রতিজ্ঞা করে আর কখনো এভাবে হারিয়ে যাবে না। আচ্ছা বাবা কি কখনো হারিয়ে যেতে পারে? সন্তানের বিপদে দূরে থাকতে পারে? সন্তানের অশ্রু দেখতে পারে? পারে না বলেই তো তিনি সন্তানের বাবা, মহীয়ান বাবা, মহান বাবা এবং আমাদের সকলের প্রাণপ্রিয় বাবা। বাবা দিবস আজ থেকে পৃথিবীর সর্বত্র সফল হোক সার্থক হোক এ প্রার্থনা করি । তবে পৃথিবীর সকল সন্তানেরা তাদের বাবাদের যথাসাধ্য বৃদ্ধবয়সে তাদের পরিবারের মধ্যে রেখে পরম যত্ম অসীম ভালবাসা সেবা ও শুশ্রুষা দিয়ে পিতার চোখের পানি মুছে দিয়ে সকল হতাশা আর হাহাকার ব্যাথা বেদনা কষ্ট যেন চিরতরে ভুলিয়ে দিতে পারে এবং স্মৃতির মণিকোঠা থেকে চিরতরে হারিয়ে ফেলতে পারে? ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভূবণ বিখ্যাত কণ্ঠ শিল্পী নচিকেতার অমর আকুতি, বেদনা, মিনতি ও আক্ষেপ ভরা ঐ কালজয়ী গানটি(চষবধংব গানটি শুনবেন) যেই গানটি কম্পিউটারে লিখতে গেলে হাত দুটো কাঁপতে থাকে এবং আঙ্গুলের মাথা গুলো কীবোর্ডকে বলে ওহ! দুঃখিত আর টাইপ করতে বা লিখতে পারছি না “ ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার। মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী। সবচাইতে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি। ছেলের আমার – আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম – আমারে ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম………………………………………………………………………….”।

Untitled-1-copy111লেখকঃ শিক্ষক, বিরল, দিনাজপুর।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: